নাইমের ফিফটি, মুরাদের ৫ উইকেট
এবারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক।
ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে দারুণ খেলছিলেন নাইম ইসলাম। চট্টগ্রামের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। এরপরই মনোযোগে ব্যাঘাত। অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ধরা পড়লেন উইকেটের পেছনে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সম্ভাবনাময় ইনিংসটাকে তিনি বড় করতে না পারলেও ঠিকই ৯৬ রানের লিড পায় রংপুর। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়েছে আকবর আলির দল।
দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রামের রান ৬ উইকেটে ১২৬। নিজেদের প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে গিয়েছিল এই ১২৬ রানেই। রংপুরের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ২২২ রান।
৪ উইকেট হাতে নিয়ে মাত্র ৩০ রানে এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম।
রংপুরের নাইম ছাড়া কেউই দাঁড়াতে পারেননি। তাদের ইনিংস অল্পতে আটকে দেওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা হাসান মুরাদের। আরও একবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। এবার তিনি ৪৬ রানে নিলেন ৫ উইকেট।
১৪৬ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছেন নাইম। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার ৪২তম ফিফটি। এর সঙ্গে রয়েছে ২৮টি সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসে ৯৬ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে ফের হতাশ করেন চট্টগ্রামের তারকা ব্যাটসম্যানরা। শূন্য রানে জীবন পেয়েও ৭ রানের বেশি করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। অন ড্রাইভ ও অফড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দারুণ শুরু করা তামিম ইকবাল ফেরেন ২১ রান করে। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন ১৯ রান।
ভালো কিছুর আশা জাগিয়ে ব্যক্তিগত ২২ রানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বলে লেগ বিফোর হন মুমিনুল হকও। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন ১৩।
শেষ বিকেলে পাল্টা আক্রমণ করেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দিনের খেলা শেষে ৪৮ বলে ৫০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১২৬
রংপুর ১ম ইনিংস: ৭৩.৪ ওভারে ২২২ (প্রথম দিন শেষে ৯৬/২) (জাহিদ ১৩, মামুন ৩১, তানবীর ২৯, নাইম ৫১, নাসির ১২, আকবর ১৫, আরিফুল ৭, সোহরাওয়ার্দি ১৬, আলাউদ্দিন ১০, মুকিদুল ১৫*, মুশফিক ১০; মেহেদি ১৫-৩-৫১-১, ইয়াসিন ১৯-৬-৫৮-৩, শরিফ ১৬-৫-৪৫-১, মুরাদ ১৬.৪-৫-৪৬-৫, নাইম হাসান ৭-৩-১৬-০)
চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: ৩৭ ওভারে ১২৬/৬ (তামিম ২১, মাহমুদুল ৭, সাব্বির ১৩, মুমিনুল ২২, ইরফান ৫০*, শামিম ৪, নাইম হাসান ১, মুরাদ ৩*; মুকিদুল ১০-৩-৩০-২, মুশফিক ৮-২-২৭-০, আলাউদ্দিন ৮-২-৩৬-২, মামুন ৮-২-১৯-১, আরিফুল ২-১-৯-০, নাসির ১-০-৩-০)
মুশফিক-ফরহাদের জুটিতে রাজশাহীর বড় লিড
দেড় মাস পর মাঠে ফিরেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া ফিফটি করেছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী, প্রীতম কুমার ও ফরহাদ রেজা। ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ১৯৯ রানের লিড পেয়েছে রাজশাহী।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৩৩ রান। প্রথম ইনিংসে ঢাকা মেট্রো অলআউট হয় ১৩৪ রানে।
২ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে খেলতে নেমে এদিন আর ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান যোগ করে রাজশাহী। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১৫তম সেঞ্চুরিতে ১০৮ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিক। ফরহাদ রেজা খেলছেন ৫৮ রান নিয়ে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ১০৫ রান।
