ফেরার ম্যাচে মার্শের আগ্রাসী সেঞ্চুরি, গতির ঝড় তুলে উডের ৫ উইকেট
হেডিংলি টেস্টে প্রথম দিনে ব্যাট-বলের আগুনে লড়াইয়ে উইকেটের পতন হলো ১৩টি।
লাঞ্চ বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে স্লিপে মিচেল মার্শের ক্যাচ ছাড়লেন জো রুট। ১২ রানে জীবন পেয়ে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। প্রায় চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে উপহার দিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তবে ব্যাটিং ধসে অস্ট্রেলিয়া থমকে গেল আড়াইশ পেরিয়েই। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডেরও।
অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন হেডিংলির সবুজ ২২ গজে পতন হয়েছে মোট ১৩ উইকেটের।
৪ উইকেটে ৮৫ রানের নড়বড়ে অবস্থানে থেকে একটা পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪ উইকেটে ২৪০। কিন্তু ২৩ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে তারা গুটিয়ে যায় ২৬৩ রানে।
প্রথম দুই টেস্টেই হারা ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার দিন শেষ করেছে রান ৩ উইকেটে ৬৮ রান নিয়ে। স্বাগতিকরা এখনও পিছিয়ে ১৯৫ রানে।
ক্যামেরন গ্রিনের চোটে সুযোগ পাওয়া মার্শ ১১৮ বলে ১৭ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ১১৮ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান আসে ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে। পঞ্চম উইকেটে এই দুজনে গড়েন ১৫৫ রানের জুটি।
গত ডিসেম্বরের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে ৩৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার মার্ক উড। দুর্দান্ত গতিতে টালমাটাল করে দেন তিনি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইন আপ। ৯০ মাইল ছাড়ান তিনি নিয়মিতই, ৯৪-৯৫ মাইল গতির গোলাও বের হয় তার হাত থেকে।
এই নিয়ে ক্যারিয়ারে তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথমবার এই স্বাদ পেলেন ৩৩ বছর বয়সী পেসার। গত বছরের মার্চের পর সাদা পোশাকে নেমে ৭৩ রানে ৩ উইকেট নেন আরেক পেসার ক্রিস ওকস।
লিডসে উইকেটে ঘাস আছে যথেষ্ট। সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। টস জিতে বোলিং নিতে তাই ভাবতে হয়নি ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকসকে। পেসারদের হাত ধরে শুরুটাও তাদের হয় দারুণ।
যদিও ম্যাচের প্রথম বলে স্টুয়ার্ট ব্রডকে স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে পঞ্চম বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে আলগা শটে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি।
টেস্ট এই নিয়ে ১৬ বার ব্রডের বলে আউট হলেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন উসমান খাওয়াজা ও মার্নাস লাবুশেন। তবে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। ১৫২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে খাওয়াজা বোল্ড করে ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন উড।
দুর্দান্ত প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ৩ মেডেনে ২ রান দিয়ে গতিময় এই পেসার নেন একটি উইকেট।
থিতু হয়েও ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ হন লাবুশেন। ওকসের দারুণ ডেলিভারিতে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি ৫৮ বলে ২১ রান করে।
শততম টেস্ট খেলতে নামা স্টিভেন স্মিথ ফিরতে পারতেন ৪ রানে, তবে কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি কিপার জনি বেয়ারস্টো। জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি স্মিথ। লাঞ্চের আগে তাকে কট বিহাইন্ড করে ফেরান ব্রড।
তার আগের ওভারে আউট হতে পারতেন হেডও। ৯ রানে তার ক্যাচ নিতে পারেননি বেয়ারস্টো।
এরপর দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে রুটের হাতে মার্শের ওই জীবন পাওয়া। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান তিনি। ২ ছক্কা ও ৬ চারে ফিফটি করেন ৫৯ বলে। হেডের সঙ্গে তার জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১১৮ বলে।
৮৯ থেকে স্পিনার মইন আলিকে চার এবং দুই বল পর ছক্কা মেরে ৯৯ রানে পৌঁছে যান মার্শ। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১০২ বলে পূর্ণ করেন নিজের তৃতীয় টেস্ট শতক।
চা-বিরতির আগে মার্শকে স্লিপে জ্যাক ক্রলির ক্যাচ বানিয়ে বড় জুটি ভাঙেন ওকস। বিরতির পর হেডকেও স্লিপের ক্যাচ বিদায় করেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শেষ ৪ উইকেটই নেন উড।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারে বেন ডাকেটকে হারায় ইংল্যান্ড। তাকে কট বিহাইন্ড করে ফেরানো প্যাট কামিন্স নিজের পরের ওভারে বিদায় করেন হ্যারি ব্রুককে। প্রথমবার তিন নম্বরে নেমে তিনি করেন ৩ রান, ক্যাচ দেন স্লিপে।
এরপর জো রুটের সঙ্গে দলের স্কোর পঞ্চাশ পার করেন ক্রলি। আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ক্রলিকে ফিরিয়ে দেন মার্শ। ৩৯ বলে ৩৩ রান করে ইংলিশ ওপেনার ধর পড়েন প্রথম স্লিপে।
বেয়ারস্টোকে (১*) দিনের বাকিটা কাটিয়ে দেন রুট (১৯*)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৬০.৪ ওভারে ২৬৩ (ওয়ার্নার ৪, খাওয়াজা ১৩, লাবুশেন ২১, স্মিথ ২২, হেড ৩৯, মার্শ ১১৮, কেয়ারি ৮, স্টার্ক ২, কামিন্স ০, মার্ফি ১৩, বোল্যান্ড ০*; ব্রড ১১.৪-০-৫৮-২, রবিনসন ১১.২-২-৩৮-০, উড ১১.৪-৪-৩৪-৫, ওকস ১৭-১-৭৩-৩, মইন ৯-১-৪০-০)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৯ ওভারে ৬৮/৩ (ক্রলি ৩৩, ডাকেট ২, ব্রুক ৩, রুট ১৯*, বেয়ারস্টো ১*; স্টার্ক ৭-২-১৮-০, কামিন্স ৬-১-২৮-২, বোল্যান্ড ৩-০-৭-০, মার্শ ৩-১-৯-১)
