Published : 04 May 2026, 04:58 PM
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আইনজীবীদের একাংশ।
সমিতির আসন্ন নির্বিচনের মনোনয়ন ফরম গ্রহণ ও দাখিলের জন্য সোমবার বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত আছে।
বিকেল তিনটা ৫ মিনিটের দিকে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি আইনজীবীদের একাংশ 'সাধারণ আইনজীবী ফোরাম' নামে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য সমিতির লাইব্রেরির সামনে যান। তবে তারা লাইব্রেরি রুমে প্রবেশ করতে পারেননি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের গতবারের মত ফরম নিতে দেওয়া হচ্ছে না।"
‘সাধারণ আইনজীবী ফোরামের’ সভাপতি পদপ্রার্থী সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নির্ধারিত সময়ে এসেও আমরা ফরম নিতে লাইব্ররি মিলনায়তনে ঢুকতে পারিনি। অথচ আগে থেকে একটি পক্ষ ভিতরে ছিল। তারা ফরমও নিয়েছে।
"আমি এখনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ফোন করছি। তিনি ফোন ধরছেন না।"
এ সময় ‘সাধারণ আইনজীবী ফোরামের’ আইনজীবীরা লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে 'ভোট চোর, ভোট চোর', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা', 'তুমি কে আমি কে, আইনজীবী আইনজীবী', 'ভুয়া ভুয়া'–এমন সব স্লোগান দিতে থাকেন।
এবার সমিতির নির্বাচনে ৫ মে বাছাই, ৮ মে প্রত্যাহার ও ৯ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ২১ মে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য আছে।
ফরম গ্রহণে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ২১টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের সবাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদ পেয়েছিলেন বিএনপিপন্থি দুই আইনজীবী। সেবার মোট ১৪টি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
আর একটি সহ-সভাপতি পদ ও দুটি সম্পাদকীয় পদসহ মোট সাতটি পদ পেয়েছিলেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।
গত বছরও সমিতির নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা ও সংগ্রহের দিন বিএনপি-জামায়াতপন্থি ছাড়া অন্যদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি।
গতবারও নির্ধারিত সময়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু ফরম নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগ ও বাম ঘরানার আইনজীবীরা।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, সমিতির পদগুলো নিজেদের মধ্যে ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ করে নিতে নজিরবিহীন ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল গত বছর।
জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গত বছরই প্রথমবারে মত কোনো পদে দ্বিতীয় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সমিতির কোন পদে ভোট হয়নি।