বঙ্গবন্ধু টানেল: প্রস্তুতি সভায় নানা উদ্বেগ

দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 06:14 AM
Updated : 7 Feb 2024, 06:14 AM

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল উদ্বোধনের আগে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ না হওয়ায় নানা উদ্বেগ উঠে এসেছে।

টানেল উদ্বোধনের আগে আনোয়ারা প্রান্তে কক্সবাজারমুখী সড়ক সম্প্রসারণ, পতেঙ্গা গোল চত্বরে সড়ক ব্যবস্থাপনাসহ বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করার তাগাদাও এসেছে এই সভায়।

আগামী ২৮ অক্টোবর উদ্বোধনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মত প্রকাশ করেন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা।

সভার প্রধান অতিথি সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, “আনোয়ারা অংশে চাতরী থেকে শিকলবাহা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শেষ না হলে মানুষ কষ্ট পাবে।”

উদ্বোধনের পরদিন থেকে প্রচুর গাড়ি আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রচুর ট্রাফিক ম্যানেজ করার প্রস্তুতি রাখতে হবে। মানুষ যেন কষ্ট না পায়।”

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন জানান, দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ। আনোয়ারা প্রান্তে মোট ১১ কিলোমিটার চার লেন প্রস্তুত আছে। শিকলবাহা পর্যন্ত ছয় লেন কয়েক মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ের আশঙ্কা, টানেলটি উদ্বোধনের পর পতেঙ্গা গোল চত্বর এলাকা গাড়ির চাপ নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, “আন্ডারপাস ওভারপাসসহ স্ট্রাকচার পর্যাপ্ত না হলে গাড়ি ফ্লো স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে। আউটার রিং রোডের দুই পাশে টার্মিনাল। সেখান থেকে গাড়ি সরাসরি মূল সড়কে উঠছে। অ্যাপ্রোচ রোড তাদের নেই। সেসব গাড়িও গোল চত্বরে চলে যাবে। প্রচুর স্ট্রাকচারাল চেঞ্জ দরকার।” 

সিএমপির পুলিশের উপ-কমিশনার দ্রুত ফায়ার স্টেশন এবং গাড়ি বিকল হলে সেগুলো রাখার জন্য টানেলের দু প্রান্তে যে ফাঁকা জায়গা নির্ধারণের তাগিদ দেন।

সড়কের পাশে অবৈধ টার্মিনাল উচ্ছেদ করা হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, “জাংশান সল্যুশন হিসেবে নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। নভেম্বরে কার্যাদেশ দিতে পারব। প্রকল্প শেষ কমপক্ষে ২ বছর লাগবে।”

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “সিভিল কাজ শেষ। ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কাজ চলছে। এটা চ্যালেঞ্জিং। তবে এ মাসের শেষে সেটা করা হবে।”

সেতু সচিব মো মনজুর হোসেন বলেন, “পুলিশ ক্যাম্পের জন্য জমি রাখা হয়েছে। গাড়িতে ওজন বেশি থাকলে অফলোড করবে। পরে আমরা সেসব পণ্য অকশন দিয়ে দেই। টানেলের জন্য প্রয়োজনীয় রেসকিউ ভেহিক্যাল দিতে পারব।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)