সোবহানার সেঞ্চুরি, রেকর্ড জুটির পরও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে স্রেফ উড়িয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে চমৎকার সেঞ্চুরি করলেন সোবহানা মোস্তারি। নিগার সুলতানার সঙ্গে গড়লেন জুটির রেকর্ড। তাতেও সংগ্রহ খুব বড় হলো না বাংলাদেশের। পরে জর্জিয়া ভলের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ফিবি লিচফিল্ডের দারুণ ইনিংসে তাদেরকে স্রেফ উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া।
ব্রিজবেনে রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ভল ও লিচফিল্ডের সৌজন্যে ১৩১ বল বাকি থাকতেই ২২১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অবশ্য কম নয়। প্রথম ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখান সোবহানা। পাঁচে নেমে ১৮ চারে ১১৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। আগের সেরা ছিল ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ফারজানা হকের খেলা ১০৭ রানের ইনিংসটি।
নিগার অপরাজিত থাকেন ৭ চারে ৭৪ রান করে। তার সঙ্গে সোবহানার জুটিতে আসে ১৯৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তো বটেই, যেকোনো দেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড এটি। আগের সেরা ছিল নিউ জিল্যান্ডের রেবেকা রোলস ও এমিলি ড্রামের ১৭০ রানের জুটি।
মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের কোনো সম্ভাবনাই অবশ্য জাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। রান তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন লিচফিল্ড ও ভল। দুজনের শুরুর জুটিতে ১৬২ রান আসে মাত্র ১২০ বলে।
১৯ চারে ৯৭ বলে ১৩১ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ভল। একটি ছক্কা ও ১১ চারে ৫১ বলে ৭০ রান করে থামেন লিচফিল্ড।
শেষের মতো শুরুটাও ভালো ছিল না বাংলাদেশের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে তারা। চতুর্থ ওভারে মেগান শুটের বলে কট বিহাইন্ড হন ফারজানা হক। ১৩ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটার। এই সংস্করণে ফারজানার এটি ১২তম শূন্য। বাংলাদেশের হয়ে যা সর্বোচ্চ।
আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানা (২০ বলে ৫) ও তিন নম্বরে নামা শারমিন আক্তারও (১১ বলে ০) বেশি সময় টিকতে পারেননি।
অষ্টম ওভারে সোবহানা যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ উইকেটে স্রেফ ৮ রান। মনে হচ্ছিল, আরেকটি বিব্রতকর অভিজ্ঞতাই হয়তো হবে তাদের। তবে সেটি হতে দেননি সোবহানা ও নিগার।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দুজন গড়েন ম্যারাথন জুটি। রানের গতি তেমন বাড়াতে না পারলেও উইকেট বাঁচিয়ে রেখে ধীরে ধীরে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তারা। এক পর্যায়ে ৪০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৪৫ রান।
এতে অবশ্য কিছুটা হলেও দায় পড়ে নিগারের কাঁধে। অন্য প্রান্তে সোবহানা সাবলীল ব্যাটিং করলেও বড্ড আড়ষ্ট ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সোবহানা ফিফটি করতে খেলেন ৬৬ বল। তবে নিগারের লেগে যায় ৯৭ বল।
ইনিংসের ৩৯তম ওভারে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলে সোবহানার বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে নিজের উইকেট বাঁচান ৮৪ রানে থাকা মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
আর কোনো ভুল না করে ১৫ চারে ১২৩ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সোবহানা। এরপর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাওয়ার পর ৩ চারে ১০ বলে করে ফেলেন ১৮ রান। পরে শুটের ফুলটসে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন তিনি।
সোবহানা ফিরলেও শেষ পর্যন্ত থেকে যান নিগার। দলের আর কেউ দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেননি। আর কোনো জুটিতে আসে ১১ এর বেশি রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন শুট।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের দুই তরুণ পেসার মারুফা আক্তার ও হাবিবা ইসলামের ওপর শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলেন ভল ও লিচফিল্ড। পরে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার আক্রমণে এলেও একই ছন্দ ধরে রাখেন তারা।
মাঝারি লক্ষ্যে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮২ রান করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ভল ও লিচফিল্ডের ব্যাট থেকে দ্রুত রান আসতে থাকে পরেও। মাত্র ৩৪ বলে ফিফটি করেন ভল। লিচফিল্ডের পঞ্চাশ আসে ৪১ বলে।
২০তম ওভারে বাংলাদেশকে উইকেট উপহার দেন লিচফিল্ড। স্বর্ণা আক্তারের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ওপেনার।
তবে ভল কোনো ভুল করেননি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে মাত্র ৮১ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত আগের ক্যারিয়ার সেরা ১০১ রান ছাড়িয়ে যান তিনি।
একই মাঠে বুধবার সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২২০/৬ (ফারজানা ০, শারমিন সুলতানা ৫, শারমিন আক্তার ০, নিগার ৭৪*, সোবহানা ১১৮, স্বর্ণা ৮, রিতু ০, রাবেয়া ০*; গার্থ ১০-২-৩৫-১, ১০-১-৩৬-৪, ওয়ারহ্যাম ৪-০-১৭-০, সাদারল্যান্ড ১০-০-৫১-০, গার্ডনার ৭-০-৩৭-০, কিং ৫-০-১৮-০, ম্যাকগ্রা ৪-০-২৫-০)
অস্ট্রেলিয়া: ২৮.১ ওভারে ২২২/১ (ভল ১৩১*, লিচফিল্ড ৭০, পেরি ১৯*; মারুফা ৪.১-০-৪০-০, হাবিবা ৬-০-৫১-০, নাহিদা ৪-০-৩৬-০, রাবেয়া ৫-০-৩৩-০, রিতু ৫-০-৩০-০, স্বর্ণা ৪-০-৩২-১)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: জর্জিয়া ভল
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-০তে এগিয়ে
