Published : 27 Feb 2026, 02:51 PM
উইকেট যাকে বলে নিখাদ ব্যাটিং স্বর্গ। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। বোলিং একদমই সাদামাটা। সেখানে ৫৫ রানের ইনিংস আর এমন কী! তবে আভিশেক শার্মার সেই ইনিংসকেই ফাফ দু প্লেসি বলছেন ‘ম্যাসিভ ইনিংস।’ কারণ, এই ম্যাচের পারিপার্শ্বিকতা কঠিন না হলেও প্রেক্ষাপট যে ছিল প্রতিকূল! দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের ধারণা, চাপের বোঝা সরে যাওয়ার পর সামনে আরও ভালো করবেন ভারতের এই ওপেনার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বপ্নময় দেড় বছরের পর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে এসে একেবারে বাস্তবতার জমিনে মুখ থুবড়ে পড়েছিলেন আভিশেক। গ্রুপ পর্বে টানা তিন শূন্যের পর সুপার এইটে আউট হন তিনি ১২ বলে ১৫ রান করে।
তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল তুমুল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বিরতি দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন একই ঘরানার সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান ভিরেন্দার শেবাগ। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ঠিকই একাদশে রাখে এবং চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার ৩০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিইনফোতে আলোচনায় ফাফ দু প্লেসি বললেন, এই ইনিংসই ভারমুক্ত আভিশেককে আবার জ্বলে উঠতে সহায়তা করবে সামনে।
“ম্যাসিভ ইনিংস এটি… কারণ এই ইনিংস থেকে চাওয়া কি ছিল? এখান থেকে প্রয়োজন ছিল আত্মবিশ্বাসের। আপনি যে-ই হন, বিশ্বকাপের আগে যত রানই করে থাকুন, টানা তিন-চার ম্যাচে রান রান পেলে বিশ্বের প্রতিটি ব্যাটার চাপ অনুভব করতে শুরু করে, আত্মবিশ্বাসের পতন বুঝতে পারে। মাথার ভেতর অনেক কিছু চলতে থাকে।”
“এখন সে একটু (স্বস্তির) শ্বাস নিতে পারবে। সে নিজেকে বলতে পারবে, কিছু রান করেছি এবং সেটাকে নিয়ে বিশ্বকাপের বাকিটুকুতে বয়ে নিতে পারবে।”
দু প্লেসির মতে, জিম্বাবুয়ের বোলিং পরিকল্পনাও সহায়তা করেছেন আভিশেককে ফর্মে ফিরতে। আগের ম্যাচগুলোয় অফ স্পিনে ভুগছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান, আউটও হয়েছেন দুই ম্যাচে। কিন্তু এ দিন শুরুতে তাকে স্পিনের পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। পাওয়ার প্লে শেষে যখন স্পিন আক্রমণে আনা হয়, ততক্ষণে ৮০ রান করে ফেলেছে ভারত, আভিশেকের রান ১৩ বলে ৩৩।
দু প্লেসি হাসতে হাসতে বললেন, সব ক্ষেত্রই প্রস্তুত ছিল আভিশেকের রান করার।
“সবকিছুই আজকে তার পক্ষে ছিল। নিষ্প্রাণ উইকেট, একদমই মিডিয়াম পেস বোলিং, শুরুতে কোনো অফ স্পিনার তার সামনে দেওয়া হয়নি। গোটা দুনিয়া যেন তাকে আজকে ফর্মে ফেরাতে চেষ্টা করছিল।”
একই অনুষ্ঠানে থাকা ভারতীয় কিংবদন্তি আনিল কুম্বলেও একমত দু প্লেসির সঙ্গে।
“অবশ্যই এই আত্মবিশ্বাসী সে বয়ে নিতে পারবে। সে ভালো ব্যাট করেছে। যদিও তার সামনে অফ স্পিন আনা হয়তো। তবে সে সেটা সামলাতে পারত, এমন নয় যে পারত না। এই ফিফটি তাকে অনেক বিশ্বাস জোগাবে সামনের ম্যাচগুলিতে।”