০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

তিন স্পিনার কেন, তিন পেসার কেন নয়

তিন পেসারকে তৈরি রাখতে বলা হলেও শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত বদলে খেলানো হয় দুই পেসার, তাসকিন আহমেদ বললেন, আরেকজন পেসার থাকলে ভালো হতো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 07:13 PM

Updated : 05 Nov 2026, 07:13 PM

প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল তিন পেসারকে। কিন্তু উইকেট দেখার পর বদলে গেল সিদ্ধান্ত। দুই পেসার নিয়ে একাদশ সাজাল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলার শুরুর একটু পর থেকেই প্রশ্নটা মাথাচাড়া দিতে থাকল, আরেকজন পেসার কেন নেওয়া হলো না! দিনজুড়ে সেই প্রশ্ন উচ্চকিত হলো আরও। দিনের খেলা শেষে দেশের অভিজ্ঞতম পেসার তাসকিন আহমেদও বললেন, আরেকজন পেসার প্রয়োজন ছিল।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিন সকালে দুর্দান্ত বোলিং করেন এই তাসকিন ও তার জুটির সঙ্গী হাসান মাহমুদ। নতুন বলে দুজন মিলে তিন উইকেট নিয়ে নাড়িয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার। কিন্তু পরে নড়বড়ে হয়ে পরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণই।

দুই পেসার তো আর টানা লম্বা সময় বোলিং করে যেতে পারেন না। তৃতীয় কোনো পেসারও ছিল। উইকেটে পেসারদের সহায়তা ও বল নতুন থাকতেই আক্রমণে আনতে হয় স্পিন। স্পিনাররা পারেননি সফল হতে।

দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বললেন, ওই সময়টায় আরেকজন পেসারের অভাব অনুভব করেছেন তারা।

“হ্যাঁ, এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে, আরেকজন সিমার থাকলে হয়তো ভালো হতো। কারণ সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা যেটা আমরা যথাযথ কাজে লাগাতে পেরেছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল যে আরেকজন সিমার থাকলে হয়তো আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। আমাদের বল তখন যেভাবে মুভ করতেছিল, আরও দুই-একটা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

“তবে উইকেট মূলত ব্যাটিংয়ের জন্য অনেক ভালো। পরে তো সবাই দেখলেন ও বুঝতেও পারলেন যে ব্যাটিং করা সহজ। শুরুতে আরেকজন সিমার থাকলে ভালো হতো আর কী।”

উইকেট পরে ব্যাটিং সহায়ক হয়ে গেছে, এতে কোনো সংশয় নেই। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৩১ রানের জুটি গড়েন আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম। অভিষেক ইনিংসে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন উইকহ্যাম। পরে জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস মিলে গড়েন আরেকটি বড় জুটি। আলোকস্বল্পতায় ২০ ওভার আগে খেলা শেষ হওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ২৩৫। জাঙ্গু অপরাজিত ১১১ রানে।

পুরোনো বলে ফিরে উইকহ্যামের উইকেটও নিয়েছেন হাসান। সারাদিনে কোনো উইকেট পাননি স্পিনাররা। যদিও প্রথম দিনের উইকেটে স্পিনারদের জন্য সহায়তা খুব একটা থাকে না। তার পরও চোখে পড়ার মতো ব্যাপার ছিল, স্পিনাররা রান কিছুটা আটকে রাখতে পারলেও ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলতে পারেননি একদমই। আরেকজন পেসার থাকলে কার্যকারিতা বেশি থাকত কি না, প্রশ্নটি যৌক্তিকভাবেই উঠছে।

তাসকিন জানালেন, শেষ সময়ে উইকেট দেখেই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বলে গেছে।

“আমাদের তিন ফাস্ট বোলারকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে হয়তো উইকেট দেখে শেষ মুহূর্তে এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত উইকেটে অনেকটা ঘাস ছিল, পরে যখন দেখেছে যে একটু শুষ্ক ধরনের উইকেট, তারপর হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পিনারের।”

তাসকিনের কথায় উঠে এলো, ম্যাচের শুরুর দিকের ফায়দা নেওয়া হবে নাকি পরের দিকের, সেই দ্বিধাই বড় প্রভাব রেখেছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।

“প্রথমত, দল নির্বাচন পুরোপুরিই টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। তারা আসলে উইকেট এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে যেটা চিন্তা করেছে, ওটা আসলে দলের সম্ভাব্য সেরাটা চিন্তা করেই করা হয়েছে। ম্যাচ মাত্র শুরু হলো, আজকে প্রথম দিন। উইকেট যে ধরনের, ম্যাচের তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে আসলে ম্যাচের ফলাফলের জন্য উপযুক্ত সময় আসবে। সেদিক থেকে এভাবে পরিকল্পনা করেছে যে, সেরা ফল বের করার ক্ষেত্রে স্পিনারদের সহায়তা লাগতে পারে।

“এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বেশিরভাগ সাফল্যে ফাস্ট বোলারদের ভূমিকাটা বেশি। স্পিনাররাও আমাদের ভালো, সন্দেহ নেই। কিন্তু, যেটা আসলে সকালের পরিস্থিতি এবং সব মিলিয়ে পুরো দিনের কথা মনে হয়েছে, আমার কাছেও ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, আরেকটা ফাস্ট বোলার কেউ থাকত দলে, এটা বোলিং ইউনিটের জন্য আরেকটু ভালো। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি সম্মান রেখে যেভাবে তারা দল নির্বাচন করেছে, এটা নিয়েই আমাদের লড়াই করে করতে হবে জেতার জন্য।’