Published : 18 Oct 2025, 08:37 PM
ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) সম্মিলিতভাবে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব দিলে তা অনুমোদনের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
শনিবার চট্টগ্রামের হালিশহরে মমতার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির উদ্যোগে আয়োজিত সভায় রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও চাঁদপুর অঞ্চলের এমএফআই এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় এমআরএ এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) ডিজিটাল ব্যাংক করতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ৫-৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এসেছিলেন। বাংলাদেশের এই সেক্টর এখন ডিজিটাল করতে হবে। করতে গেলে প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডিভাইস যদি ডিজাইন করতে হয় তাহলে অনেক ব্যয়সাধ্য।
“সেক্ষেত্রে একটা ডিজিটাল ব্যাংক যদি থাকে আর সেই ব্যাংকে যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচার যদি থাকে তাহলে এই ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন এমএফআই তারা এটা ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে যারা আছেন, তারা একটা নমিনাল ফি দিয়ে ডিজিটাল সার্ভিসের যে মেকানিকজম থাকবে সেটার সুবিধা নিতে পারবে।”
তিনি বলেন, “এমএফআই এই ব্যাংক ওঅন করবে। যারা এমএমআই এর সারপ্লাস থেকে ব্যাংক করবে তারা সঞ্চয় কালেক্ট করবে, নিজেরা ব্যবহার করবে এবং অন্য যারা আছে তাদের ঋণ দেবে। একটা এমএফআই অন্য একটা এমএফআইকে যেভাবে চেনে, ব্যাংক তাদের সেভাবে চিনে না।
“এমএফআই এর যে ব্যাংক তারা এই সঞ্চয় থেকে ঋণ দিতে পারবে ছোট ও মাঝারি যাদের তাদের মধ্যে। আমি বললাম যে, আপনারা ৫-৬ জন আসছেন। আরো দেখেন সেক্টরের কারা কারা থাকতে চায়। সবাই মিলে যদি আমাকে একটা কম্প্রিহেনসিভ প্রপোজাল দেন। সেখান থেকে রিসার্চ উইং এর মাধ্যমে আরেকটু প্রফেশনাল করব।”
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “উনাদের বলেছি, গর্ভনর সাহেবকে বলব যে, এই একটা ব্যাংক আপনি আমাকে দেবেন। আবেদন করার আগেই আমি নিশ্চিত করব যে এই ব্যাংকটা এমএফআই সেক্টরকে দেবে। তবে আমি অ্যাপ্লাই করব। আপনারা ওয়ার্ক করে আমার কাছে কনসেপ্ট পাঠান।
“যখন ৫-৬ জন গেছে, তখন অন্যরা ভাবছে তারাও গ্রুপে গ্রুপে কয়েকজন মিলে করবে। এটা তো মুশকিল। এখান থেকে এত ব্যাংক তো বাংলাদেশ ব্যাংক দিবে না। তাই টপ থার্টিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মিটিং এ তারা থাকবে। যদি এটা হয় তাহলে এটা আমরা সহজে দিতে পারি। আপনারাও বলেছেন ব্যাংক থেকে টাকা আনতে গেলে সমস্যা হয়।”
স্বতন্ত্র পরিচালকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি
এমএফআই এর পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান।
হেলাল উদ্দিন বলেন, “কোনো একটা বিষয়ে যদি রেগুলেটরি চেঞ্জ হয়ে থাকে তাহলে উনারা তো আগে আমাদের কাছে জানতে চাইতে পারতেন। আপনারা যে স্বতন্ত্র পরিচালক চান না, এই মেসেজটা আমি বোর্ডে নিয়ে যাব। বোর্ডে তো সবাই আছেন। কত পত্রিকায় কত রিপোর্ট হয়। আগে তো জানবেন, কি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“পত্রিকায় তো ক্যাটাগরিকালি লেখা আছে, এমএফআইগুলো চারটা (চারজনের নাম) প্রস্তাব দিবে সেখান থেকে দুইটাকে আমরা ক্লিয়ার করে দেব। যদি এতে যোগ্য না পাই আরো চারটা আমরা দিতে বলব। প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বসে নিয়মকানুন সেট করব।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যেখানে এখনো নিয়মই সেট করা হয়নি সেখানে ১০ হাজার টাকা দেওয়া, সরকারের লোকদের বসানো, ৫০ হাজার টাকা মাসে দেয়া কোত্থকে আসলো এগুলো? আপনাদের সেক্টর থেকে কোন একটা গোষ্ঠী রিপোর্টটা করিয়েছে। কেন আমি জানি। যাদের আপনানা প্রাণভোমরা বলেন, তারা সেখানে কথা বলেছেন। আর কি কেউ ছিল না কথা বলার?
