ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে এবার ‘সম্মান’ পাওয়ার আশায় হার্টলি

ইংল্যান্ডের এই স্পিনার মনে করছেন, তার ওপর আক্রমণ চালাতে এবার কিছুটা হলেও ভাবতে বাধ্য হবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 12:47 PM
Updated : 30 Jan 2024, 12:47 PM

প্রথম বলে ছক্কা খেয়ে শুরু টম হার্টলির টেস্ট ক্যারিয়ার। এরপর তো তার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঝড়। তাকে পেলেই যেন তেতে ওঠেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। প্রথমে কিছুটা ভড়কে গেলেও ঠিকই ঘুরে দাঁড়ান ইংলিশ স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে চমৎকার বোলিংয়ে ভারতের মাটিতে ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জয়ে রাখেন বড় অবদান। নায়কোচিত পারফরম্যান্সের পর তার মনে হচ্ছে, এবার তাকে কিছুটা হলেও সম্মান দেখাবেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্ট দিয়ে এই সংস্করণে পথচলা শুরু করেন হার্টলি। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করে বেশ উৎফুল্ল ছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই স্বস্তি উবে যায় বল হাতে নিয়ে। প্রথম বলেই তাকে ছক্কায় উড়িয়ে টেস্টের আঙিনায় স্বাগত জানান ইয়াশাসবি জয়সওয়াল।

নিজের প্রথম ওভারে আরেকটি ছক্কা খেয়ে হার্টলি দেন ১২ রান। দুই চার হজম করা দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৩ রান। এমন বাজে শুরুর পরও তার ওপর আস্থা হারায়নি ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথম দিন নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন তিনি। ৯ ওভার করে দিন শেষে ৬৩ রান দিয়ে বাঁহাতি এই স্পিনার ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রথম ইনিংসে ২৫ ওভারে ১৩১ রান দিয়ে দুই শিকার ধরেন তিনি।

টেস্ট অভিষেকে এমন বাজে অভিজ্ঞতার পর ভেঙে পড়েননি ২৪ বছর বয়সী হার্টলি। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ভারতের ইনিংস একাই গুঁড়িয়ে দেন তিনি। স্বাগতিকদের ২৮ রানে হারানোর পথে ৬২ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টেস্ট অভিষেকে ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের সেরা বোলিং এটি। 

বিবিসি স্পোর্টের সঙ্গে আলাপকালে হার্টলি বলেন, শুরুর দিকে মারার জন্য ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তাকে বেছে নেওয়ায় কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তিনি। 

“প্রথম দিন আমি খুবই চাপে ছিলাম। দলকে কিছু রান এনে দিতে পেরে, একটি ছক্কা মেরে এবং কিছু কাজ ঠিকঠাক করতে পেরে একই সঙ্গে অনেক খুশিও ছিলাম।” 

“এরপর ছিল হতাশার মুহূর্ত, তারা আমাকে মারার জন্য বেছে নিয়েছিল। আমি ভাবছিলাম, পুরো সিরিজজুড়েই এমনটা হতে চলেছে কিনা। ক্যারিয়ারে অনেক ছক্কা হজম করেছি, তাই (নেতিবাচক) ভাবনাগুলো আমার ভেতর কাজ করতে দেইনি। আমার মানসিকতা এমন যে, নিজেকে ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না। আমি লড়াই করতে এবং পাল্টা আঘাত করতে চেয়েছি।”

প্রথম ইনিংসে হার্টলির ওপর তাণ্ডব চালানো জয়সওয়ালকে দ্বিতীয়ভাগে টিকতেই দেননি ইংলিশ স্পিনার। ভারতের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানই ছিল তার শিকার। শেষ দিকে প্রতিপক্ষের জমে ওঠা জুটিগুলো ভাঙেন তিনিই। শেষে মোহাম্মদ সিরাজকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে ভাসান জয়ের আনন্দে।

হার্টলির মতে, এবার তার ওপর আক্রমণ চালাতে কিছুটা হলেও ভাবতে বাধ্য হবেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। দুয়েকটি টেস্ট খেলার আশা নিয়ে ভারত সফরে আসা এই স্পিনার এবার খেলতে চান সব ম্যাচেই। 

“চতুর্থ ইনিংস আমি যা করেছি, আশা করি এখন তারা আমার নামের প্রতি আরেকটু সম্মান দেখাবে এবং এখান থেকে এগিয়ে যাব।”

“এখানে এসে আমি কেবল দুয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ খুঁজছিলাম। এখন মনে হয় আমার ভূমিকা বড়, তবে আমি এর জন্য প্রস্তুত। আমি আরও (ম্যাচ খেলতে) চাই।”

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে আগামী শুক্রবার, বিশাখাপাত্নামে।