০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জয়ের সেঞ্চুরি, রুয়েলের ৫ উইকেট

বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া মাহমুদুল হাসান জয় জাতীয় লিগ শুরু করলেন অপরাজিত শতরানে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 07:10 PM

Updated : 04 Oct 2026, 07:10 PM

এবারের জাতীয় লিগ মাহমুদুল হাসান জয়ের জন্য নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। আবার জাতীয় দলে ফেরার দাবি জানানোর সুযোগ। সেই অভিযানের শুরুটা দারুণ হলো তার। টেস্ট দল থেকে ছিটকে পড়া ওপেনার নতুন মৌসুম শুরু করলেন প্রথম ইনিংসেই দারুণ এক সেঞ্চুরি দিয়ে।

জাতীয় লিগের ২৮তম আসরের প্রথম সেঞ্চুরিও এটি। জয়ের সেঞ্চুরির দিনে শতরানের হাতছানি নিয়ে দিন শেষ করেছেন তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাদিকুর রহমান। তাদের সৌজন্যে চট্টগ্রামের শুরুটা হয়েছে দারুণ।

এবারের জাতীয় লিগের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের স্বাদ পেয়েছেন রুয়েল মিয়া। তার দল বরিশাল অবশ্য ধুঁকছে খুলনার বিপক্ষে। মিরপুরে ঢাকার বিপক্ষে এগিয়ে সুবিধেজনক অবস্থানে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। তরুণ অলরাউন্ডার চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান অবদান রেখেছেন ব্যাটে-বলে। সিলেট আর ময়মনসিংহের লড়াই জমে উঠেছে বেশ।

ঢাকা-রংপুর

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রংপুরের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩৪০ রানে। ঢাকা দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১২০ রানে।

৬ উইকেটে ২২৯ রান করা রংপুরকে টেনে নেন চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান। আলাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে আগের দিনের জুটি আরও টেনে নেন তিনি। ৩৭ রান করা আলাউদ্দিনের বিদায়ে ভাঙে ৬০ রানের জুটি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগের সাত ম্যাচে কখনও ৪০ ছাড়াতে না পারা রিজওয়ান এবার ২৪২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস।

শেষ জুটিতে স্বাধীন ইসলামকে নিয়ে ৩২ রান যোগ করেন আবু হাশিম (২৭*)।

ঢাকা ব্যাটিংয়ে নেমে ধাক্কায় খায় ইনিংসের প্রথম বলেই। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে ড্রাইভের চেষ্টায় কিপারের হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আউট হয়ে বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, শরীরী ভাষায় ছিল অসন্তুষ্টি। সেটা নিজের শটের কারণে নাকি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে, তা বোঝা কঠিন।

সেই ধাক্কা সেভাবে সামাল দিতে পারেনি ঢাকা। ব্যাটিংয়ে ভালো করার পর বল হাতে দুটি উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজওয়ান।

ঢাকার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব জমে গিয়েছিলেন উইকেটে। তবে আবু হাশিমের বাঁহাতি স্পিনে ৩৪ রানে ধরা পড়েন তিনি দ্বিতীয় স্লিপে।

৭৪ রানে ৬ উইকেট হারানো দলের হয়ে শেষ বিকেলে লড়াই করেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর ১ম ইনিংস: ১২৭ ওভারে ৩৪০ (আগের দিন ২২৯/৬) (রিজওয়ান ৭৫, আলাউদ্দিন ৩৭, হাশিম ২৭*, মেহেদি ০, স্বাধীন ১৩; সুমন ২২-৪-৯১-১, রিপন ১৯-৩-৪৬-০, এনামুল ১৯-৪-৪৩-২, আরিফ ৪০-৪-৯২-৪, তাইবুর ৯-১-১৯-০, আমিনুল ১৮-০-৪৫-২)।

ঢাকা ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১২০/৬ (নাঈম শেখ ০, আনিসুল ২০, শিবলি ৫, মার্শাল ৩৪, অঙ্কন ৭, তাইবুর ৩২*, আমিনুল ২, সুমন ১৯*; মেহেদি ৯-১-১৯-১, আলাউদ্দিন ৬-১-১৭-১, রিজওয়ান ৬-০-২৫-২, আল মামুন ৫-১-৯-০, স্বাধীন ১০-০-৩৮-১, হাশিম ৪-২-৩-১, মাহমুদুল ৪-২-৮-০)।

