Published : 21 Apr 2026, 11:37 PM
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতে অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও সংকট আছে ডিজেলের।
মঙ্গলবার বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে সহজেই অকটেন মিললেও কোথাও ডিজেলের র্দীঘ লাইন, আবার কোথাও ডিজেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
পাম্পগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, অকটেনের চাহিদা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কিন্তু ডিপো থেকে ডিজেল ‘কম পাওয়া এবং চাহিদা বাড়ার’ কারণে ডিজেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারের চাপ সামাল দিতে সোমবার থেকে অকটেনে ২০ শতাংশ এবং ডিজেল ও পেট্রোলে ১০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির বন্টণ ও পরিবীক্ষণ অধিশাখা থেকে জারি করা এ আদেশে বলা হয়, ডিজেলের দৈনিক বরাদ্দ ১৩ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন, অকটেন ১ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন এবং পেট্রোল ১ হাজার ৫৪৭ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। কোম্পানিভিত্তিক শেয়ারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির তথ্য বলছে, এ বছর এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ডিজেল বিক্রি ১১ হাজার ১০৭ টন। গত বছর এপ্রিলে গড়ে বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন। এ বছর প্রতিদিন ডিপো থেকে গড়ে অকটেন সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন। আগের বছর যা ছিল গড়ে ১ হাজার ১৮৫ টন। অপরদিকে গড়ে পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৩ টন। আগের বছরে এপ্রিলে দিনে গড়ে বিক্রি ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।
পাম্প কর্মকর্তাদের ধারণা, অকটেনের যে ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা কৃত্রিম। চালকদের ‘আতঙ্ক ও মজুদদারির’ কারণে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা কমতে শুরু করেছে।
কয়েকটি পাম্পের কর্মীরা বলছেন, অনেকেই গাড়িতে অকটেন কিনে নিয়ে তা ‘মজুদ‘ করে রাখা এবং একটি পাম্প থেকে সংগ্রহ করে আরেকটিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঘটনাও ঘটছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর গণি বেকারি মোড়ের কিউসি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেলের লম্বা লাইন দেখা যায়।
সেখানকার কর্মীরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়েও এ পাম্পে তেলের লাইন থাকে। তেলের সংকট সৃষ্টির পর তা বাড়লেও সোমবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করে, আজকে তা আরও কমেছে।
পাম্পটিতে অকটেন নিতে যাওয়া শিপন শীল নামে এক মোটরসাইকেল চালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে তেল নেওয়ার লাইন কম আছে। আধাঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে পারছি। কিন্তু গত সপ্তাহে সকাল সাড়ে ছয়টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। তেল নিতে পেরেছি সকাল সাড়ে ১০টার পর।”
বেলা সোয়া ১টার দিকে আনোয়ার হোসেন নামে এক প্রাইভেট কার চালক বলেন, “আজকে সাড়ে ১১টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন তেল নিতে পারছি। সপ্তাহ খানেক আগেও এটা কল্পনা করা যেত না।”
পাম্পের কর্মী মো. হারুন বলেন, “তেলের দাম বাড়ার পর থেকে চাপ কমতে শুরু করেছে। অকটেনে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ডিজেল কম থাকায় একটু চাপ বেশি। পর্যাপ্ত তেল থাকায় বিক্রিতে কোন সমস্যা হয়নি।”
চট্টগ্রাম মহানগরীর এ পাম্পটিতে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চালকরা এ পাম্পে আসেন তেল কিনতে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলেছে, মঙ্গলবার তারা ২৭ হাজার লিটার অকটেন পেলেও বিপরীতে ডিজেল পেয়েছেন নয় হাজার লিটার।
নগরীর প্রবর্ত্তক মোড়ের ‘ফয়েজ আহম্মদ সন্স’ নামে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে অকটেন নেওয়ার জন্য কয়েকটি প্রাইভেট কারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে মোটর সাইকেলের কোনো লাইন নেই।
তবে ডিজেল কেনার জন্য অনেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে ডিজেলচালিত বেশকিছু অটোরিকশাকে দাঁড়িয়ে দেখা যায়।
অটোচালকদের অভিযোগ, সবসময় তারা এই পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করলেও মঙ্গলবার তাদের ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বাইরে থেকে লোক এসে কন্টেইনারে করে ডিজেল নিয়ে যাচ্ছে।
আসাদুল ইসলাম নামে এক অটোচালক বলেন, “ষোলশহর থেকে চকবাজার পর্যন্ত রুটে অন্তত ১২০টি অটোরিকশা চলাচল করে। যেগুলোর সবগুলোই এ পাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে থাকে। আজকে আমাদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেলের অভাবে গাড়ি চালাতে পারছি না।”
পাম্পের ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “অকটেনের কোনো সংকট নেই। যে যা চাচ্ছে ততটুকু দিতে পারছি। কিন্তু ডিজেল দিতে হচ্ছে সমন্বয় করে। আমাদের যারা নিয়মিত গ্রাহক তারা যতটুকু চাহিদা দিচ্ছে তার অর্ধেক করে দিতে পারছি।”

সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন, এমন দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা গতকাল (সোমবার) যেসব গ্রাহককে টোকেন দিয়েছি, তাদের কাছে আজকে বিক্রি করছি।”
দুপুরে পাঁচলাইশ এলাকার হাজী ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানি নামে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে কোন ভিড় দেখা না গেলেও ফটকের গ্রিলে ‘ডিজেল বিক্রি বন্ধ’ ব্যানার টাঙানো দেখা যায়।
পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মোতালিব বলেন, “দাম বাড়ার পর থেকেই ভিড় কমে গেছে। যে যতটুকু অকটেন চাইছে তাদের ততটুকু দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলের চাহিদা এখন বেশি, সোমবার ডিজেল বিক্রি করেছি, কিন্তু না থাকায় আজ ডিজেল বিক্রি বন্ধ।”
সোমবার নয় হাজার লিটার করে অকটেন ও ডিজেল পেয়েছেন দাবি করেন তিনি বলেন, “ডিজেল একদিনেই বিক্রি হয়ে গেছে। যার কারণে আজকে বিক্রি বন্ধ। বুধবার ডিজেল আসলে তখন বিক্রি হবে।
কাতালগঞ্জ এলাকার খান অ্যান্ড ব্রাদার্সে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও লেখা ‘ডিজেল নেই’। তবে পাম্পটিতে গ্যাস ও অকটেন বিক্রি স্বাভাবিক আছে।
পাম্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের অকটেন পর্যাপ্ত আছে। আগে সাড়ে চার হাজার লিটার করে ডিজেল ও অকটেন পেলেও গতকাল নয় হাজার লিটার করে পেয়েছি।
“আকটেনের মজুদ থাকলেও সন্ধ্যা ৬টায় সব ডিজেল বিক্রি হয়ে গেছে। যার কারণে আজকে ডিজেল বিক্রি করা যাচ্ছে না। বুধবার ডিজেল আসলে বিক্রি করা হবে।”