সাকিবের ৪৫ মিনিটের ব্যাটিং সেশনে বাংলাদেশের আশার ছবি

চোটের শঙ্কা কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ককে পাওয়া যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম রনিআরিফুল ইসলাম রনিপুনে থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Oct 2023, 02:29 PM
Updated : 17 Oct 2023, 02:29 PM

শুরুতে মিনিট দশেক হালকা নক। এরপর দুটি ভিন্ন নেটে আরও ১০ মিনিট করে ব্যাটিং। পরে আরেকটি নেটে আরও ১৫ মিনিট। সব মিলিয়ে ৪৫ মিনিটের সেশন। এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে ১২-১৩ মিনিটের রানিং সেশন। সব মিলিয়ে অনুশীলনে যা যা করলেন সাকিব আল হাসান, তাতে বাংলাদেশ দলের শঙ্কার মেঘ অনেকটাই কেটে গেছে বলে ধারণা করা যায়।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার তিন ঘণ্টার বেশি অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল। সেখানে সবার নজর বেশি ছিল সাকিবের দিকেই। এই দিনের অনুশীলনের ওপরই যে মূলত নির্ভর করছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামা!

বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ছিল দুপুর ২টা থেকে। তবে দল মাঠে চলে আসে ১টার দিকেই। শুরুতে মাঠে নামেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম। উইকেটের কাছে এগিয়ে যান তারা। একটু পরই মাঠে নামেন সাকিব, তার সঙ্গী চান্দিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশের অধিনায়ক ও প্রধান কোচও এগিয়ে যান উইকেটের দিকে।

উইকেট তখন ঢেকে রাখা হয়েছিল। তারা কাছে যাওয়ার পর ঘোমটা সরিয়ে দেন কিউরেটর। বেশ কিছুটা সময় ধরে তারা সবাই পর্যবেক্ষণ করেন উইকেট। এরপর তাদের নিজেদের মধ্যে ছোট্ট আলোচনা পর্বও চলে সেখানে।

সাকিবকে নিয়ে প্রথম আশার ছবি ফুটে ওঠে সেখানেই। অধিনায়ক যখন এত গুরুত্ব দিয়ে উইকেট দেখছেন এবং আলোচনা করছেন, নিশ্চয়ই ম্যাচ খেলার জন্যও প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি।

এরপর ছিল হালকা স্ট্রেচিং পর্ব। সেখানে দেখা যায়নি সাকিবকে। একটু পর সব ক্রিকেটারকে একসঙ্গে ডেকে নেন হাথুরুসিংহে। মাঠের এক প্রান্তে গোল হয়ে দাঁড়ান সবাই। সেখানে কথা বলতে দেখা যায় কোচকে। সাকিবও ছিলেন সেই মানব বৃত্তে।

আলোচনা শেষে আরেক দফা স্ট্রেচিং। সেখানে সাকিবকেও দেখা যায় টিম বয়ের সহায়তায় স্ট্রেচিং করতে। এরপর গা গরমের পর্ব। দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটভলি খেলেন ক্রিকেটাররা। খেলার সূচনা করেন সাকিবই। চোটাক্রান্ত বাঁ পায়েও কিক নিতে দেখা যায় তাকে। তবে একটু পরই তিনি থেমে যান। ফুটভলির বাকি সময়টা তিনি স্রেফ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাতে শঙ্কার ছবিও উঁকি দিতে থাকে। পায়ে কি কোনো টান লাগল আবার!

সেই শঙ্কা উড়ে যায় পরে। বাংলাদেশের অনুশীলন সেশনের মাঝামাঝি পর্যায়ে লিটন কুমার দাস ও সাকিব একসঙ্গেই মাঠে নামেন প্যাড-গ্লাভস পরে। লিটন নেটে গেলেও সাকিব চলে যান নেটের পেছনে। সেখানে তাকে হালকা নক করান বাংলাদেশ দলের সহকারী ফিল্ডিং কোচ ফয়সাল হোসেন। নক আর ড্রিল করে সাকিব হয়তো বোঝার চেষ্টা করছিলেন, কোনো অস্বস্তি বা জড়তা আছে কি-না।

সেখানে নিজের শরীর থেকে সবুজ বার্তা পেয়ে তিনি এগিয়ে যান এক পাশের নেটে। যেখানে বোলিং করছিলেন স্পিনাররা। সেই নেটে গিয়েই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। লফটেড শট, ডাউন দা উইকেট শট খেলেন বেশ কিছু। শেখ মেহেদি হাসানের একটি ডেলিভারি আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে। সব শটেই যে টাইমিং ঠিকঠাক হয়েছে, তা নয়। তবে ব্যাটিংয়ের ধরনে তার চাওয়াটা ফুটে উঠেছে পরিষ্কারভাবে।

এই নেটে ১০ মিনিট কাটিয়ে তিনি চলে যান পাশের নেটে, যেখানে বল করছিলেন পেসাররা। এখানেও বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতেই দেখা যায় তাকে। দূর থেকে কারও ভেতরের অস্বস্তি বা জড়তা যদিও বোঝা কঠিন। তবে তার ব্যাটিং বা হাঁটাচলায় তেমন কিছু ফুটে ওঠেনি।

এখানেও ১০ মিনিট ব্যাটিং করে বের হন তিনি। তার দিকে এগিয়ে যান হাথুরুসিংহে। কোচ ও অধিনায়ক কথা বলেন কিছুক্ষণ। সেই আলোচনার বিষয়বস্তু নিশ্চয়ই অনুমান করে নিতে সমস্যা হয় না!

শেষ নয় সেখানেই। কোচের সঙ্গে কথা শেষে সাকিব চলে যান আরেক প্রান্তের নেটে। যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন আর্ম থ্রোয়াররা। থ্রো ডাউনে গতি ও বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছিল তার। তবে পরে ঠিকই সামলে নেন এবং স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকেন। এই পর্ব চলে ১৫ মিনিট।

সব মিলিয়ে ৪৫ মিনিট ব্যাটিং। ম্যাচের আগে সাধারণত এত লম্বা সময় ব্যাটিং করেন না সাকিব। এ দিন এতটা সময় কাটালেন হয়তো চোটের অবস্থা পরখ করে দেখতেই। ম্যাচ খেললে তো মাঠে লম্বা সময় থাকার প্রস্তুতিই নিতে হবে!

ব্যাটিং শেষে একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর শুরু হয় তার রানিং সেশন। এই পর্ব চলে ১২-১৩ মিনিটের মতো। এখানে খুব কাছ থেকে তাকে পর্যবেক্ষণ করেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম।

ব্যাটিং ও রানিং সেশন তিনি যেভাবে কাটালেন, তাতে ধরে নেওয়া যেতেই পারে যে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি খেলবেন। যদিও অনুশীলন শেষে আরেক বার স্ক্যান করানোর কথা তার সবশেষ অবস্থা বোঝার জন্য। তবে তাকে দেখে অন্তত মনে হয়নি যে, চোটের অবনতি হয়েছে কোনো।

রানিং সেশন শেষে আবার কোচের সঙ্গে চলে তার আলোচনা পর্ব। সেখানে ছিলেন চিকিৎসক মনজুর হোসেন চৌধুরি ও ফিজিও বায়োজিদুলও। আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই আলোচনা।

মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাকিবের মুখে দেখা গেল চওড়া হাসি। বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমও নিশ্চয়ই এখন হাসছে!