চট্টগ্রাম-রাজশাহী

চট্টগ্রামে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৬৪ রানে। চট্টগ্রাম দ্বিতীয় দিন শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯০ রান তুলে।

৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করে রাজশাহী। শাকির হোসেন ও সানজামুল ইসলামের জুটি থামে ৬৪ রানে। শাকির ফেরেন ৩৪ রানে। ৩৯ রানে থামেন সানজামুল।

এরপর লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে ৩৬০ পার করান নিহাদউজ্জামান (২৭*)।

চার উইকেট নেন চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ।

চট্টগ্রামের ইনিংসে জয় ও সাদিকুর শুরুটা করেন সাবধানে। প্রথম ১০ ওভারে রান ওঠে ২০। থিতু হওয়ার পর বেশ সাবলিল ব্যাটিংয়ে রান বাড়ান দুজন। জয়ের ফিফটি আসে ১০১ বলে, সাদিকুরের ৭০ বলে।

ফিফটির পর অবশ্য দারুণ গতিতে ছুটতে থাকেন জয়। পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন ৬৬ রানেই। এসএম মেহেরবের বলে দুই রান নিয়ে পৌঁছে যান তিনি শতরানে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫৬ ম্যাচে জয়ের সপ্তম সেঞ্চুরি এটি। এই ইনিংসের পথে পেরিয়ে যান এই সংস্করণে তিন হাজার রানও।

দিন শেষে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ১৭০ বলে ১০২ রানে অপরাজিত তিনি। ১২ চারে ১১৮ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত সাদিকুর।

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১১৫ ওভারে ৩৬৪ (আগের দিন ২৯০/৬) (শাকির ৩৪, সানজামুল ৩৯, নিহাদ ২৭*, ওয়ালিদ ৫, শফিকুল ০; ফাহাদ ৯-০-৫১-০, ইফরান ১৮-০-৬৫-১, মুরাদ ৩৭-৮-৯৬-৪, আশিক ১৯-২-৬৯-৩, আশরাফুল ২১-৪-৫৭-১, জয় ১১-৪-২২-১)।

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ৪৮ ওভারে ১৯০/০ (জয় ১০২*, সাদিকুর ৮৬*; শফিকুল ৮-২-২৩-০, ওয়ালিদ ১০-০-৪০-০, সানজামুল ১১-০-৪২-০, সাব্বির হোসেন ৩-০-১৬-০, নিহাদ ৬-০-২৮-০, মেহেরব ১০-০-৪১-০)।

খুলনা-বরিশাল

জাতীয় লিগে বরাবরই সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে পরিচিতি ছিল বরিশালের। এবারও প্রথম ম্যাচে দুই দিন শেষেই ইনিংস পরাজয়ের মুখে তারা।

কালাম সিদ্দিকির ৯২ ও মোহাম্মদ মিঠুনের ৮৯ রানে প্রথম দিনেই বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল খুলনা। দ্বিতীয় দিনে আর ৯৮ রান যোগ করে থামে তারা ৪২৬ রানে।

৪৪ রানে দিন শুরু করা আফিফ হোসেন বিদায় নেন ৫০ রান করেই। সামিউন বশির ও শেখ পারভেজ জীবন ভালো কিছুর আভাস দিয়েও বড় করতে পারেননি ইনিংস। শেষ জুটিতে দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৬ রান যোগ করেন দুই পেসার সফর আলি ও আব্দুল হালিম।

একটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন দশে নামা সফর। শেষ ব্যাটসম্যান আব্দুল হালিম করেন দুই ছক্কায় ২১্

হালিমকে বোল্ড করেই ৫ উইকেট পূর্ণ করেন রুয়েল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অষ্টমবার হলো তার এই অভিজ্ঞতা।

সফর ও হালিম পরে নিজেদের আসল কাজেও ছিলেন সফল। দুটি করে উইকেট নেন দুজন। তিনটি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান রানা ও শেখ পারভেজ জীবন। বরিশালের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৯৪ রানেই।

দলের প্রায় অর্ধেক রান এসেছে ইফতিখার হোসেন ইফতির ব্যাট থেকেই। ইনিংস শুরু করতে নেমে আউট হন তিনি ৪৪ রানে।

বরিশালের আট ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেনি দুঅঙ্ক, এর মধ্যে পাঁচজনই আউট হন শূন্যতে। শেষ চার উইকেটের পতন হয় এক রানের মধ্যে।

