Published : 12 May 2026, 08:38 PM
চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের জন্য আগ্রাবাদ ডেবার পাড় এলাকায় ৬০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
ডেবার পাড়ের ওই জমি বাংলাদেশ রেলওয়ের। র্যাম্প নির্মাণের জন্য রেলওয়ের কাছ থেকে জমিটি কিনে নিয়েছে সিডিএ।
মঙ্গলবার দুপুরে আগ্রাবাদে মূল সড়কের পাশে দশমিক ২২ একর জমিতে একতলা ও দুই তলা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের দোকান ছিল গত প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে। রেলওয়ে থেকে জমি ইজারা নিয়ে এসব দোকান করা হয়।
এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আগ্রাবাদ থেকে বিমানবন্দরমুখী ‘আপওয়ার্ড র্যাম্প’ নির্মাণের কাজ দ্রুত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
তবে দোকানের ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের আগে থেকে না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে এবং তারা ক্ষতিপূরণের টাকাও পাননি। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় উচ্ছেদ চলাকালে মালামাল নিয়েও বিপাকে পড়েন তারা।
এসব বিষয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রেলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন জমিটা পাচ্ছিলাম না। এখন রেল জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। জমির দাম বাবদ ১২ কোটি টাকা এবং সেখানে থাকা স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই কোটি টাকা রেলকে পরিশোধ করা হয়েছে।

“সেখানকার দোকান মালিকদের ক্ষতিপূরণ রেলওয়ে পরিশোধ করবে। স্থাপনার সব কাঠামো সরিয়ে নেয়ার পরে সয়েল টেস্ট শেষ করে র্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
ঈদের পর র্যাম্পের কাজ শুরু করার কথা বলেন তিনি।
সিডিএ চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
ইতিমধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল করছে। তবে এখনো এক্সপ্রেসওয়েটির সবগুলো র্যাম্প নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি।
মঙ্গলবার অভিযানে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও র্যাব সদস্য সহায়তা করে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজিব হোসেন, সহকারী অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস আক্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকরা।
নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করা হয়।