সাকিবের ‘সাইকোলজিক্যাল শট’, এনগিডির ‘বাউন্সার’
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, চাপ বেশি থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে সেই চাপে কাবু হওয়ার কারণ দেখছেন না
ক্রিকেট যতটা ব্যাট-বলের ম্যাচ, ততটাই মনস্তাত্ত্বিক। অনেক সময়ই ২২ গজের লড়াইয়ের ভাগ্য গড়া হয়ে যায় মনের লড়াই দিয়েই। মাঠের বাইরের সেই খেলায় জিতে হয়তো এগিয়ে থাকতে চাইলেন সাকিব আল হাসান। এমনিতেই চাপে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর আরও চাপ চাপিয়ে দিতে চাইলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লুঙ্গি এনগিডি অবশ্য সেই চাপকে আমলে নিলেন না খুব একটা। দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার বুঝিয়ে দিলেন, তারা ভড়কে যাননি খুব একটা।
চাপ নিয়ে এই চাপাচাপির উৎস জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট হারানো। হোবার্টে যেদিন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে বাংলাদেশ, সেদিনই একই মাঠে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা স্রেফ ১ পয়েন্ট পায় বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায়।
সেমি-ফাইনালে ওঠার অনিশ্চিত সমীকরণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টা নিশ্চিতই ধরে নেওয়ার কথা প্রোটিয়াদের। এমন ম্যাচে একটি পয়েন্ট হারানোর মানে তাই সম্ভাবনায় বড় চোট।
বিশ্ব আসরে বৃষ্টি ভেজা ম্যাচ থেকে সিক্ত নয়নে বিদায় নেওয়ার নজির তো তাদের আছেই। দুঃসহ এই অতীত এবারও তাড়া করার শঙ্কা জেগে উঠেছে প্রথম ম্যাচ থেকেই। আগের নানা অভিজ্ঞতার কারণে এবারও দক্ষিণ আফ্রিকানদের মনে এখনই ‘কু-ডাক’ শোনাটা অস্বাভাবিক নয়। সাকিব হয়তো চাইলেন প্রতিপক্ষের মনের সেই ক্ষত আরও দগদগে করে তুলতে।
সিডনিতে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা ভিন্ন প্রসঙ্গে হলেও সাকিব নিজে থেকেই যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার চাপে থাকার কথা টেনে আনলেন, তাতেই ইঙ্গিত তার মনস্তাত্ত্বিক খেলার।
“আমরা ম্যাচটা খেলতে নামব জেতার জন্য। আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। যেহেতু ওদের প্রত্যাশা ছিল একটা পয়েন্ট বেশি পাবে প্রথম ম্যাচে, যেটা পায়নি। ওদের জন্য অনেকটা বাঁচা-মরার লড়াই, একটু হলেও চাপ থাকবে। সেখানে আমরা ম্যাচ জিতে এসেছি।”
শুধু এই টুর্নামেন্টের বাস্তবতাই নয়, মানসিকভাবে প্রতিপক্ষকে কাবু করার চেষ্টায় সাকিবের হাতিয়ার স্কিলের একটি ঐতিহাসিক দুর্বলতাও। পেসের চেয়ে স্পিনের বিপক্ষে বরাবরই দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটু নড়বড়ে বলে মনে করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার যে উইকেটগুলোতে স্পিনে সহায়তা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি, সেই মাঠেই হবে এই ম্যাচ।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যদিও স্পিনে সহায়তা খুব বেশি এমনিতে থাকে না এখানে। তাছাড়া, বিশ্ব আসরের উইকেট তত্ত্বাবধান করে থাকে আইসিসি। তবুও এই সুযোগে মোক্ষম জায়গায় আঘাত হেনে রাখলেন সাকিব।
“(সিডনি) এমন একটা মাঠ যেখানে, আমরা হয়তো প্রেফার করব যে কোনো দলের সঙ্গে খেলার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার অন্য যে কোনো উইকেট থেকে সাধারণত এখানে স্পিনারদের জন্য একটু বেশি সুবিধা থাকে। তবে বিশ্বকাপে যেটা হয়, আইসিসি ‘ট্রু’ উইকেট তৈরির চেষ্টা করে। যেখানে সবার জন্যই একটা ভারসাম্য থাকে।”
পরে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হয়ে এলেন লুঙ্গি এনগিডি। সাকিবের মন্তব্যের কথা তিনি শুনলেন। চাপে থাকার কথাও মেনে নিলেন অকপটে। তবে বেশি চাপের থাকার তত্ত্বকে পাত্তা দিলেন না। বরং বুঝিয়ে দিলেন, তাদের লক্ষ্য যখন বিশ্বকাপের শিরোপা, তখন এসব গ্রুপ ম্যাচের চাপ খুব বড় কিছু নয়।
“আমার মনে হয়, এই টুর্নামেন্টে যারা জিততে চায়, এমন সব দলই চাপে আছে। আমাদের জয়ের তাড়না থাকবে বলে সে যেটা বলেছে, তা নিশ্চিতভাবেই সত্যি। অবশ্যই প্রথম ম্যাচটি জিততে পারলে আমাদের ভালো লাগত এবং আমরা জানি যে, টুর্নামেন্টে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের কেমন চাপ আছে…।”
“তবে আমরা বেশি চাপে থাকব, এটা বললে… আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ জয়ের দিকে চোখ থাকলে চাপটা সমানে-সমান। আশা করি, সেরা দলই জিতবে।”
