‘আফিফ পাওয়ার হিটার নয়, সে পাঞ্চার’

যে কারও ব্যাটিংয়ে পাওয়ার হিটিংয়ের ফর্মূলা চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান কোচ জুলিয়ান উড।

ক্রীড়া প্রতিবেদকচট্টগ্রাম থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Jan 2023, 12:37 PM
Updated : 12 Jan 2023, 12:37 PM

পাশাপাশি নেটে ব্যাট করছিলেন ইরফান শুক্কুর ও আফিফ হোসেন। নিজের ব্যাটিংয়ের ফাঁকে ইরফানের দিকে তাকিয়ে আফিফ হঠাৎ বললেন, “মিরপুরের সব প্রতিশোধ এখানে নিয়ে নেন ভাই…‍!” ইরফানও যেন মজা পেয়ে গেলেন। আগ্রাসী শট খেলতে থাকলেন। আফিফ তো আগে থেকেই শট খেলছিলেন। নেটে ৩০ মিনিট ধুন্দুমার ব্যাটিং চলল দুজনের।

মিরপুরের উইকেটে ম্যাচে যেমন, তেমনি নেটেও শট খেলতে অনেক ভাবতে হয় ব্যাটসম্যানদের। অনেক সময়ই থ্রো ডাউন ছাড়া হাত খুলে খেলার অনুশীলন তাদের হয়ে ওঠে না। তবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তুলনামূলক ভালো উইকেটে প্রথম দিন অনুশীলনে নেমে বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা।

আফিফ অবশ্য বরাবরই আগ্রাসী থাকতেই পছন্দ করেন। এই বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলে তিনি কোচ হিসেবে পেয়েছেন জুলিয়ান উডকে, বিশ্ব ক্রিকেটে যার পরিচিতি ‘পাওয়ার হিটিং কোচ’ হিসেবে। পেশির জোরে শট খেলা নিয়ে কাজ করা ও উন্নতির সুযোগ তাই তার আছে।

যদিও সেটিকে খুব জরুরি মনে করছেন না জুলিয়ান উড। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চট্টগ্রামের কোচ ব্যাখ্যা করলেন, আফিফের ব্যাটিংয়ের ধরন পাওয়ার হিটিংয়ের চেয়ে আলাদা।

“আফিফ ‘প্রপার’ ক্রিকেটার। নিজের শক্তির জায়গায় থেকেই খেলা উচিত তার। তার ক্ষেত্রে ‘পাওয়ার হিটিং’ ধরনের কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সে (আফিফ) পাওয়ার হিটার নয়, সে পাঞ্চার।”

“হিটিং পাওয়ারসমৃদ্ধ ক্রিকেটার আমাদের আছে উসমান (খান)। আবার আফিফের মধ্যে আছে স্কিল ও টাচসহ পাঞ্চিং পাওয়ার। দুটি ধরন আলাদা। উসমানের তুলনায় আফিফ বেশি স্কিলফুল। উসমান হলো পাওয়ারফুল। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের স্কোয়াডে পাওয়ার, স্কিল ও টাচের দারুণ ভারসাম্য রয়েছে।”

সাগরিকায় বৃহস্পতিবার আফিফ-শুক্কুর ছাড়াও চট্টগ্রামে দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুভাগত হোম, ফরহাদ রেজা, জিয়াউর রহমানরাও বেশ আক্রমণাত্মক ঢঙয়ে ব্যাটিং করেন নেট সেশনে। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের ১৭৮ রান তারা পেরিয়ে গেছে স্রেফ ১ উইকেট হারিয়েই। অথচ প্রথম ম্যাচে এই দলই গোটা ২০ ওভার খেল মাত্র ৮৯ রান তুলে হেরে গিয়েছিল ম্যাচ।

উডের মতে, দুই ম্যাচের মূল পার্থক্য ছিল মানসিকতায়।

“আমি ছেলেদের মন খুলে খেলার স্বাধীনতা দিয়েছি। কোনো ভয় না পেয়ে খেলতে অনুপ্রাণিত করছি। প্রথম ম্যাচে ছেলেরা একদম কাঁচুমাচু ছিল। তাদেরকে দেখে খুব ভীত মনে হয়েছে। এরপর আমাদের আলোচনায় বলেছি মাঠে গিয়ে মন খুলে যেন ব্যাট করে। এই চেষ্টায় আউট হয়ে গেলেও সমস্যা নেই। আমি কিছু বলব না। কিন্তু উইকেটে গিয়ে ব্লক করে করে বল নষ্ট করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।” 

“চেষ্টা করছি তাদেরকে নিজের মতো খেলতে দিতে। এতে কী হতে পারে তা সেদিন আমরা দেখেছি। উসমানকে (খান) আমরা স্বাধীনতা দিয়েছি এবং সে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছে। ব্যাটিং গ্রুপ ধরে করার কিছু নেই। ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতানো যায়। বোলারদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাদেরকে গ্রুপ ধরে ভালো বোলিং করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের বলা আছে, যে কেউ গিয়ে ম্যাচ জিতে এলেই হবে। এমনকি ১০ বল পেলেও ৩০ রান করে ফেলো। সেটি দুর্দান্ত হবে।”

চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম। দুই দলই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে একটি করে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক