Published : 18 Feb 2026, 07:03 PM
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সাহিবজাদা ফারহান। দেশের হয়ে তার প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ল দল। পরে স্পিনে বিষে নামিবিয়াকে নীল করে দিলেন উসমান তারিক ও শাদাব খান। রেকর্ড গড়া জয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নিল পাকিস্তান।
কলম্বোতে বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এই প্রথম একশ রানের জয় পেয়েছে তারা।
সাহিবজাদার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান করে পাকিস্তান। পরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নামিবিয়াকে স্রেফ ৯৭ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
চার ম্যাচের তিনটি জিতে গ্রুপের লড়াই শেষ করল পাকিস্তান। আর চার ম্যাচের সবকটি হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো নামিবিয়ার।
পাকিস্তানের এদিনের জয়ের নায়ক সাহিবজাদা চারটি ছক্কা ও ১১টি চারে ৫৮ বলে ঠিক ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে শতক করেছিলেন আহমেদ শেহজাদ।
ব্যাট হাতে তিনটি ছক্কা ও একটি চারে ৩৬ রান করা শাদাব পরে বল হাতেও ছড়ান আলো। স্রেফ ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
তবে দলের সেরা বোলার তারিক। অপ্রথাগত বোলিং অ্যাকশনের এই অফ স্পিনার ৪ শিকার ধরতে দেন ১৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের স্পিনারদের মধ্যে যা দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ২০০৯ আসরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লেগ স্পিনে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন শাহিদ আফ্রিদি।
ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বিশ্বকাপের পরের ধাপে খেলার পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে পাকিস্তান। নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় তাদের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে পথ দেখান সাহিবজাদা।
শুরুটা ভালো করেন সাইম আইয়ুবও। কিন্তু দুই চারে ১৪ রান করে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বিদায় নেন তিনি। পরে সালমান আলি আগা ও সাহিবজাদা মিলে পাকিস্তানের রান একশ পার করেন।
জ্যাক ব্রাসেল ও রুবেন ট্রাম্পেলমানের ওভারে দুটি করে চার মারেন সাহিবজাদা। পরে উইলেম মাইবার্গকে ওড়ান টানা দুই ছক্কায়। ওই ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মারেন সালমানও।
দ্বাদশ ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন সাহিবজাদা, ৩৭ বলে। ওই ওভারে চার ও ছক্কা মারা সালমান বিদায় নেন পরের ওভারে। দুই ছক্কা ও তিনটি চারে ৩৮ রান করে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ভাঙে ৬৭ রানের জুটি।
বিশ্বকাপ অভিষেকে ভালো করতে পারেননি খাওয়াজা নাফে। পরে সাহিবজাদাকে সঙ্গ দেন শাদাব। দুইজনের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান।
ট্রাম্পেলমানকে টানা দুই চারের পর জেজে স্মিট ও ব্রাসেলকে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন সাহিবজাদা। ব্রাসেলের ওই ওভারে ছক্কায় ওড়ান শাদাবও। শেষ ওভারে আরও দুটি ছক্কা মারেন তিনি।
শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া নেন সাহিবজাদা, ৫৭ বলে। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে ২০ বল।
সাহিবজাদা ও শাদাবের অবিচ্ছিন্ন ৪০ বলের জুটিতে আসে ৮১ রান।
তৃতীয় বলে ছক্কা মেরে রান তাড়া শুরু করেন লরেন স্টিনক্যাম্প। প্রথম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। শূন্য রানে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যানকে অবশ্য টিকতে দেননি সালমান মির্জা।
এরপর শাদাব ও তারিকের ছোবলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নামিবিয়া। দলটির ইনিংসে কেবল দুইজন ছুঁতে পারেন দুই অঙ্ক। তার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার স্টিনক্যাম্প। তাকে বিদায় করে বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মাদ নাওয়াজ।
সুপার এইটে ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়বে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (সাহিবজাদা ১০০*, সাইম ১৪, সালমান ৩৮, নাফে ৫, শাদাব ৩৬*; স্মিট ৩-০-২৮-০, ইরাসমাস ৩-০-২৫-১, ট্রাম্পেলমান ৪-০-৩৬-০, ব্রাসেল ৪-০-৪৮-২, মাইবার্গ ২-০-২৭-০, শুলজ ৪-০-৩৩-০)
নামিবিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৯৭ (স্টিনক্যাম্প ২৩, ফ্রাইলিঙ্ক ৯, লফটি-ইটন ৫, ইরাসমাস ৭, বাসিং-ভলশেঙ্ক ২০, স্মিট ৯, গ্রিন ৭, ট্রাম্পেলমা ০, মাইবার্গ ৮, শুলজ ১, ব্রাসেল ১*; ফাহিম ২-০-১৬-০, সালমান মির্জা ২-০-১১-১, সাইম ২-০-১০-০, নাওয়াজ ৪-০-২২-১, শাদাব ৪-০-১৯-৩, তারিক ৩.৩-১-১৬-৪)
ফল: পাকিস্তান ১০২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।