১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

৫৬ বল ১২ চার ১৩ ছক্কা ১৪৫ রান, পুরান বললেন, ‘আমার প্রতিভা অবিশ্বাস্য’

‘সিক্স হিটিং মেশিন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের দাবি, ছক্কা মারার পরিকল্পনা তিনি করেন না।

৫৬ বল ১২ চার ১৩ ছক্কা ১৪৫ রান, পুরান বললেন, ‘আমার প্রতিভা অবিশ্বাস্য’
আইপিএলের শুরুটা দুর্দান্ত করেছেন নিকোলাস পুরান। ছবি: লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Mar 2025, 10:21 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:22 PM

‘সিক্স হিটিং মেশিন’ হিসেবে একটা পরিচিতি ছিল আগে থেকেই। এবারের আইপিএলের শুরুতে সে পরিচয়কে আরও জীবন্ত করে তুলেছেন নিকোলাস পুরান। প্রথম দুই ম্যাচেই ছক্কার তোপ দাগিয়ে খেলেছেন ম্যাচ জেতানো দুটি বিধ্বংসী ইনিংস। তবে এমন ব্যাটিংয়ের পরও তার দাবি, ছক্কা মারার পরিকল্পনা তার থাকে না। ব্যাট স্পিড নিয়েও নাকি বাড়তি কাজ করেন না। সহজাত প্রতিভাই তাকে এগিয়ে রাখে!

এবারের আইপিএলে নিলামের আগে পুরানকে ২১ কোটি রুপিতে ধরে রাখে লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস। গত আসরে ১৭৮ স্ট্রাইক রেটে প্রায় ৫০০ রান করেছিলেন তিনি, ছক্কা মেরেছিলেন ৩৬টি। তাকে ধরে রাখতে দল মরিয়া তো হবেই। এবারের আসরের শুরু থেকেই আবার সেই তাণ্ডব তিনি চালু করে দিয়েছেন।

লাক্ষ্নৌর প্রথম ম্যাচে ৩০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেদিন ২০৮ রান তুলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হেরে যায় তার দল। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মাঠে ১৯৪ রান তাড়ায় আবার বিস্ফোরক ইনিংস উপহার দেন তিনি। ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে এবার আসে ৬টি করে চার ও ছক্কায় ২৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস। এবার জয়ের দেখা পায় দল।

দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৫৬ বল খেলে তার রান ১৪৫। চার মেরেছেন ১২টি, ছক্বা ১৩টি। 

ক্রিজে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার ধুন্দুমার ব্যাটিং। একের পর এক বল আছড়ে পড়ে সীমানায়, আশ্রয় নেয় গ্যালারিতে। কখনও কখনও তার ব্যাটিং দেখলে মনে হয়, ছক্কা মারার চেয়ে সহজ কাজ আর নেই। 

তবে তার নিজের দাবি, ছক্কা মারার ছক সাজিয়ে তিনি ক্রিজে যান না।

“পরিকল্পনা করে ছক্কা মারি না। সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ভালো পজিশনে যেতে, এরপর যদি বল সেখানে পাই, চেষ্টা করি ভালো টাইমিং করতে। গত ৯ বছরে নিজের শিল্প নিয়ে কাজ করে চলেছি।”

“অবশ্যই এখন ব্যাটিং অর্ডারে ওপরের দিকে ব্যাট করার সুযোগ পাচ্ছি, পাওয়ার প্লেতে ব্যাট করতে পারছি। উইকেট যখন ভালো থাকে, ফায়দা নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ-আপ যখন হয়, নিজের স্কিল মেলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে।”

দুই ম্যাচে ১৩ ছক্কা মেরেছেন পুরান। ছবি: আইপিএল।

দুই ম্যাচে ১৩ ছক্কা মেরেছেন পুরান

পুরানের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার তার ব্যাট স্পিড। চাবুকের মতো ব্যাট চালিয়ে দেন তিনি পেস কিংবা স্পিনে। ২৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার বললেন, এটা তার সহজাত প্রতিভা। 

“নিজের ব্যাট স্পিড নিয়ে কখনও কাজ করিনি, স্রেফ অবিশ্বাস্য প্রতিভায় সৌভাগ্যশালী। তবে বছরের পর বছর ধরে যে ধরনের কাজ করে এসেছি, মাঠে সেসবের ফল পেয়ে এবং দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে।”

একটা সময় ছিল, পুরানকে দেখা যেত ফিনিশারের ভূমিকায়। কিংবা মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে। কিন্তু এখন তিনি নিয়মিতই ওপরের দিকে ব্যাট করছেন। লাক্ষ্নৌতে তিনি খেলছেন তিন নম্বরে। 

আরেক বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্তকেও তিনে খেলানোর একটা সম্ভাবনা ছিল। দলের অধিনায়কও তিনি। তবে দল বেছে নিয়েছে পুরানকেই এবং তার পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত পান্তও।

“ভাবনার মূল ব্যাপারটা ছিল, তাকে স্বাধীনতা দেওয়া। আমরা জানি, ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে সে। আমিও সেই স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারি। তবে কোনো একজনকে দায়িত্বটা দিতে হবে, ওপরের দিকে গিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারে যাতে। তাকেই সেই ভার দেওয়া হয়েছে এবং সে যেভাবে ব্যাট করছে, আমাদের জন্য তা অসাধারণ।”