২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

তাপদাহের মধ্যে পানি-বিদ্যুতের সংকট, ভোগান্তি চট্টগ্রামে

গরমে পানি-বিদ্যুৎ দুটির চাহিদা বাড়লেও তার জোগান মিলছে না।

তাপদাহের মধ্যে পানি-বিদ্যুতের সংকট, ভোগান্তি চট্টগ্রামে

চলমান তাপদাহের মধ্যে প্রশান্তি পেতে পানি দিয়ে মাথা ভিজিয়ে নিচ্ছেন একজন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Apr 2023, 07:36 PM

Updated : 16 Apr 2023, 07:36 PM

তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পানি-বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামে। এতে রোজার মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে চট্টগ্রামবাসী।

গরমে পানি-বিদ্যুৎ দুটির চাহিদা বাড়লেও তার জোগান দিতে পারছে না সেবাদানকারী দুই সংস্থা ওয়াসা ও পিডিবি।

গত কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নগরতে পানি-বিদ্যুতের সংকটও বেড়েছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরবাসীর চাহিদামতো পানি তারা উৎপাদন করতে পারছে না। যার কারণে এলাকাভেদে ‘রেশনিং’ করে পানি সরবরাহ করছে তারা।

বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে জানিয়েছেন ওয়াসা কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি আছে তাদের। যে কারণে বিভিন্ন স্থানে লোড শেডিং হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গত দুই দিনে লোড শেডিং বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চার বার করে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া দেখতে হচ্ছে নগরবাসীকে। উপজেলাগুলোতে লোড শেডিং আরও বেশি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, যে কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটেছে।

“তার উপর চট্টগ্রামে সাধারণত ১১শ মেগাওয়াট চাহিদা থাকে। সেখান থেকে আমরা গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় শেডিং হচ্ছে।”

তীব্র গরমের কারণে পানির চাহিদা বাড়লেও বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা রেশনিং করে সব এলাকায় পানি সরবরাহের চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নগরীতে যেখানে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকে সেখানে তারা উৎপাদন করতে পারছে ৩৫ কোটি লিটার।

পানি সংকটের কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, নদীর পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্যাওলা জন্মেছে।

“পুকুরের পানিতে যে ধরনের শ্যাওলা জন্মায়, এবছর নদীর পানিতেও একই ধরনের শ্যাওলা জন্মেছে। সে কারণে আমাদের ফিল্টার মেশিনে ময়লা ধরে যাচ্ছে। সেটা আবার পরিষ্কার করতে হচ্ছে। যার কারণে প্রতিদিনই ১০-১৫ কোটি লিটার পানির অপচয় হচ্ছে।”

মাকসুদুল বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ায় আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টা পানি যেত, সেসব এলাকায় রেশনিং করে পানি দিতে হচ্ছে। যাতে সবাই পানি পায়।”

বৃষ্টি না হওয়ায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ‘কেমিকেল ট্রিটমেন্ট’ পদ্ধতিতে পানির উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় তারা সফল হলে পানির ঘাটতি কমানো সম্ভবপর হবে।