Published : 04 Oct 2025, 01:59 PM
আট হাজার মিটার উচ্চতার আরেক শৃঙ্গ পাকিস্তানের নাঙ্গা পর্বতে আগামী বছর আরোহণ করতে চান বাবর আলী।
মানাসলু জয়ের পর দেশে ফিরে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন এ এভারেস্টজয়ী। তার সঙ্গে ছিলেন মানাসলু অভিযানের সঙ্গী তানভীর আহমেদ।
এক প্রশ্নের জবাবে বাবর আলী বলেন, “এ বছরে দুইটা আট হাজারি পর্বত হয়ে গেছে। সামনে পরিকল্পনা হচ্ছে—ধীরে ধীরে বাকি যে ১০টা আট হাজার মিটার বাকি রয়ে গেছে। আই লাইক টু মুভ টু পাকিস্তান।
“পাকিস্তানে পাঁচটা আট হাজার মিটার পর্বত আছে। এর মধ্যে আমার স্বপ্নের একটা হলো নাঙ্গা পর্বত। সামনে আমি নাঙ্গা পর্বতের দিকে যেতে চাই।”
মানাসলু অভিযানে কোনো বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাবর বলেন, “এবার মানাসলু, কঠিন প্রস্তুতি—সহজ অভিযান হয়ে গেছে আমার জন্য। আমরা পুরো যাত্রাটা উপভোগ করেছি। এটা আমি সবাইকে বলি, পর্বতে অনেকে যেতে চায়। সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে গেলে আপনি উপভোগ করবেন।
“আর না হলে আপনি লোকজনকে কষ্টের গল্প বলবেন। কষ্টটা যদি আনন্দটাকে ছাপিয়ে যায়, তাহলে আমার মনে হয় না কারো পাহাড়ে যাবার দরকার আছে। কারণ আমি উপভোগ করতে যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “সামনে আরো কয়েকটা কঠিন পর্বত আছে। এভারেস্ট সবচেয়ে উঁচু। কিন্তু এটা সব থেকে কঠিন নয়। যেমন আদা দাবলাম এভারেস্টের চেয়ে অনেক কঠিন। এরকম একটি পর্বত আরোহণ করা মানে পরের গুলোর জন্যও প্রস্তুতি।
“মানাসলুতে একটা সুবিধা হয়েছে, আমাকে অক্সিজেন সিলিন্ডার বহন করতে হয়নি। ৪-৫ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডারটা অতিরিক্ত বহন করতে হচ্ছে না, এটা একটা সুবিধা; কিন্তু প্রত্যেকটা স্টেপ মেকস ইউ ব্রেথলেস। বাতাসের জন্য হাহাকার। সেটা ফিল করেছি।”
কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানাসলু আরোহণের কারণ জানতে চাইলে বাবর আলী বলেন, “সব সময় দেখে এসেছি পশ্চিমারা সচরাচর এসব পাগলামিগুলো করে থাকে। বাঙালি ঘরকুণো ছিল বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটা ট্যাগ লাগানো থাকে।
“যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং ওই মানসিক শক্তি থাকলে এটা সম্ভব। পরের জেনারেশন বা পরের পর্বতারোহীরা আশা করি এই ব্যাপারটা এগিয়ে নিবে। ইতিবাচক মানসিকতার সাথে আমাকে সহযোগিতা করেছে নিয়মানুবর্তিতা।”
বাবর আলী বলেন, সাধারণত আট হাজার মিটার পর্বতে সামিট পুশের জন্য রাতে বের হতে হয়।
“কারণ রাতে আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকে। পর্বতে দুপুর ১২টার পর আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। আমরা ১১টা ৪০ এ রওনা দিয়ে তানভীর ভাই সাড়ে ৩টায় পৌঁছায়। আর আমি একটু স্লো ছিলাম, অক্সিজেন ব্যবহার করছিলাম না। আমি পৌঁছাই সাড়ে ৪টার দিকে। তার পরও প্রত্যাশার অনেক আগেই আরোহণ করতে পেরেছি।”
তিনি বলেন,“এর আগেও বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট এবং আট হাজার মিটারের পর্বত আরোহণ হয়েছে। কিন্তু আট হাজার মিটার পর্বতে অক্সিজেন ছাড়া যাওয়ার সাহস ওভাবে আমরা আগে করে উঠতে পারিনি।
“আশা করি, আরো নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে পর্বতারোহীরা যাবে। আট হাজার মিটার কোনো পর্বতই আসলে সহজ না। অনেক কিছুর সাথে লড়াই করতে হয় ওই উচ্চতায় আসলে।”
মানাসলু আরোহণকারী তানভীর আহমেদ বলেন, “সবচেয়ে কঠিন হলো উচ্চতা। একটা নির্দিষ্ট উচ্চতার উপরে বিষয়টা ভিন্ন। সেখানকার তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার সাথে শরীরকে অ্যাডজাস্ট করানো এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। ক্যাম্প ১ থেকে ক্যাম্প ২ এবং ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪ এর রাস্তা কঠিন। অনেক বড় উচ্চতা একদিনে আরোহণ করতে হচ্ছে। এটা বেশ কঠিন।
“বারবার পর্বতে যাওয়া এবং সেখানে শরীর কেমন আচরণ করছে। এটার সাথে মানিয়ে নেয়া। কোনো ঘাটতি আছে কি না, সে অনুসারে অনুশীলন করা। একেক জনের শরীর একেক রকম। তাই সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিযানের অন্যতম স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘সামুদা’ এর চিফ বিজনেস অফিসার বিকাশ কান্তি দাস এবং ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল আরেফীন আসিফ।
২৬ অক্টোবর ভোরে নেপালের মানাসলু পর্বতে আরোহণ করেন দুই বাংলাদেশি পর্বতারোহী বাবর আলী এবং তানভীর আহমেদ।
আরও পড়ুন: