অ্যাশেজ
Published : 22 Dec 2025, 07:52 PM
কোনো কিছুতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথ খুঁজে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। তাসমান সাগর পারের দেশটিতে একটি টেস্ট জয়ের অপেক্ষা কেবল বেড়েই চলেছে তাদের। টানা এই ব্যর্থতার পেছনে ইংলিশ ক্রিকেটারদের সামর্থ্যের ঘাটতি দেখছেন না গ্লেন ম্যাকগ্রা। অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং গ্রেটের মতে, ইংল্যান্ডের সমস্যাটা মানসিক।
সবশেষ ২০১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর কেটে গেছে ১৫ বছর। কিন্তু ব্যর্থতার বৃত্ত আর ভাঙতে পারেনি ইংলিশরা। দেড় দশক আগের ওই সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর কোনো টেস্টই জিততে পারেনি তারা।
এবার অবশ্য অনেক স্বপ্ন আর আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইংল্যান্ড। অ্যাশেজের সেই বিখ্যাত ট্রফি ‘ছাইদানি’ নিয়ে ফিরবে দল, মাঠের লড়াই শুরুর আগে ইংলিশ ক্রিকেটে এমন আশার কথা শোনা যাচ্ছিল।
এবারের অস্ট্রেলিয়া দলকে ‘বুড়ো’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল ইংলিশ মিডিয়ায়। ইংলিশ পেস বোলিং গ্রেট স্টুয়ার্ট ব্রড তো বলেই দিয়েছিলেন, “গত ১৫ বছরের সবচেয়ে বাজে অস্ট্রেলিয়া দল এটি।”
অথচ সেই অস্ট্রেলিয়া দলই প্রথম তিন টেস্ট জিতে স্রেফ ১১ দিনে অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত করে ফেলেছে। সেটাও আবার প্রথম দুই টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ছাড়া, তৃতীয় টেস্টে স্টিভেন স্মিথকে ছাড়া, অভিজ্ঞ পেসার জশ হেইজেলউডকে কোনো টেস্টেই না পেয়ে।
অভিজ্ঞদের ছাড়া ইংল্যান্ডকে হারানোর জন্য অস্ট্রেলিয়া দলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন ম্যাকগ্রা। ইংলিশদের এমন টানা ব্যর্থতা যে বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি, সেটাও বিবিসি স্পোর্টে বলেছেন অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট।
“এই দেশে (অস্ট্রেলিয়ায়) ইংল্যান্ড দল এত লম্বা সময় ধরে কোনো টেস্ট জিততে পারছে না, এটা অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়ায় ইংলিশদের দীর্ঘ ব্যর্থতার কারণ তাদের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের ঘাটতি, এটা আমি বিশ্বাস করি না।”
“অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ দলের অংশ হওয়া ক্রিকেটারদের কথা ভাবুন। অ্যালেস্টার কুক, কেভিন পিটারসেন, জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, জফ্রা আর্চার। তালিকাটি আরও দীর্ঘ। জো রুট ও বেন স্টোকস বর্তমান দলের স্তম্ভ এবং তারা দুইজন ইংল্যান্ডের গ্রেট ক্রিকেটার, কিন্তু তারা কখনও এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) টেস্ট জেতেনি।”
১৫ বছরে ১৮ টেস্ট ধরে অস্ট্রেলিয়ায় জিততে পারছে না ইংল্যান্ড। যার মধ্যে ১৬টিই হেরেছে তারা। তবে এর জন্য ইংলিশ খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগই দেখেন না ম্যাকগ্রা। তার মতে, ইংল্যান্ড হেরে যাচ্ছে মানসিকতার কাছে।
“(ইংল্যান্ডের) দীর্ঘ এই জয়হীনতা যদি সামর্থ্যের জন্য না হয়, তাহলে এটা অবশ্যই মানসিকতার জন্য। প্রায়ই ইংলিশদের বলতে শুনি, অস্ট্রেলিয়ায় খেলা কতটা কঠিন। শুধু মাঠে যা ঘটে তার জন্য নয়, মাঠের বাইরের আবহের জন্যও।”
এবার অস্ট্রেলিয়ায় ব্যর্থতার জাল ছেঁড়ার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি ইংলিশদের। সিরিজে বাকি আরও দুটি টেস্ট। আগামী শুক্রবার মেলবোর্নে শুরু বক্সিং ডে টেস্ট। পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ সিডনিতে, শুরু ৪ জানুয়ারি।