Published : 27 Oct 2022, 08:25 PM
“একটা শিশুর সাথে কেন এমন করল? আমার বোনের জানটা সে কেমনে নিল? একটা ৭ বছরের বাচ্চা...” কান্নায় কথা শেষ করতে পারলেন না সালেহা আক্তার রুবি। ছোট বোনের লাশ দেখে তার আহাজারিতে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল।
চট্টগ্রাম নগরীতে তিন দিন আগে চিপস কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল মারজান হক বর্ষা নামে সাত বছরের শিশুটি। বৃহস্পতিবার জামালখানের শিকদার হোটেলের পাশের গলিতে বড় নালা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্ষা ওই এলাকাতেই থাকত পরিবারের সঙ্গে। তার বাবা আব্দুল হক, মা ঝর্ণা বেগম। তাদের ছয় মেয়ের মধ্যে সবার ছোট বর্ষা।
সোমবার বিকালে শিকদার হোটেলের পাশের গলির শাওন ভবনের নিচতলায় নিজেদের বাসা থেকে বেরিয়েছিল বর্ষা। এরপর থেকে আর তার খোঁজ না পেয়ে কোতোয়ালি থানায় মঙ্গলবার সাধারণ ডায়েরি করেছিল পরিবার।
বৃহস্পতিবার বিকালে নালায় বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশটি নালা থেকে তুলে আনে।
বর্ষার বড় বোন রুবি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিন (সোমবার) বিকেলে মা বাসায় ছিল। বর্ষা মার কাছ থেকে ১০ টাকা নেয়, চিপস খাবে বলে। বের হওয়ার ৪০ মিনিট পরও বাসায় না ফিরলে মা বের হয়ে খুঁজতে থাকে। না পেয়ে আমাদের ফোন করে।
“এরপর আমরা অফিস থেকে আসি। পরে এলাকায় মাইকিং করি। তারপর আশেপাশের এলাকায় যাই। তখন রাত ১০টা। কিন্তু আর খুঁজে পাইনি।”
কান্নায় ভেঙে পড়ে রুবি বলেন, “আমার বোন সবার সাথে মিশত, খেলত। ও খুব চঞ্চল। আমাদের গলির ভিতর বাচ্চাদের সাথে খেলত। কে (খুন) করল তাকে আমরা দেখতে চাই। খুনির ফাঁসি চাই “

বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষারা যে তিনতলা ভবনের বাসিন্দা তার পেছনের এলাকার বড় নালাটি। ওই নালার বিপরীত দিকের গলিতে বস্তাবন্দি লাশটি তুলে রাখা হয়েছে।
বর্ষাদের বাসা যে গলিতে, সেখানে তাদের ভবনের আশেপাশে তিনটি পরিত্যক্ত ভবন আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই গলিতে এক তরুণকে মাঝে মাঝে দেখা যেত। সে শিশুদের চকলেট, চিপস এসব খেতে দিত।
লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে আসা স্থানীয় কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন সাংবাদিকদের বলেন, “বর্ষা নিখোঁজ হওয়ার দিন ওর তিন বোনই আমার কাছে আসে। তখনই আমি কোতোয়ালি থানার ওসির সাথে কথা বলি ফোনে।
“পরদিন তারা থানায় জিডি করেছিল। যে এসআইকে দায়িত্ব দেয়া হয় উনার সাথে আমি গতকাল এবং আজও যোগাযোগ করেছি। স্থানীয়রা যে একটি ছেলের কথা বলছেন, সেটিও আমি পুলিশকে জানিয়েছি। এরমধ্যে আজ বিকালে লাশ পাওয়া গেল।”
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা মেয়েটির সন্ধান করছিলাম। আজ লাশ পাওয়া গেছে। সিআইডি এবং পিবিআইর সহযোগিতা আমরা নিচ্ছি। আশেপাশের যতটুকু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে সব আমরা সংগ্রহ করেছি।”
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নোবেল চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এখন কিভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে সিআইডির ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করবে। তারপর ময়নাতদন্ত করবে।”
হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান নোবেল চাকমা।