Published : 10 Aug 2025, 03:09 PM
চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘এস আলম মুক্ত’ ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীদের আন্দোলনের মুখে রোববার ৪ ঘণ্টার বেশি সময় সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রোববার সকাল থেকে উপজেলার সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা।
পটিয়ার ইউএনও ফারহানুর রহমান বেলা পৌনে ২টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের চাকুরিচ্যুতরা সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছিল; যার কারণে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা প্রবেশ করতে পারেননি।
“পুলিশ প্রশাসনসহ আমরা সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেছি এবং বেলা ১টার দিকে প্রথমে সোনালী ব্যাংক এবং পর্যায়ক্রমে সবগুলো ব্যাংকের সামনে থেকে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। এখন সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান আছে।”

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হয়।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, গত বছরের ৫ অগাস্টের পর এস আলমের মালিকানায় থাকা ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা নোটিসে ‘চট্টগ্রাম ট্যাগ’ দিয়ে সাত হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মী আশরাফ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম থেকে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী চট্টগ্রামের জনগণের সাথে বৈষম্য করে চট্টগ্রামবাসীকে চাকরিচ্যুত করেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা নিয়মনীতি মেনে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার পতনের পর দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংকে থেকে চট্টগ্রামের লোকজনকে ‘পটিয়াবাসী ট্যাগ’ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। পটিয়ার বাইরে লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই উপজেলার বাসিন্দাদেরও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”
আশরাফ বলেন, অনেকেই চাকরির শেষ বয়সে এসে ব্যাংকে নিয়োগ পান। কিন্তু চাকরিচ্যুত হওয়ায় এখন আর কোথাও আবেদনের সুযোগ নেই। ফলে মানবেতর জীবন পার করছে অনেকেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে বিভিন্ন ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা পটিয়া স্কুল মাঠে এসে জড়ো হতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে সেখান থেকে তারা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্যালয় ও এটিএম বুথের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

অগ্রণী ব্যাংকের পটিয়া শাখার ব্যবস্থাপক আবু ইব্রাহীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ব্যাংকের ভেতরে ছিলেন। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেয়ায় গ্রাহকরা ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারেননি। যারা প্রবেশ করেছে, তাদের সেবা দেওয়া হয়েছে।”
বেলা ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ব্যাংক গেইটে অবস্থান করেন বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চাকরিচ্যুত লোকজন বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। তবে সড়কে কোনো সমস্যা হয়নি।
“তাদের আমরা বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। এখন ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।”
আরও পড়ুন
চাকরি ফেরতের দাবিতে 'এস আলম মুক্ত' তিন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