রিজওয়ানের রান আউটের জন্য ‘সরি’ বললেন লিটন

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচ হওয়া ব্যাটসম্যান দুঃখপ্রকাশ করলেন ওই রান আউটের ঘটনায়।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Jan 2023, 05:39 PM
Updated : 17 Jan 2023, 05:39 PM

জুটি জমে গিয়েছিল দারুণভাবে। লিটন কুমার দাস ছুটছিলেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন সহযোগীর ভূমিকায়। একটা প্রান্ত তিনি আগলে রেখেছিলেন। বোলাররা যখন কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না এই জুটি থামানোর, পথটা বের করে দেন তারাই। ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে যান রিজওয়ান। লিটন দুর্দান্ত খেলে দলকে এগিয়ে নেন জয়ের কাছে। ম্যাচ শেষে তিনি দুঃখপ্রকাশ করলেন তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গীর ওই রান আউটের ঘটনায়। 

বিপিএলে মঙ্গলবার সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ১৩৩ রানে আটকে রান তাড়ায় দারুণ সূচনা করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেই উড়ন্ত শুরুর মূল চালক ছিলেন লিটন। জুটির রান যখন ৫৬, লিটনের অবদান সেখানে ২৫ বলে ৩৮, রিজওয়ানের ১৭ বলে ১৪। 

অষ্টম ওভারের প্রথম বলে সেই রান আউট। অফ স্পিনার শরিফউল্লাহর বল মিড উইকেটের দিকে খেলেন রিজওয়ান। একটি রান তারা নিয়ে নেন অনায়াসেই। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়েই বিপত্তি। আকবর আলির দারুণ থ্রোয়ের পর বাকি কাজ সারেন সিলেটের কিপার মুশফিকুর রহিম। ১৮ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন রিজওয়ান। 

লিটনকে অবশ্য তখনই থামানো যায়নি। চোখ জুড়ানো সব শটের প্রদর্শনী মেলে ধরে তিনি খেলেন ৪২ বলে ৭০ রানের ইনিংস। তার বিদায়ের পর কুমিল্লা দ্রুত আরও দুই উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত জিততে সমস্যা হয়নি। টানা ৫ জয়ের পর সিলেটকে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে তারা জিতে নেয় টানা দ্বিতীয় ম্যাচ। লিটন পান টানা দ্বিতীয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেই রান আউটের প্রসঙ্গ তোলেন ধারাভাষ্যকার আমির সোহাইল। দ্বিতীয় রানের ‘কল’ যদিও রিজওয়ান দিয়েছিলেন বলেই মনে হয়েছিল। তবে লাজুক হাসিতে  ছোট্ট করে দুঃখপ্রকাশ করলেন লিটন, “রিজওয়ান ভাইয়ের জন্য আসলে আমি খুবই ‘সরি’… তিনি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার।” 

রিজওয়ানকে হারানোর পর নিজের খেলার ধরনে একটু বদল আনেন লিটন। এর আগ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু জুটি ভাঙার পর একটু রাশ টানেন গতিতে। সেই কারণও জানালেন তিনি ম্যাচের পর। 

“কম রানের ম্যাচে রান তাড়ায় জুটি গড়া গুরুত্বপূর্ণ। (রিজওয়ান আউট হওয়ার পর) আমি চেষ্টা করছিলাম, যতটা সম্ভব লম্বা ব্যাট করতে, ১৫-১৬ ওভার পর্যন্ত যেন থাকতে পারি।”

রিজওয়ান আউট হওয়ার পর ইনিংস লম্বা করার দিকে মন দিলেও আবার তিনি ঝড় তোলেন চতুর্দশ ওভারে। অফ স্পিনার শরিফউল্লাহকে তিন ছক্কা ও এক চারে ওভার থেকে নেন ২৪ রান। 

চট্টগ্রামের উইকেট এ দিন ছিল একটু মন্থর। অনেক ডেলিভারিই উইকেটে পিচ করে খানিকটা থমকে এসেছে। দুই দলের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই সাবলিল শট খেলতে পারেননি শুরুতে। তবে লিটন ব্যাট করছিলেন যেন ভিন্ন এক উইকেটে। শুরু থেকেই তিনি চোখধাঁধানো টাইমিংয়ে অসাধারণ সব শট খেলতে থাকেন। প্রথম ১৪ বলেই করে ফেলেন ৩২ রান! 

ম্যাচ শেষে আমির সোহাইলের জিজ্ঞাসা, ‘এই মন্থর উইকেটে এরকস শট কিভাবে খেললেন?’ লিটন বললেন, তার কাছে উইকেট কঠিন কিছুই মনে হয়নি। 

“চট্টগ্রামের উইকেট তো সবসময়ই ভালো। আমার অন্তত সেরকমই মনে হয়! আমি স্রেফ টাইমিংয়ের কথাই ভাবি। সবশেষ কয়েকটি আমি কঠোর অনুশীলন করেছি। কাজে লাগছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক