Published : 28 Feb 2026, 01:58 PM
বিশ্বকাপ থেকে যদি ছিটকে পড়ে পাকিস্তান, অধিনায়কের দায়িত্ব থেকেও হয়তো বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে সালমান আলি আগার। পরবর্তী অধিনায়কের ছবিটা এখন থেকেই দেখতে পাচ্ছেন শাহিদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের ধারণা, পরবর্তী অধিনায়ক হতে যাচ্ছে শাদাব খান। ভাবনার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের অধিনায়ক শাদাব খান। ফ্র্যাঞ্চাইটির প্রধান কোচ হিসেবে দুই বছর কাজ করেছেন মাইক হেসন, যিনি এখন পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ। এই দুজনের যুগলবন্দিতে ২০২৪ সালে পিএসএলের শিরোপা জিতেছে ইসলামাবাদ।
আফ্রিদির ইঙ্গিত শাদাব ও হেসনের ঘনিষ্ঠতার দিকে। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর যদি হেসন পাকিস্তানের দায়িত্বে টিকে যান, তাহলে শাদাবকে নেতৃত্বভার দেওয়া হবে বলে ধারণা করেছেন তিনি।
এমনিতে শাদাবকে অধিনায়ক করা হলে আপত্তি নেই আফ্রিদির। তবে সামা টিভিতে তিনি বললেন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে।
“মাইক হেসন যদি কোচ হিসেবে থেকে যায়, তাহলে আমার মনে হয় শাদাব খানকে অধিনায়ক করা হবে। তাদের মধ্যে একটা সংযোগ আছে, আর সেটা দীর্ঘদিনের, পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে কাজ করার সময় থেকে। শাদাব খারাপ পছন্দ নয়, তবে বোলার হিসেবে তার পারফরম্যান্স আরও ভালো হতো, তাহলে সেটা দারুণ হতো।”
“শাদাবের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রয়োজন আমাদের। যদি সেটা পাওয়া যায়, তাহলে তাকে অধিনায়ক বলতেও আমাদের ভালো লাগবে। সবসময় বলতাম, সে দলের মেরুদণ্ড। যেহেতু তাদের আর কোনো বিকল্প নেই, আমার মনে হয় শাদাবকেই অধিনায়ক করা হবে। তাকে অধিনায়কত্ব দাও, তবে তার পারফর্মার হওয়া প্রয়োজন।”
কিছুদিন আগে সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা করে যখন তোপের মুখে ছিলেন শাদাব, তখনও আফ্রিদি তাকে পাল্টা তির ছুড়ে বলেছিলেন, “আগে বড় ম্যাচে পারফর্ম করে দেখাও বেটা…।”
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটা খুব একটা পারছেন না শাদাব। বিশেষ করে বল হাতে। আসরে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে স্রেফ পাঁচ উইকেট নিতে পারেছেন তিনি। সবগুলোই তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৬ রানে দুটি আর আর নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৯ রানে তিনটি।
বড় দলের বিপক্ষে চিত্র উল্টো। ভারতের বিপক্ষে স্রেফ এক ওভার করে ১৭ রান দেন তিনি। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন ওভারে খরচ করেন ৩১।
শাদাবের মতো বিশ্বকাপে ভালো অবস্থায় নেই পাকিস্তানও। তাদের সেমি-ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়। সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শনিবার শ্রীলঙ্কাকে তো তাদের হারাতেই হবে, সঙ্গে মেলাতে হবে রান রেটের সমীকরণও।
গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে বাজেভাবে হারে পাকিস্তান। পরে সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জিততে পারেনি তারা। নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
বিশ্ব মঞ্চে পাকিস্তানের এমন পারফরম্যান্সে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন অধিনায়ক সালমান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রীতিকর আচরণের শিকার হন তার পরিবারও। নেতৃত্ব থেকে সালমানকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে জোরেশোরে।
পরবর্তী সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিদির আগেই শাদাব খানের নাম সামনে আনেন শোয়েব মালিক। আরি নিউজে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বলেন, “অধিনায়কত্বের আলোচনায় এখন শাদাবের নাম আসতে শুরু করেছে।”
পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে শাদাবের। তার অধিনায়কত্বে ছয়টি ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে পাকিস্তান।