Published : 08 Sep 2026, 11:41 PM
আগের তিন ম্যাচে প্রথম ওভারে বল হাতে পাননি হাসান মাহমুদ। এবার পেলেন এবং ঝলক দেখালেন। কাউন্টিতে প্রথমবার প্রথম ওভার করেই প্রথম দুই বলে উইকেট! দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পেসার পরে যোগ করলেন আরও দুই উইকেট। অভিষেকে ছাপ রাখলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদও। বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার প্রথমবার একসঙ্গে কাউন্টিতে খেলার দিনে আলো ছড়ালেন দুজনই।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দিনে চার উইকেট শিকার করেন হাসান। খালেদের প্রাপ্তি তিন উইকেট।
বিপর্যয় সামলে ডার্বিশায়ার অবশ্য প্রথম ইনিংসে রান তুলেছে ৩০০। সেটির মূল কৃতিত্ব মার্টিন অ্যান্ডারসনের। পাঁচে নেমে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
আগের ম্যাচে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে চারটিসহ ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। ইংল্যান্ডের এই ঐতিহ্যবাহী আসরে প্রথমবার খেলতে গিয়ে চার ম্যাচে তার উইকেট এখন ২৩টি।
ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ডার্বিশায়ারকে শুরুতেই জোড়া ধাাক্কায় নাড়িয়ে দেন হাসান। ম্যাচের প্রথম দুই ডেলিভারিতেই উইকেট আদায় করেন তিনি। অফ স্টাম্প ঘেঁষা বাড়তি লাফানো ডেলিভারিতে স্লিপে জ্যাক ক্রলির হাতে ধরা পড়েন হ্যারি কেইম। তিনে নামা ম্যাথু মন্টেগোমারি এলবিডব্লিউ হন তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে।
সেই ধাক্কা সামলে ডার্বিশায়ারকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তরুণ মুহাম্মেদ নাইম ও অভিজ্ঞ ওয়েন ম্যাডসেন। কিন্তু তাদেরকে জমে বসতে দেননি খালেদ। প্রথম পরিবর্ত বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে তৃতীয় ওভারে প্রথম কাউন্টি উইকেটের স্বাদ পান এই পেসার। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন নাইমকে (১২)।
অধিনায়ক ম্যাডসেন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ভালো কিছুর। কিন্তু তিনিও এলবিডব্লিউ খালেদের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে ১৭ হাজার রান করা ব্যাটসম্যান থামেন ২৯ রানে।
চার উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যাওয়া ডার্বিশায়ারের হয়ে পঞ্চম উইকেটে ৯১ রান যোগ করেন অ্যান্ডারসন ও লুইস রিস। ৩২ রান করা রিসকে বিদায় করেন একানশ সিং।
হাসানের তৃতীয় শিকার ব্রুক গেস্ট। চেনা পথেই ধরা দেয় তার সেই উইকেট। তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ ডার্বিশায়ারের কিপার-ব্যাটার।
পরের ওভারে বেন আচিসনকে যখন বোল্ড করলেন বার্টি ফোরম্যান, ডার্বিশায়ারের রান তখন ৭ উইকেটে ১৭২।
২০০ রানের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার মুখে থাকা দলকে ৩০০ রানে নিয়ে যান অ্যান্ডারসন। অষ্টম উইকেটে ব্রেট র্যান্ডালের সঙ্গে তার জুটি হয় ৮৪ রানের। র্যান্ডাল ফেরেন ২৯ রানে।
শেষ দুই জুটিতে আসে আরও ৪৪ রান।
দশে নামা জ্যাক মর্লি স্টাম্পে টেনে আনেন খালেদের ডেলিভারি। শেষ ব্যাটসম্যান শোয়েব বাশিরকে এলবিডব্লিউ করে ইনিংস শেষ করেন হাসান।
১৯০ বলে ১৫ চারে ১২৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান অ্যান্ডারসন।
১৫.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন হাসান। পুরোনো বলে বেশ রান খরচ করা খালেদের ৩ উইকেট আসে ৭৩ রানে।
কেন্ট দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১১ রান নিয়ে।