ফলো-অনে নেমে আবার জোড়া ধাক্কা খায় বরিশাল। প্রথম দুই ওভারেই সফর ফেরান জাওয়াদ আবরার ও ইফতিকে। রাফসান আল মাহমুদ ও সালমান হোসেন এ দিন আর বিপদ হতে দেননি। তবে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনও ২৮৯ রান প্রযোজন তাদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা ১ম ইনিংস: ১১৭.৫ ওভারে ৪২৬ (আগের দিন ৩২৮/৫) (আফিফ ৫০, সামিউন ২২, পারভেজ ১৭, মেহেদি রানা ৮, সফর ২৯*, হালিম ২১; রুয়েল ২৭.৫-২-৮০-৫, তৌহিদুল ১৩-১-৬১-০, শহিদুল ২০-৩-৫৮-১, তানভির ৩০-১-১১২-১, মইন ২১-২-৮২-২, ইফতি ৩-০-২২-১, জাওয়াদ ৩-০-১০-০)।

বরিশাল ১ম ইনিংস: ২৮.৪ ওভারে ৯৪ (জাওয়াদ ১২, ইফতি ৪৪, রাফসান ৯, সালমান ০, সিফাত ০, হাফিজুর ৯, মইন ৫, শহিদুল ১০, তানভির ০, রুয়েল ০*, তৌহিদুল ০, সফর ৯-০-৩৪-২, হালিম ৯-২-২২-২, মেহেদি রানা ৭-২-২৫-৩, পারভেজ ৩.৪-০-১০-৩)।

বরিশাল ২য় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ১৫ ওভারে ৪৩/২ (জাওয়াদ ০, ইফতি ১, রাফসান ২৬*, সালমান ১৩*; সফর ৪-১-১০-২, পারভেজ ৬-১-২২-০, মেহেদি রানা ৪-২-১০-০, সামিউন ১-১-০-০)।

সিলেট-ময়মনসিংহ

সিলেটে ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩১১ রানে। লিড নেওয়ায় চোখ রেখে সিলেট দ্বিতীয় দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ২৩৬ রানে।

৭ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ময়মনসিংহ। ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা আবু হায়দার আউট হন ৫৮ রানে। তিনশ পেরিয়ে খুব একটা এগোতে পারেনি দল।

সিলেটের পেসার তোফায়েল আহমেদ, অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ এবং অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ উইকেট নেন তিনটি করে।

সিলেট ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা করে বেশ আগ্রাসী। ৬ ওভারে ৩৯ রান তোলেন জাকির হাসান ও মুবিন আহমেদ দিশান।

সপ্তম ওভারে রিজান হোসেন আক্রমণে এসেই ভাঙেন এই জুটি। তিন চার ও এক ছক্কায় ১৯ রান করে আউট হন দিশান।

দুই অভিজ্ঞ জাকির ও সৈকত আলি দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৯ রান। পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ৪১ করে করে বিদায় নেন সৈকত।

এরপর জাকির ও অমিত হাসানের জুটি খুব একটা লম্বা হয়নি। বাংলাদেশ টেস্ট দলে জায়গা হারানো দুই ব্যাটসম্যানকে এক ওভারেই ফেরান আসাদুল্লাহ গালিব। ৬০ রানে ফেরেন অধিনায়ক জাকির, ১৯ রানে অমিত।

জোড়া ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেন আসাদুল্লাহ হিল গালিব। তিন ছক্কায় ৫৫ রান নিয়ে দিন শেষ করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৯৮ ওভারে ৩১১ (আগের দিন ২৭৩/৭) (আবু হায়দার ৫৮, রকিবুল ১৯, আজিজুল ১৫*, গালিব ৪*; তারেক ১৪-১-৪৭-০, অনিক ১০-১-৩৪-১, তোফায়েল ২১-৬-৪৬-৩, নাঈম ২১-১-৭৯-৩, নাবিল ২৯-০-১০০-৩, গালিব ৩-১-২-০)।

সিলেট ১ম ইনিংস: ৭৩ ওভারে ২৩৬/৫ (জাকির ৬০, দিশান ১৯, সৈকত ৪১, অমিত ১৯, গালিব ৫৫*, আশরাফুল ২৩, তোফায়েল ১১*; আবু হায়দার ৮-১-৪০-০, গালিব ১২-১-৪৮-২, রিজান ৪-০-১৭-১, আল আমিন ৩-০-১৪-০, রকিবুল ২৪-৪-৬২-০, আজিজুল ২১-৫-৪৯-২, আরিফুল ১-০-১-০)