০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্যারিবিয়ান বোর্ডকে আর্থিক সহায়তা করে হলেও টেস্ট খেলতে চায় ইংল্যান্ড

ব্যয় সংকোচনের কারণে সম্প্রতি ক্রিকেটারদের বেতন কমানোসহ বেশ কিছু সিরিজ ও টুর্নামেন্ট বাতিল করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 10:19 AM

Updated : 06 Oct 2026, 10:19 AM

আগামী বছর ইংল্যান্ড নারী দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট ম্যাচটি খেলতে মরিয়া ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। প্রয়োজনে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আর্থিক সহায়তা করে হলেও টেস্ট ম্যাচটি খেলার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবে তারা।

আগামী এপ্রিল ও মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ইংলিশ মেয়েদের। এরপরই ইংলিশ গ্রীষ্মে আছে অ্যাশেজ সিরিজ। মূলত অ্যাশেজের প্রস্তুতির জন্যই ক্যারিবিয়ায় টেস্ট ম্যাচটি যে কোনো মূল্যে খেলতে চায় ইংল্যান্ড।

আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে থাকা টেস্ট ম্যাচটি এখনও বাতিল করা হয়নি। তবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপের কারণে টেস্ট ম্যাচটি ঘিরে শঙ্কার জায়গা আছেই।

ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছেলে ও মেয়েদের ঘরোয়া কিছু টুর্নামেন্টও বাতিল করা হয়েছে। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী টেস্ট ম্যাচটিও বাতিল করেছিল তারা, সেই সিরিজে সাদা বলের ক্রিকেটের ম্যাচগুলি হয়েছিল ঠিকই।

সিরিজ ও টুর্নামেন্টগুলি বাতিল করার পেছনে একটি বড় কারণ বিমান ভ্রমণের খরচও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিটি দ্বীপই আসলে আলাদা দেশ এবং ক্রিকেট বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো জায়গার চেয়ে এটি আলাদা। দ্বীপগুলোর মধ্যে ভ্রমণের খরচ অনেক। সম্প্রতি ব্যয় কমানোর ঘোষণার সময় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানায়, গত ১৫ বছরে অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণে তারা ৮ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

সব মিলিয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নারী টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করে দেওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে আপাতত তেমন কিছু হবে না বলেই মনে করেন ইসিবির চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেন।

“আমি আশা করি না এম হবে। এটি বাতিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আশা করি, টেস্ট ম্যাচটি হবে।”

টেস্ট ম্যাচটি আয়োজনের জন্য ইসিবি কিছু অর্থায়ন করতে পারে কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে থম্পসন বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা বিষয়টি “খতিয়ে দেখবেন।”

দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ক্ষেত্রে সাধারণত সফরকারী দলের ভ্রমণ ও আবাসনের মতো আনুষঙ্গিক খরচ বহন করে থাকে স্বাগতিক বোর্ড।

অন্য দেশের বোর্ডকে আর্থিক সহায়তার সাম্প্রতিক নজির ইংল্যান্ডের বোর্ডের আছে। গত বছর ইংল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ খেলতে জিম্বাবুয়ের ছেলেদের দলের সফরে তাদেরকে ‘টুরিং ফি’ দিয়েছিল ইসিবি।

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ইসিবির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। ক্যারিবিয়ান বোর্ডের প্রতি সেই দায়িত্ব অনুভব করছেন ইসিবি চেয়ারম্যান।

“আমরা চাই টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হোক। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অ্যাশেজ সিরিজে আমাদের প্রথম নারী ম্যাচটি হেডিংলি টেস্ট, তাাই লাল বলের ক্রিকেটে আমাদের ভালো প্রস্তুতি ম্যাচ প্রয়োজন। কোথাও না কোথাও খেলতেই হবে আমাদের এবং আমরা চাইব সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজে হোক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতি আমাদের সকলের গভীর সহানুভূতি রয়েছে, আমরা সবাই একটি সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতি দেখতে চাই। তাদের কিছু স্বতন্ত্র প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং আমি আশা করি আইসিসি ও অন্যদের মাধ্যমে আমরা এর একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারব।”

ছেলেদের অ্যাশেজে শুধু টেস্ট ম্যাচ হলেও নারী অ্যাশেজ সিরিজ ধরা হয় তিন সংস্করণ মিলিয়েই, যেখানে টেস্ট ম্যাচ হয় একটি।

নারী টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াই মূলত নিয়মিত টেস্ট খেলে থাকে। সেটিও বছরে একটি-দুটির বেশ নয়। ভারত সম্প্রতি একটু নিয়মিত টেস্ট খেলতে শুরু করেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবশেষ টেস্ট খেলেছে ২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এর আগে সবশেষটি ছিল সেই ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ড সবশেষ খেলেছে ২০০৪ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৪ সালে তিনটি খেললেও এরপর আর খেলেনি।

শ্রীলঙ্কা একটি টেস্টই খেলেছে, সেটিও ১৯৯৮ সালে। আয়ারল্যান্ডের একমাত্র টেস্ট ২০০৪ সালে। বাংলাদেশ ৫ বছর আগে টেস্ট মর্যাদা পেলেও এখনও কোনো ম্যাচ খেলেনি।