১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ: আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দুদক বলছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ করবর্ষ পর্যন্ত মাছ চাষ থেকে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন আ জ ম নাছির; তবে অনুসন্ধানে ওই আয়ের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 08:35 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে’ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন মঙ্গলবার মামলাটি করেন।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

অনুসন্ধানে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে মামলায়।

দুদক বলছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছিরের ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থাবর এবং ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল।

একই সময়ে তার দায়-দেনার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকা। দায়-দেনা বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা।

এ সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তিনি ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয় করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ফলে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।

একই সময়ে তার ‘গ্রহণযোগ্য’ আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা। এ হিসাবে তার ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকা।

মাছ চাষের আয় নিয়ে প্রশ্ন

মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ করবর্ষ পর্যন্ত মাছ চাষ থেকে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন আ জ ম নাছির। তবে অনুসন্ধানে ওই আয়ের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী সাঈদ মো. ইমরান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাছ চাষের বিষয়ে আ জ ম নাছির যেসব প্রমাণ ও নথিপত্র দিয়েছেন, সেখানে যাদের কাছ থেকে পুকুর লিজ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাদের কয়েকজন সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের কোনো পুকুর নেই এবং এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিও হয়নি।

এ ছাড়া একটি চুক্তিপত্রে এমন একজনের নাম দেখানো হয়েছে, যিনি ওই চুক্তি সম্পাদনের আগেই মারা গিয়েছিলেন বলে দুদকের ভাষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই আ জ ম নাছির আত্মগোপনে আছেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলার কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানাও জারি হয়েছে।