এর আগে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান প্রীতমের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। প্রীতম আউট হন ৫১ রান করে। জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
ঢাকা মেট্রো ১ম ইনিংস: ১৩৪
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১২০ ওভারে ৩৩৩/৬ (প্রথম দিন শেষে ৭২/২) (জহুরুল ৩, জুনায়েদ ৫৩, ফরহাদ ২, তৌহিদ ৩৬, মুশফিক ১০৮*, প্রীতম ৫১, মেহেরব ২, ফরহাদ ৫৮*; আবু হায়দার ২০-৫-৪৬-১, গালিব ২১-২-৫৮-২, মানিক ১২-০-৩৯-০, শরিফউল্লাহ ৩৪-৪-৮০-১, রাকিবুল ৩১-৫-৯৫-১, শামসুর ২-০-২-০)
কক্সবাজারে একাই লড়ছেন নাহিদুল
কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতাশ করেছেন খুলনা বিভাগের তারকা ব্যাটসম্যানরা। তাদের ব্যর্থতার মিছিলে একাই লড়ছেন নাহিদুল ইসলাম। দিন শেষে ৮৮ রানে অপরাজিত তিনি।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে খুলনার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৯ রান। বরিশাল তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৪৮ রানে। ফলে এখনও ৭৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে খুলনা।
এনামুল হক বিজয় (১৩), ইমরুল কায়েস (২১), মোহাম্মদ মিঠুন (১৩), শেখ মেহেদি হাসানদের (০) মতো পরীক্ষিত ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে মাত্র ৭৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে খুলনা। একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন চার নম্বরে নামা নাহিদুল। দিন শেষে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৮১ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত আছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ১১০ ওভারে ২৪৮ (প্রথম দিন শেষে ২১০/৭) (রাফসান ৬, আশরাফুল ২, ফজলে রাব্বি ৬৩, সালমান ৭৯, মইন ২২, সোহাগ ৬, আবু সায়েম ১৪, কামরুল রাব্বি ৫, তানভির ১২, মনির ১৩, রুয়েল ১১*; আশিকুর ২১-৯-৪৫-২, জিয়াউর ৬-১-১৬-১, আব্দুল হালিম ১৪-২-৪৩-২, মৃত্যুঞ্জয় ১০-১-২৯-০, শেখ মেহেদি ২৫-১০-৪৫-৪, টিপু ২৫-৯-৩৯-১, নাহিদুল ৯-২-১৭-০)
খুলনা ১ম ইনিংস: ৬৮ ওভারে ১৬৯/৮ প্রান্তিক ০, এনামুল বিজয় ১৩, ইমরুল ২১, নাহিদুল ৮৮*, মিঠুন ১৩, শেখ মেহেদি ০, জিয়াউর ১৪, মৃত্যুঞ্জয় ১১, টিপু ০, আশিকুর ০*; কামরুল রাব্বি ১৩-৩-১৯-২, রুয়েল ১৪-৩-৪৫-১, তানভির ১৭-৪-৩২-২, সালমান ৩-০-১৪-০, মনির ১১-২-২৫-০, সোহাগ ১০-৪-২৫-২)
সমান তালে লড়ছে ঢাকা-সিলেট
বিকেএসপিতে চলছে স্পিনারদের দাপট। সিলেটের নাবিল সামাদের ৫ উইকেটের পর ঢাকার হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। খণ্ডকালীন স্পিনে তাইবুর পারভেজের শিকার ৩ উইকেট।
স্পিনারদের আধিপত্যে ঢাকা ও সিলেটের লড়াইও জমে উঠেছে। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ঢাকার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮৮ রান।
প্রথম ইনিংসে ঢাকা গুটিয়ে গিয়েছিল ১২৮ রানে। জবাবে সিলেট তাদের প্রথম ইনিংসে করতে পারে ১৬৭ রান।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সম্ভাবনাময় শুরুর পর ফিরে গেছেন ঢাকার দুই ওপেনার আব্দুল মজিদ (২৫) ও রনি তালুকদার (২০)। দিনের শেষ ভাগে ১৮.৪ ওভারে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সাইফ হাসান (১৭) ও রকিবুল হাসান (২৫)।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৯ রানে এগিয়ে আছে ঢাকা। হাতে আছে ৮ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
ঢাকা ১ম ইনিংস: ১২৮
সিলেট ১ম ইনিংস: ৭৬.১ ওভারে ১৬৭ (প্রথম দিন শেষে ৫৯/২) (ইমতিয়াজ ৯, তৌফিক ০, অমিত ৬৩, জাকির ৩২, জাকের আলি ৩২, আসাদুল্লা আল গালিব ৯, শাহানুর ৩, তানজিম ২৩, নাবিল ২, আবু জায়েদ ৭, খালেদ ০*; সুমন ১১-৪-২২-১, নাজমুল অপু ২৭.১-৭-৫৩-৪, এনামুল ৯-০-৩৩-০, শুভাগত ১৭-৫-৩৫-২, তাইবুর ১২-৫-১৫-৩)
ঢাকা ২য় ইনিংস: ৩৫ ওভারে ৮৮/২ (আব্দুল মজিদ ২৫, রনি ২০, সাইফ ১৭*, রকিবুল ২৫*; খালেদ ৬-২-২১-০, আবু জায়েদ ৫-১-১২-০, নাবিল ১৩-৩-২১-১, তানজিম ৭-১-১৯-১, শাহানুর ৪-১-১৫-০)
