Published : 04 Jan 2026, 01:18 AM
চট্টগ্রামের রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি বসত ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ‘শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টায়’ করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ।
রাঙামাটি কলেজ গেইট এলাকা থেকে শুক্রবার মো. মনির হোসেন নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলছে, শুক্রবার দুপুরে রাঙামাটি কলেজ গেট এলাকা থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনার মামলার প্রধান আসামি মো. মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বসতঘর তল্লাশি করে 'অ্যাংকর' ব্র্যান্ডের মটর ভূষির তিনটি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ব্যানারে থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার 'পূর্বশত্রুতা' রয়েছে।
"পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে মানুষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে একদিকে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, অপরদিকে শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে।"
পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে মনির প্রাথমিকভাবে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে বিভিন্ন ব্যক্তির বসতঘরে একাধিক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকে বিশেষ ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যা 'অ্যাংকর' ব্র্যান্ডের মটর ভূষি ও অন্যান্য ব্রান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ছিল।
“ব্যানারগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উস্কানিমূলক বক্তব্য, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও একাধিক মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল।“
পুলিশ বলছে, মনির হোসেন আগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় এবং পরে রাঙামাটির কলেজ গেট এলাকায় বসবাস করছেন।
তার বিরুদ্ধে রাঙামাটির লংগদু ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদকসহ মোট চারটি মামলা আছে। একটি চুরি মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গত ২৩ ডিসেম্বর ভোরে বাইরে থেকে দরজা আটকে একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে ভোর রাত সোয়া ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে। বাড়িটি কাতার প্রবাসী সুখ শীল নামের এক ব্যক্তির। সেখানে তার বোন ও বোন জামাই অনিল শীল থাকেন।
আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ির কাছ থেকে পুলিশ হাতে লেখা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ব্যানার জব্দ করে।
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর ভোর রাতে একইভাবে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়।
আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা আটকানো থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
দুটি বসতঘরই দরজার বাইরে থেকে কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। আর উঠানে কেরোসিন লাগানো কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এর আগে ১৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই দিনও উঠান থেকে কেরোসিন মিশ্রিত কাপড়, বিভিন্ন নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতনদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ২৬ ডিসেম্বর রাতে রাউজানের গহিরা বাজারে একটি কাপড়ের ভ্যানে আগুন দেওয়ার সময় কেরোসিনের বোতলসহ মো. মোরশেদুল আলম (৫৫) নামে একজনকে হাতেনাতে ধরা হয়।