“আমি যদি আজকে বলি এই সেক্টরের টপ টোয়েন্টির মধ্যে ১০ লাখ, ১৫ লাখ, ২৫ লাখ টাকা নেয় বেতনভাতাদি। আপনাদের ইজ্জত থাকবে? ফ্যাক্ট এটা। প্রান্তিক মানুষের জন্য আপনারা কাজ করেন। অথচ অনেকে সারভাইভ করার জন্য কষ্ট করছে। কিন্তু কেউ কেউ এরকম বেতনভাতা নিচ্ছে।”
হেলাল উদ্দিন বলেন, “এগুলো যদি আগে হাত দিয়ে পলিসি চেঞ্জ করতাম কারো কিছু বলার থাকত? অভিভাবক হয়ে যদি সেক্টরের ইমেজ নষ্ট করে কিছু করতে চাই সেটা ঠিক না।
“অনেকে বলছেন, ব্যাংক সেক্টর স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে ধংস হয়ে গেছে। এই মিথ্যাচার কেন করছেন। এস আলম বা ইউসিবি কি স্পন্সর পরিচালক ছিল না স্বতন্ত্র পরিচালক ছিল? স্বতন্ত্র পরিচালকরা তাদের পকেটের লোক ছিল, তারা হুইসেল ব্লো করে নাই।”
ব্যাংকের সঙ্গে এমএফআই সেক্টরের কোনো সম্পর্ক নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত বোর্ডে এটাই হয়েছে চারজন দেবে। সেখান থেকে আমরা ঠিক করব। শর্ত পূরণ না করলে তখন হয়ত আমরা ইম্পোস করতে পারি।
“কেন আমরা এদিকে যাচ্ছি? অনেকগুলো বোর্ড দেখেছি। একজন বিদেশে থাকেন চার লাখ টাকা বেতন পায়। অনেকের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা যায়। হুমকি দেয়া হয়েছে কি রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াব। প্রশ্ন করতে পারেন, ক্ষুদ্রঋণের বোর্ডে বসে দুইজন কী করবে? অন্তত আমরা জানব কী হচ্ছে। সেক্টর থেকে উপদেষ্টা মহোদয়কে বলেছেন, যে স্বতন্ত্র পরিচালক ভালো হবে না। অথচ কোন সিদ্ধান্তই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।”
তিনি বলেন, “আমার কাছে যে তথ্য আছে সেটার ১ শতাংশ যদি রিলিজ করি। একটা ব্যাংকের চেয়ারম্যান কি আরেকটা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে পারবেন? কিন্তু এখানে এক জায়গার ইডি আরেক জায়গার চেয়ারম্যান। আছে তো। কত শতাংশ সেটা তো মানুষ জানবে না। স্বতন্ত্র পরিচালক শুধু যাতে একটু ব্যালেন্স হয়।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মমতার প্রধান নির্বাহী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক রফিক আহামদ।
এমআরএ অথরিটির পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেনন এমআরএ এর নির্বাহী পরিচালক মো. নূরে আলম মেহেদী।
ক্ষুদ্রঋণ খাতের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন এমআরএ এর পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।