মিতু হত্যা: ‘সঠিক’ তদন্ত চান বাবুল আক্তার

স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় শ্বশুরের সন্দেহের তীরের মুখে থাকলেও একবছর আগে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ‘সঠিক’ তদন্ত চেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।  

মিন্টু চৌধুরী চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 June 2017, 12:38 PM
Updated : 4 June 2017, 12:44 PM

স্ত্রীরমৃত্যুর এক বছরের মাথায় এ চাওয়ার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন জঙ্গিসহগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক সময়ের আলোচিত পুলিশকর্মকর্তা বাবুল; যিনি স্ত্রী হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদীও। 

বর্তমানেঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচালক বাবুল আক্তারের কাছে টেলিফোনে জানতে চাওয়া হয়েছিলআলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে।

তিনি বলেন,“তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদন্ত চলাকালীন কোনো মন্তব্য করাও ঠিক না। কতটুকু কীহয়েছে, তা তদন্ত কর্মকর্তাই (আইও) ভালো বলতে পারবেন।”

গত বছরের ৫জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসারঅদূরে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাবুলের স্ত্রী মিতুকে। সে সময় পুলিশসুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঢাকায় ছিলেন বাবুল।

এর আগেচট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। 

হত্যাকাণ্ডেরপরদিন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বাবুল। এর বাইরে পুলিশ বাদী হয়েঅস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে।

অস্ত্রআইনের মামলাটি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকলেও কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াহত্যা মামলায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর লাশ হত‌্যাকাণ্ডস্থলে (ফাইল ছবি)

হত্যাকাণ্ডেরপরদিন পুলিশ নগরীর বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে।এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর পুলিশের সঙ্গে কথিতবন্দুযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দুইজন। 

গ্রেপ্তারদেরমধ্যে দুইজন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা নামেএকজনের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। মুছা একসময়ে বাবুল আক্তারের ‘সোর্স’ ছিলবলেও জানায় পুলিশ।

সেই মুছাএবং ‘হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া’ কালুর হদিস গত এক বছরেও মেলেনি।

বাবুলবলেন, “আইওর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তবে দ্রুত সময়ে সঠিক তদন্ত হোক এটাই চাইব।”

স্ত্রীহত্যার পর থেকে ঢাকার রামপুরা বনশ্রীতে শ্বশুরবাড়িতে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকতেশুরু করেন বাবুল। ওই সময়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকরা হলে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের চাকরি থেকে বাবুলকে অব্যাহতিদিয়ে প্রজ্ঞাপন হয়। তাতে বলা হয়, বাবুল নিজেই চাকরি ছেড়েছেন।

বাবুলবেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই ছেলে-মেয়েকেনিয়ে আলাদা বাসায় ওঠেন।

বাবুল আক্তার

বনশ্রীতে থাকারসময়ে শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জামাতার পক্ষে থাকলেও ওই বাসাছাড়ার পর বাবুলের দিকে সন্দেহের আঙুল তোলেন তিনি।

তার দাবি, অন্যনারীর সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক ছিল এবং ওই নারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিতুহত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে।  

তবে বাবুলফেইসবুকে লিখেছেন, মিতু খুন হওয়ার পর তার মামাত বোনকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায়শ্বশুরবাড়ির লোকজন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এসবঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিডিয়ারমাধ্যমে অনেক কিছুই জেনেছি। তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছি সঠিকভাবে তদন্ত হোক।”

শোক কাটিয়ে উঠেতে পারেনি শিশু দুটি

বাবুলজানান, তার সন্তানরা এখনও মাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

স্ত্রী মিতুর সঙ্গে বাবুল আক্তার

ঢাকার একটিস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেটি এখনও মাকে হারানোর শোক পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতেপারেনি বলে জানান তিনি। এক বছর আগে তার সামনেই মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করাহয়।

বাবুল বলেন,“আমরা কঠিন সময় পার করছি। পারিবারিক জীবন খুব মিস করি। মা ছাড়া বাচ্চাদের মেইনটেইনকরা অনেক কঠিন। আমার ছেলে এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না।”

ছেলেকে স্বাভাবিককরতে ১৫ দিন পরপর কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া নার্সারিতে পড়ামেয়েকে মা ছাড়া সহজ করানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক