Published : 24 Nov 2024, 08:21 PM
চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন ‘এস আলম মুক্ত’ তিন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।
রোববার সকালে কর্ণফুলী মইজ্জ্যার টেক এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের চাকরি হারানো কয়েকশ কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে তিন ব্যাংকের লোকজন মইজ্জ্যার টেক এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৯টার দিক থেকে তারা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করলে চট্টগ্রাম নগর থেকে থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী যানবাহনগুলো আটকা পড়ে।
তবে শহরমুখী একটা অংশ খোলা থাকায় এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে এ বিক্ষোভের কারণে শাহ আমনত সেতুর এক পাশ গাড়ি চলাচলে স্থবির হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এসময় সাধারণ লোকজন দুর্ভোগে পড়ে।
এসময় সড়কের পাশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের পট পরিবর্তনের পর ‘বিনা নোটিসে’ তাদেরকে ছাঁটাই করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬৭২ জন এবং ১৮ নভেম্বর ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৬৪ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এছাড়াও নিয়োগ পাওয়ার পরও ইসলামী ব্যাংকের ২৬০ জনকে চাকরিতে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।
এসআইবিএলে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন
এবার এস আলমের দখলমুক্ত এসআইবিএল
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত আশরাফ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা কেউ ‘অনৈতিকভাবে’ চাকরিতে প্রবেশ করিনি। আবেদন করে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ৩১ অক্টোবর আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
“বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই অমানবিক। বয়সসীমার শেষ দিকে এসে আমি চাকরি পেয়েছি। কিন্তু সাত মাস পর আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার মতো এমন আরও অনেকেই আছে যারা আর কোনো চাকরির আবেদন করতে পারবে না বয়সের কারণে।”

গিয়াস উদ্দিন নামের আরেকজন বলেন, “আমরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন করেছিলাম। গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সুরাহা করা হয়নি।”
গত ৫ অগাস্ট সরকারের পালাবদলের পর আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
পাশাপাশি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হয়।