Published : 28 Dec 2025, 06:08 PM
বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আলোচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।
রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত এ চেয়ারম্যান।
পরে লেয়াকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আগামীকাল (সোমবার) পদত্যাগপত্রের রিসিভ কপিসহ মনোনয়নপত্র জমা দেব।”
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী উপজেলা) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলটির দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে। তিনি সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। জাফরুল ইসলাম ১৯৯৬ (দুই নির্বাচন), ২০০১ ও ২০০৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন চট্টগ্রাম-১৫ (বাঁশখালী উপজেলা) আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।
পাপ্পাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও আলোচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী। গত ২১ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন।
পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে লেয়াকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার প্রথম প্রায়োরিটি বাঁশখালীর জনগণ; এরপর দল।
“আমি গত ২২ নভেম্বর জনসভা করেছিলাম। সেখানে বাঁশখালীর লাখ লাখ মানুষ আমাকে নির্বাচন করার আদেশ দিয়েছেন। আমি আদেশ অমান্য করতে পারি না।”
বাঁশখালীর জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দল ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দলের সিদ্ধান্ত কোরআন-হাদিস না।
“কিন্তু আমি তো বাঁশখালীর জনগণের আদেশ অমান্য করতে পারি না”
লেয়াকত আলী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি তিন দফায় বাঁশখালী উপজেলার ৯ নম্বর গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন।
২০১৬ সালে গন্ডামারায় এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে স্থানীয়দের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় আসেন লেয়াকত।
ওই বছরের ৪ এপ্রিল গন্ডামারা ইউনিয়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।
আন্দোলনকারী বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন লেয়াকত আলী। ওই বছরের ১৬ মে লেয়াকতের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। পরে তিনি গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
বিএনপির দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে লেয়াকত বলেন, “দলে আমার কোনো পদ নেই। দক্ষিণ জেলায় যে যুগ্ম আহ্বায়ক আছে, তিনি কোথাকার কোন লিয়াকত হোসেন…
“আমি তো লেয়াকত আলী। আমি ২০০৯ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম।”