স্মিথ-ওয়ার্নারের অধিনায়ক হতে বাধা দেখছেন না ফিঞ্চ

আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের খোঁজে আছে অস্ট্রেলিয়া।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 11:50 AM
Updated : 10 Sept 2022, 11:50 AM

ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অ্যারন ফিঞ্চের অবসর ঘোষণার পর এখন নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। আলোচনায় উঠে আসছে কয়েক জনের নাম। কার কাঁধে উঠবে এই সংস্করণে নেতৃত্বের দায়িত্ব? বিদায়ী অধিনায়ক ফিঞ্চের নিজের ব্যক্তিগত কোনো পছন্দ নেই। তবে চার বছর আগে বল টেম্পারিং কাণ্ডে নেতৃত্ব হারানো স্টিভেন স্মিথ কিংবা ডেভিড ওয়ার্নারের অধিনায়ক হতে কোনো বাধা দেখছেন না তিনি।

কেয়ার্নসে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের আগের দিন এই সংস্করণ থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ফিঞ্চ। এই ম্যাচই হতে যাচ্ছে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার শেষ। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন নতুন অধিনায়কের খোঁজে আছে অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বল টেম্পারিং কাণ্ডে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব হারান তখনকার অধিনায়ক স্মিথ। সে সময় তাকে ও সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছর নিষিদ্ধ করা হয়। নেতৃত্বে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পান স্মিথ। আর আজীবনের জন্য ওয়ার্নারের অধিনায়কত্ব নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে গত বছরের নভেম্বরে প্যাট কামিন্সকে নতুন টেস্ট অধিনায়ক করার পাশাপাশি স্মিথকে করা হয় সহ-অধিনায়ক। কামিন্স কোভিড আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসায় অ্যাশেজের অ্যালিডেইড টেস্ট থেকে ছিটকে পড়লে ওই ম্যাচে দলকে নেতৃত্বও দেন স্মিথ।

টেস্টের নেতৃত্ব পাওয়ার পর কামিন্স স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন, সাদা বলে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নেই। ফিঞ্চ অবশ্য বিশ্বাস করেন, একাধিক ভূমিকায় কাজ করার সামর্থ্য আছে কামিন্সের। তবে ২০১৮ সালের শুরু থেকে এই পেসার অস্ট্রেলিয়ার ৬৫ ওয়ানডের ২৪টিই খেলতে পারেননি। তার ওয়ানডের নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তাই কমই।

নতুন অধিনায়কের বিবেচনায় আরেক প্রার্থী হতে পারেন অ্যালেক্স কেয়ারি। এর আগে ওয়ানডে দলে সহ-অধিনায়কও ছিলেন তিনি। গত বছর ফিঞ্চের অনুপস্থিতিতে তিনটি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। তবে টি-টোয়েন্টি দলে তিনি নিয়মিত না হওয়ায় এই সংস্করণ থেকে ফিঞ্চ অবসর নেওয়ার আগে তিন জন আলাদা অধিনায়কেরই প্রয়োজন হবে অস্ট্রেলিয়ার।

মিচেল মার্শ ও অ্যাডাম জ্যাম্পাও সম্ভাব্য ওয়ানডে অধিনায়ক হতে পারেন। তবে তাদের কারও স্মিথের মতো নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নেই। ২০১৮ সালে বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৩৫ টেস্ট, ৫১ ওয়ানডে ও ৮ টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

নতুন অধিনায়ক বাছাইয়ের জন্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচের পর পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজের আগে দুই মাস সময় পাবেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা।

ওয়ানডে থেকে অবসর ঘোষণার পর ফিঞ্চ বললেন, বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা স্মিথের অধিনায়ক হওয়ার পথে কোনো বাধা হবে না বলে মনে করেন তিনি।

“আমি মনে করি না (এটি কোনো সমস্যা হবে)। কোভিড সংক্রান্ত কারণে প্যাট ছিটকে যাওয়ার পর সে অ্যাডিলেইডে টেস্ট ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছিল। তাই আমি মনে করি, পুরনো সেসব সমস্যা মিটে গেছে।”

৩৫ বছর বয়সী ওয়ার্নার গত মাসে বিগ ব্যাশের দল সিডনি থান্ডারের সঙ্গে চুক্তি করার পর থেকে তার নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আলোচনা চলছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে। সিডনি থান্ডারও নতুন অধিনায়কের খোঁজে আছে। দলটির সঙ্গে চুক্তি করার দিন ওয়ার্নার বলেছিলেন, বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে তৈরি আছেন তিনি।

ফিঞ্চও বললেন, ওয়ার্নারের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তার ওপেনিং সঙ্গী বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

“ওয়ার্নার যখন অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পেয়েছিল, তখন তার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমি কয়েকটি ম্যাচে খেলেছি। (অধিনায়ক হিসেবে) ওই ম্যাচগুলোয় সে অসাধারণ করেছিল। সে দুর্দান্ত কৌশলী অধিনায়ক এবং সেই সময়ে ছেলেরা তার নেতৃত্বে খেলতে পছন্দ করত।”

“আমি কি (তার নিষেধাজ্ঞার) প্রত্যাহার দেখতে চাই? হ্যাঁ, অবশ্যই। একজন খেলোয়াড় হিসেবে সে যা দিতে পারে, শুধু এজন্যই নয়, বরং আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের কোচিং করানো ও সাহায্য করার জন্য তার এগিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক