Published : 22 Jun 2025, 10:32 PM
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের উৎস হালদা নদী থেকে দুটি মৃত মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার বিকালে উত্তর মাদার্শা রামদাসের মুন্সির হাট সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় মাছ দুটি পাওয়া যায়।
উদ্ধার হওয়া কাতলা মাছ দুটির ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজির মধ্যে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
রাউজান উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকতা মো. আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাছ দুটির মধ্যে একটি মা মাছ। সেটি পুরোপুরি ডিম ছেড়েছে। অন্য মাছটি পুরুষ মাছ। মাছ দুটি উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ সেন্টারের ল্যাবে নেওয়া হয়েছে।”
মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে এ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, “দূষণের কারণে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা একটি কারণ হতে পারে। মাছ দুটির শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও কিছুটা আঘাতও দেখা গেছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বলা যাবে, কী কারণে মাছগুলো মারা গেছে।”
চলতি বছর ঈদুল আজহার দিন ও পরদিন হালদা নদীর ফটিকছড়ি অংশে তেরপালি খালে কোরবানির পশুর চামড়া ও বর্জ্য ফেলার প্রমাণ পায় স্থানীয় প্রশাসন।
এছাড়া হালদা নদীর সঙ্গে যুক্ত কাঠালিয়া খাল দিয়ে ট্যানারির ময়লা পানি নদীতে পড়ায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন।
এর আগে গত ৫ মে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকায় ৫ কেজি ওজনের একটি মৃত কাতাল মাছ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। মাছটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকা থেকে আরেকটি মা মাছ উদ্ধার করা হয়। ৫ কেজি ওজনের মৃগেল মাছটির পেট ছিল ডিমে ভর্তি। এটির শরীরেও আছে আঘাতের চিহ্ন।
গত ৩০ মে হালদায় ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ। সেদিন হালদা তীরের প্রায় সাড়ে পাঁচশ ডিম সংগ্রহকারী ২৫০টি নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ করেছিল।
মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নৌ পুলিশ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি যৌথভাবে ডিম সংগ্রহের তথ্য নিয়ে জানায় এবার প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।
হালদা নদীতে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত) বজ্রসহ বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ার ও ভাটার সময়ে নিষিক্ত ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ।
নদীতে রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের ছাড়া সেই নিষিক্ত ডিম বিশেষ ধরনের জাল দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। পরে হ্যাচারিতে তা থেকে রেণু পোনার জন্ম হয়।
হালদা যেখানে কর্ণফুলীর সঙ্গে মিশেছে, সেই কালুরঘাট সেতুর কাছের অংশ থেকে উজানে মদুনাঘাট হয়ে নাজিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশে নদীর দুই তীরে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি এই তিন উপজেলা।
মদুনাঘাট থেকে সমিতির হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে হাটাহাজারী ও রাউজান উপজেলা সংলগ্ন অংশেই মেলে নিষিক্ত ডিম। এই অংশেই মা মাছের আনাগোনা বেশি।