১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মারধর করে পুলিশে দেওয়া তিতুমীর ছাত্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে

“ছাত্রলীগ সন্দেহে ছাত্রদল আমাকে আটক করে প্রচণ্ড মারধর করে,” আদালতে সাংবাদিকদের বলেন নাজিম।

মারধর করে পুলিশে দেওয়া তিতুমীর ছাত্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে
আদালতে তিতুমীর ছাত্র নাজিম উদ দৌলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2026, 07:30 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:30 PM

তিতুমীর কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা শেষে মারধর করে পুলিশে দেওয়া নাজিম উদ দৌলাকে বনানী থানার সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে এ আদেশ দেন। নাজিমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য দিয়েছেন।

স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ২৫ বছরের নাজিম কুড়িগ্রামের রৌমারীর জাদু চর গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। গাজীপুরের বাসন থানার টেকনোপাড়া এলাকায় থাকেন।

বৃহস্পতিবার তার ইনকোর্স পরীক্ষা শেষে তাকে মারধরের করে পুলিশে সোপর্দ করে একদল ছাত্র। এরপর বনানী থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হল।

তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই কামাল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনে বলেন, তিতুমীর কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে ছাত্ররা আসামিকে আটক করে। এসময় ছাত্রদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন নাজিম। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নাজিমের পক্ষে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিন আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে আদেশ দেন।

আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় নাজিম উদ দৌলাকে মব করে মেরে একদল সন্ত্রাসী তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তিনি কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

“সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। তার পক্ষে জামিন প্রার্থনা করি।”

শুনানিকালে নাজিমকে এজলাসে তোলা হয়। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের নাজিম বলেন, “ছাত্রলীগ সন্দেহ করে ছাত্রদল আমাকে আটক করে। প্রচণ্ড মারধর করে। অন্ডকোষে প্রচণ্ড আঘাত করে। এরপর পুলিশের কাছে তুলে দেয়।”

মামলার অভিযোগ বলা হয়, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বনানী ১১ নম্বর ও ৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার করে ও নাশকতার উদ্দেশ্যে মিছিল করে। সেখানে তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বনানী থানায় মামলা করেন।

‘সন্ধিগ্ধ আসামি’ হিসেবে তাকে বনানী থানার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।