Published : 06 Mar 2026, 12:54 AM
অসাধারণ, পরিণত ব্যাটিংয়ে দলকে সেমি-ফাইনালে তোলার পর, আরও একবার নিজেকে মেলে ধরলেন সাঞ্জু স্যামসন। এবারের মঞ্চটা আরও বড়, ফাইনালে ওঠার লড়াই। সেখানে উদ্বোধনী জুটির সঙ্গীকে শুরুতে হারালেও, দিক হারালেন না তিনি। প্রতিপক্ষ বোলারদের তুলাধুনা করে দলকে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দিতে রাখলেন বড় ভূমিকা। ফাইনালের টিকেট পাওয়ার পর, ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেলেন এই ব্যাটসম্যান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বৃহস্পতিবার দলকে রান পাহাড়ে তোলায় সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব স্যামসনের। সাতটি ছক্কা ও আটটি চারে ৪২ বলে ৮৯ রান করেন তিনি।
২০ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে পঞ্চমবার ম্যাচ সেরা হলেন স্যামসন। প্রথমবার হয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে।
আর বিশ্বকাপে সেরার স্বীকৃতি পেলেন দ্বিতীয়বার; এই মাসের প্রথম দিনে প্রথমবার, কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
স্যামসনের চমৎকার ইনিংস ও অন্যদের অবদানে ভারত গড়ে ২৫৩ রানের সংগ্রহ। খুব কঠিন রান তাড়ায় ৯৫ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও, জ্যাকব বেথেলের সেঞ্চুরিতে ভর করে বেশ লড়াই করে ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে বেথেলও ফিরে যাওয়ার পর তাদের আশাও একরকম শেষ হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত সাত রানের জয়ে ফাইনালে ওঠে স্বাগতিকরা।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে স্যামসন ঝড় শুরু করেন প্রথম ওভারেই, চার ও ছক্কা মেরে। এদিনও সুবিধা করতে পারেননি আগ্রাসী ব্যাটসম্যান আভিশেক শার্মা। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান তিনি।
স্যামসনও আউট হতে পারতেন পরের ওভারে, কিন্তু তার সহজ ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। তখন স্যামসনের রান ছিল ১৫। জীবন পাওয়ার আগে-পরে ওই ওভারে জফ্রা আর্চারকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন তিনি। অষ্টম ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে লিয়াম ডসনকে ছক্কায় উড়িয়ে ২৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন স্যামসন।
যতক্ষণ তিনি ক্রিজে ছিলেন, বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠান নিয়মিত। তার শেষটাও হয় সেভাবেই; উইল জ্যাকসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন স্যামসন।
বিশ্বকাপের আগে ফর্ম হারিয়ে একাদশে জায়গা নড়বড়ে হয়ে পড়ে স্যামসনের। সতীর্থের অসুস্থতায় গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচে দলে ফিরে আবার বাইরে ছিটকে যান। আবার আরেক সতীর্থ রিঙ্কু সিং ব্যক্তিগত কারণে দল ছেড়ে যাওয়ায় ফের দলে ঢোকেন স্যামসন।
এমন আসা-যাওয়ার মাঝে সুপার এইটের শেষ ধাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই বাঁচা-মরার লড়াই। সেদিন বড় লক্ষ্য তাড়ায়, শুরুতে টপ অর্ডারের দুই সতীর্থকে হারিয়েও, অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় প্রবল চাপ সামলে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন স্যামসন।
সেই আত্মবিশ্বাসে ভর করেই এবার আরও দ্রুত রান তুললেন স্যামসন। দলকে দিলেন শক্ত ভিত, যেখান থেকে শিরোপার মঞ্চে পৌঁছে গেল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।