Published : 19 Feb 2026, 10:23 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনার জবাবে শাদাব খানের তীব্র প্রতিক্রিয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই অলরাউন্ডারের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলি।
বিশ্বকাপের তুমুল আলোচিত ম্যাচে গত রোববার কলম্বোতে ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। ম্যাচ হারে তারা ৬১ রানে।
ওই পরাজয়ের পর শাহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ ইউসুফ, সাকলাইন মুশতাকের মতো পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা উত্তরসূরিদের পারফরম্যান্স এবং শাদাবসহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি বলেন, তার মেয়ের জামাই শাহিন শাহ আফ্রিদিসহ শাদাব, বাবর আজমকে বাদ দেওয়া উচিত টি-টোয়েন্টি দল থেকে। আরও একটু বাড়িয়ে সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এই তিন জনের সময়ই শেষ হয়ে গেছে।
ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের পর, প্রবল চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তান গ্রুপের শেষ ম্যাচে বুধবার নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়ে নিশ্চিত করে সুপার এইটে খেলা। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলের জয়ে বড় অবদান রাখা শাদাব ম্যাচের পর কড়া জবাব দেন সাবেকদের সমালোচনার প্রসঙ্গে। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ওই সাবেক ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
“আমাদের সাবেক ক্রিকেটারদের নিজস্ব মতামত আছে। তারা পাকিস্তানের হয়ে অনেক ভালো করেছেন। তবে দিনশেষে, তারাও তো এমন কিছু করতে পারেননি (বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো)। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র জয়টি আমাদেরই। ব্যাপারটি (ব্যর্থতা) তো শুধু আমাদের নয়। সব মিলিয়েই বিশ্বকাপে আমরা কেবল একবারই হারিয়েছি ভারতকে।”
তবে শাদাবের মন্তব্য মোটেও ভালো লাগেনি বাসিতের। পাকিস্তানের টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজে তিনি শাদাবকে মনে করিয়ে দেন, দলের সমালোচনা করাদের মধ্যে তার শ্বশুর ও স্পিন গ্রেট সাকলাইন মুশতাকও আছেন।
“তার শ্বশুরকে নিয়ে এমন কথা বলা উচিত হয়নি। সাকলাইন যে ধরনের ম্যাচ-উইনার ছিল, তার পকেটে ১০ জন শাদাব থাকত। সুপারিশের ভিত্তিতে নব্বইয়ের দশকের খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হতো না; কেবল পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে দল তৈরি করা হতো। কিছু সাংবাদিকের উচিত তাকে (শাদাব) তার নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। সে কি বোলিং অলরাউন্ডার নাকি ব্যাটিং অলরাউন্ডার?”
প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে শাদাব জাতীয় দলে জায়গা পান বলেও অভিযোগ করেন বাসিত।
“দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে তাকে টপ অর্ডারে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। কেন? কারণ সে মাইক হেসনের প্রিয়। ইনজামাম, ওয়াকার বা সাকলাইন যদি দায়িত্বে থাকত, তাহলে আমি দেখতাম সে কোথায় ব্যাট করে। আমার মনে আছে আমি ‘এ’ দলকে ইংল্যান্ডে নিয়ে গিয়েছিলাম। পুরো সময়টা সে তার মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিল। আমি তার দুটি ফোনই কেড়ে নিয়েছিলাম।”
পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির ‘গেম অন হ্যায়’ শোতে বলেন, পাকিস্তান একসময় যে সম্মান অর্জন করেছিল, তা এখন কমে গেছে।
“হ্যাঁ, ২০২১ সালে পাকিস্তান ভারতকে হারিয়েছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এবং এখনকার ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আগে ভারতীয় দল আমাদের ভয় পেত, কারণ তারা জানত যে আমরা তাদের হারাতে পারব। এখন তারা আমাদের অতটা গুরুত্ব সহকারে নেয় না। এমনকি, তারা উইকেট পাওয়া বা জয় উদযাপনও করে না।”
শাদাবের মন্তব্যের প্রসঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আহমেদ শেহজাদ একই অনুষ্ঠানে বলেন, আগে তো শুধু ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতো, আর এখন প্রতি দুই বছর পরপরই হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
“সে (শাদাব) যাদের কথা বলছে, তারা চার বছরে একবার বিশ্বকাপ খেলতেন। তখন কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল না। এখন প্রতি দুই বছর অন্তর এটি হয়। তাই, সে যাদের কথা বলছে তাদের চেয়ে বর্তমান দলের খেলোয়াড়রা ভারতের বিপক্ষে বেশি আইসিসি ইভেন্টের ম্যাচ খেলেছে। আর যখন একই দল হারতে থাকে, তখন প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।”
ওয়ানডেতে মুখোমুখি লড়াইয়ে এখনও ভারতের চেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। কিন্তু বিশ্বকাপে চিত্রটি ভিন্ন। বিশ্ব আসরে আট ম্যাচের সবকটিই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ১৭ ম্যাচে পাকিস্তান জিততে পেরেছে মোটে তিনটি; বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে ভারত এগিয়ে ৮-১ ব্যবধানে। পাকিস্তানের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০২১ আসরে দুবাইয়ে।