১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কে এই ডেভিড ইমন?

এক বছরের মধ্যেই জোড়া খুনসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের শীর্ষে চলে আসে ইমনের নাম।

উত্তম সেন গুপ্ত

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 07:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

চব্বিশের পট পরিবর্তনের পর সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির মধ্য দিয়ে কুখ্যাতি পাওয়া চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। 

বুধবার ভোর রাতে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুরনো ছবিতে ইমনের গোঁফ দেখা গেলেও গ্রেপ্তারের সময় তার গোঁফ ছিল না।

অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টায় ইমন সহযোগীদের নিয়ে যশোর গিয়েছিলেন বলে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের ভাষ্য।  

ডেভিড ইমনের আসল নাম মোবারক হোসেন ইমন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। বাবার নাম মোহাম্মদ মুসা।

গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, পুরনো ছবিতে তার গোঁফ দেখা গেলেও গ্রেপ্তারের সময় গোঁফ ছিল না

গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, পুরনো ছবিতে তার গোঁফ দেখা গেলেও গ্রেপ্তারের সময় গোঁফ ছিল না

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ইমন বিদেশে পালিয়ে থাকা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। 

এক সময় তিনি রাউজান এলাকায় বালুর মহালে টাকা তুলতেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী রায়হানের হাত ধরে আলোচনায় আসেন। 

এক বছরের মধ্যেই জোড়া খুনসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের শীর্ষে চলে আসে ইমনের নাম।  

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, ইমন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে ধরার চেষ্টা করলেও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে তার নাম এলেও তাকে ধরতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে পুলিশকে।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করা কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের এক সময়ের সহযোগী ছিলেন ভারতে মারা পলাতক ম্যাক্সন এবং গত নভেম্বরে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসভায় খুন হওয়া সরোয়ার হোসেন বাবলা। 

কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের দুজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বড় সাজ্জাদের দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান। তাদের মধ্যে মূলত রায়হানই দলে টানেন ইমনকে। 

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইমন তার গুলি চালানোর দক্ষতা এবং সাহসের কারণে খুব কম সময়ে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। রায়হানের সহযোগী হিসেবে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের একটি অংশ পরিচালনা করছিলেন তিনি। 

গত কয়েক মাস ধরে সাজ্জাদের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাণকারীদের ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন ইমন।

গত ১৩ জুলাই তিনি বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবার কোম্পানির মালিককে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ওই কোম্পানির অফিসে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

এর আগে গত জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীরর বাসায় গুলির ঘটনাতেও ইমনের নাম আসে।

এছাড়া গত বছরের ৩০ মার্চ চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে খুন, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনার আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।

পুরনো খবর

'ভারতে যাওয়ার চেষ্টায়' ছিলেন ডেভিড ইমন, বলছে পুলিশ

চট্টগ্রামের 'সন্ত্রাসী' ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার

ডেভিড ইমনের 'নির্দেশেই' লোক ভাড়া করে ডিডিএনে হামলা হয়: র‌্যাব