ব্রিটস্কির সেঞ্চুরি ও মহারাজের স্পিনে এগিয়ে গেল দ. আফ্রিকা
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি চমৎকার ফিল্ডিংও করেছে স্বাগতিকরা।
শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে রান তাড়ায় দলকে টানছিলেন ম্যাট রেনশ। তখনও জয় বহুদূরের পথ হলেও, অসম্ভব ছিল না। তার ব্যাটেই মূলত বেঁচে ছিল অস্ট্রেলিয়ার আশা। কিন্তু অবিশ্বাস্য এক মুহূর্তের জন্ম দিয়ে প্রতিপক্ষের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিলেন মার্কো ইয়ানসেন। ডিপ মিডউইকেট থেকে ডানদিকে অনেকটা দৌড়ে এসে এক হাতের চোখধাঁধানো ক্যাচে রেনশকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। পরের উইকেটগুলো দ্রুত নিয়ে দারুণ এক জয়ের আনন্দে মাতল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ডারবানে বৃহস্পতিবার প্রথম ওয়ানডেতে ৬৭ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৯৭ রান করে সফরকারীদের ২৩০ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
জিম্বাবুয়ে সফরে সেঞ্চুরি করা রেনশ যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার আশার প্রদীপও জ্বলছিল। আউট হওয়ার আগের বলেও জেরল্ড কুটসিয়াকে চার মারেন তিনি। তখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৮৩ বলে ৮৩ রান, হাতে উইকেট চারটি। কিন্তু পরের ৩০ বলে ১৫ রান তুলতে অলআউট হয়ে যায় তারা।
এদিন ম্যাচে মোট চারটি ক্যাচ নেন ইয়ানসেন। বল হাতে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডকে ফেরান তিনি। আর ব্যাট হাতেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সাতে নেমে খেলেন চারটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৫৯ বলে ৭৫ রানের ইনিংস।
তবে ১৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ম্যাথু ব্রিটস্কি। দুটি ছক্কা ও ১৪টি চারে ১১২ রানের ইনিংসটি সাজান এই সংস্করণে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
দলের জয়ে অবদান কম নয় মহারাজের। স্রেফ ২০ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। আরেক বাঁহাতি স্পিনার বিয়ন ফোরটান ও পেসার কর্বিন বশ ধরেন দুটি করে শিকার।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ওভারে টনি ডি জর্জিকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন জশ হেইজেলউড। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই কুইন্টন ডি কককে কট বিহাইন্ড করেন ন্যাথান এলিস।
২৯ রানে দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা স্বাগতিকরা সামাল দেয় টেম্বা বাভুমা ও ব্রিটস্কির ব্যাটে। বাভুমাকে (৪টি চারে ৩০) কট বিহাইন্ড করে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। থিতু হয়ে এই লেগ স্পিনারের বলে ফেরেন রায়ান রিকেলটনও।
দুর্দান্ত ফিরতি ক্যাচে অভিজ্ঞ ডেভিড মিলারকে ফেরান এলিস। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্তে নিজের মতো খেলে যান ব্রিটস্কি। চার মেরে রানের খাতা খোলা ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৫০ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
ব্রিটস্কিকে সঙ্গ দেন ইয়ানসেন। দুইজনের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান। তাদের যুগলবন্দিতে পৌনে তিনশতে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
জ্যাম্পাকে তিন বলে দুটি ছক্কা হাঁকান ইয়ানসেন। পরে স্টার্ককে ছক্কা ও চার মারেন তিনি। আরেক প্রান্তে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে ছুটতে থাকেন ব্রিটস্কি। স্টার্ককে চার মেরে ৯৮ রানে পৌঁছে যান তিনি। পরে আরও দুটি সিঙ্গেল নিয়ে পা রাখেন কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের উষ্ণ ঠিকানায়। ওই ওভারের শেষ বলে অল্পের জন্য বেঁচে যান ইয়ানসেন। ওই ডেলিভারিতেই এক রান নিয়ে ৪৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।
এলিসের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান ইয়ানসেন। রান আউটে কাটা পড়েন ব্রিটস্কি। তাতে ভাঙে ৮১ বল স্থায়ী ১০৭ রানের জুটি। পরের ওভারে বিদায় নেন ইয়ানসেনও।
রান তাড়ায় দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন মিচেল মার্শ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। তৃতীয় ওভারে ইয়ানসেনকে মারেন দুটি ছক্কা।
এক ওভার পর ইয়ানসেনের ওপর ফের চড়াও হন মার্শ। টানা দুই চারের পর ওড়ান ছক্কায়। দীর্ঘক্ষণ দর্শক হয়ে থাকা ট্রাভিস হেড এক ওভারে চারটি চার মারেন বশকে। এই পেসারকে ছক্কায় উড়িয়ে ৩১ বলে ফিফটি করেন মার্শ।
মহারাজের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে দশম ওভারে থামেন মার্শ। ছয়টি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৩৬ বলে ৬০ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ৯০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।
কয়েক ওভার পর ইয়ানসেনের বলে ডিপ থার্ডম্যানে ধরা পড়েন হেড (৫টি চারে ৩৬)। পরের ওভারে ফোরটানকে রিভার্স সুইপ করে ফেরেন জশ ইংলিস। ভালো শুরুটা কাজে লাগাতে পারেননি কুপার কনোলিও। ফোরটানের বলে লং-অনে মিলারের দারুণ ক্যাচে ফেরেন তিনি।
দলে ফেরা ক্যামেরন গ্রিন ও অভিষিক্ত জ্যাক এডওয়ার্ডস পারেননি দুই অঙ্কে যেতে। এরপর তো কুটসিয়ার ওভারে রেনশকে বিদায় করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ইয়ানসেন।
দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী রোববার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ২৯৭/৮ (ডি কক ১৪, ডি জর্জি ০, বাভুমা ৩০, ব্রিটস্কি ১১২, রিকেলটন ২৭, মিলার ৯, ইয়ানসেন ৭৫, বশ ৯*, কুটসিয়া ৬, ফোরটান ১*; স্টার্ক ১০-০-৬-০, হেইজেলউড ১০-২-৫০-১, এলিস ১০-০-৫৭-৩, এডওয়ার্ডস ১০-০-৫৬-০, জ্যাম্পা ৭-০-৫০-২, কনোলি ১-০-৭-০, রেনশ ২-০-১১-০)
অস্ট্রেলিয়া: ৪১.২ ওভারে ২৩০ (মার্শ ৬০, হেড ৩৬, কনোলি ৩৮, ইংলিস ৩, রেনশ ৪৪, গ্রিন ৫, এডওয়ার্ডস ৫, স্টার্ক ১৬, এলিস ৪, জ্যাম্পা ৭, হেইজেলউড ০*; ইয়ানসেন ৭-০-৬৪-১, কুটসিয়া ৮-১-৪০-১, বশ ৯-০-৬৭-২, মহারাজ ৯.২-২-২০-৪, ফোরটান ৮-০-৩৪-২)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ম্যাথু ব্রিটস্কি
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০তে এগিয়ে
