২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বোর্ডের চুক্তি হারালেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতি মিলারের

সুযোগ পেলে যতদিন সম্ভব জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চান ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

বোর্ডের চুক্তি হারালেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতি মিলারের

ডেভিড মিলার। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 11:10 PM

Updated : 22 Sep 2026, 11:10 PM

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) চুক্তি থেকে বাদ পড়ায় ডেভিড মিলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। তবে চুক্তি হারানোয় হতাশ হলেও, যতদিন সম্ভব জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

মিলারকে বাদ দিয়ে গত এপ্রিলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে সিএসএ। এর আগের মৌসুমে ‘হাইব্রিড’ চুক্তিতে ছিলেন তিনি। এই ধরনের চুক্তিতে খেলোয়াড়রা কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশ নিতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান এবং একই সঙ্গে এটি তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে মঙ্গলবার ডারবানে মিলার স্বীকার করেন যে, ঘরের মাঠে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে চুক্তি হারানোয় তিনি হতাশ হয়েছিলেন।

“ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার চুক্তিতে আমাকে রাখা হয়নি; বিষয়টি কখনোই সুখকর নয়, তবে এটি জীবনেরই একটি অংশ। আমি এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে চাই এবং এজন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছি; এখন শুধু প্রয়োজন ঠিকভাবে যোগাযোগ রাখা বা বোঝাপড়া নিশ্চিত করা।”

গত বছর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের একশ বলের প্রতিযোগিতা ‘দা হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে খেলার জন্য মিলারকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বলের সিরিজ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল এবং ইংল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজে খেলার ব্যাপারে তিনি সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে পারেননি।

এরপর গত ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এবং এই বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অংশ ছিলেন মিলার। তারপর থেকে আইপিএল, দা হান্ড্রেড ও ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন তিনি।

এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বললেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজগুলোয় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন।

“আমি সেরাদের বিপক্ষে খেলতে চাই। বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষে খেলাটা আমি উপভোগ করি। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখাটা এমন এক বিষয়, যা আমি সবসময়ই চেয়েছি। আমার কাছে সবসময়ই দক্ষিণ আফ্রিকা অগ্রাধিকার পেয়েছে। যদিও আমি অনেক লিগে খেলেছি, তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার আকাঙ্ক্ষা আমার সবসময়ই ছিল এবং দেশের হয়ে খেলতে আমি ভালোবাসি। সেই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

“শুধু আমার চুক্তিটি আর নেই- পরিস্থিতিটা মূলত এমনই, তবে আমি এখনও খেলার জন্য প্রস্তুত। তাই যদি দলে ডাক পাই, তাহলে অবশ্যই খেলব।”

মিডল অর্ডারে ম্যাথু ব্রিটস্কি ও ট্রিস্টান স্টাবসের মতো ক্রিকেটাররা এখন ভালো করছেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও নিয়মিত খেলছেন। তাই মিলার জানেন, অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একাদশে তার জায়গা নিশ্চিত নয়।

“বর্তমানে দলে নিঃসন্দেহে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে এবং অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত এবং এই প্রতিযোগিতা থাকাটা দারুণ ব্যাপার। এটি দলের সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তরুণদের সঙ্গে সাধ্যমতো অবদান রাখতে চাই এবং সত্যি বলতে, এখন আমি তাদের থেকেও অনেক কিছু শিখছি।

“অনেক খেলোয়াড়ই নিজেদের দাবি জোরালভাবে তুলে ধরছে। আমার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো- নিজের জন্য যা কার্যকর সেটাই করা, নিজেকে সেরা সুযোগটি দেওয়া, ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া। আমার ক্যারিয়ারে যা কিছু কাজে দিয়েছে, সেগুলোর ওপরই আস্থা রাখতে হবে। নিজের ওপর বাড়তি চাপ নেওয়া যাবে না, কারণ আমি কী করতে পারি, তা জানি।”

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (চার হাজার ৬১১) মিলারের, তার ওপরে আছেন কুইন্টন ডি কক (সাত হাজার ১২৩ রান)। তবে মিলারের চেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ (১৭৮টি) খেলা কোনো ক্রিকেটার এখন দলে নেই।