২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইংলিস ও কেয়ারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ দিন

লিড নিয়ে কেপ টাউন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।

ইংলিস ও কেয়ারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ দিন

৮৫ রানে খেলছেন চোট কাটিয়ে ফেরা জশ ইংলিস। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 10:23 PM

Updated : 28 Oct 2026, 10:56 PM

ভালো শুরুর পর জোড়া ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাট রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিনের ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়াল তারা। পরে চমৎকার ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স কেয়ারি। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দারুণ একটি দিন কাটাল সফরকারীরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টে বুধবার এক রানের লিড নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৪ উইকেটে ৩৩০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা।

ওপেনিংয়ে ফিরে ১০ চারে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন রেনশ। একাদশে ফেরা ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে দুই ছক্কা ও আটটি চারে ৬৫। তৃতীয় উইকেটে ১২৬ রানের জুটি গড়েন তারা।

সেঞ্চুরির সুবাস নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন ইংলিস। দুটি ছক্কা ও ৯টি চারে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন চোট কাটিয়ে ফেরা এই কিপার-ব্যাটসম্যান। আরেক কিপার-ব্যাটসম্যান কেয়ারি খেলছেন চারটি চারে ৫১ রান করে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম দিন ৩২৯ রানে গুটিয়ে নতুন দিন ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ঘণ্টার কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করে দেন রেনশ ও ট্রাভিস হেড। এই সময়ে দুই ওপেনারের খুব একটা পরীক্ষা নিতে পারেননি স্বাগতিক পেসাররা।

ইনিংসে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই দলকে উল্লাসে মাতান সাইমন হার্মার। নিজের প্রথম ওভারে জোড়া শিকার ধরেন প্রোটিয়া অফ স্পিনার। ওভারের প্রথম বল স্টাম্পে টেনে আনেন হেড (৭ চারে ৪১)। তাতে ভাঙে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। শেষ ডেলিভারিতে শূন্য রানে স্লিপে ধরা পড়েন মার্নাস লাবুশেন।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলের হাল ধরেন রেনশ ও গ্রিন। প্রথম সেশনের বাকিটা কাটিয়ে দেন তারা। দুজনই ছিলেন সাবধানী, রেনশ কিছুটা বেশি।

দ্বিতীয় সেশনের তৃতীয় ওভারে স্লিপে গ্রিনের ক্যাচ নিয়ে উল্লাসে মাতেন হার্মার। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় বল সামান্য মাটি ছুঁয়ে জমা পড়েছে তার হাতে। ২২ রানে বেঁচে যাওয়া গ্রিন পরে রানের গতিতে দম দেন।

কাগিসো রাবাদার ওভারে টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন গ্রিন। এই পেসারের পরের ওভারে পরপর দুই বলে দুটি সিঙ্গল নিয়ে ফিফটি স্পর্শ করেন গ্রিন ও রেনশ। ৬৫ বলে আসে গ্রিনের পঞ্চাশ, রেনশর ১০১ বলে।

দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে তিন ওভারে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই হারায় অস্ট্রেলিয়া। মার্কো ইয়ানসেনের বলে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে রেনশকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইয়ানসের পরের ওভারে স্লিপে ধরা পড়েন গ্রিন।

রেনশর উইকেটটি ছিল টেস্টে ইয়ানসেনের শততম শিকার। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার ও অলরাউন্ডার হওয়ার দিন এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।

এরপর শুরু ইংলিস ও কেয়ারির জুটির পথচলা। খুবই সাবধানী ছিলেন কেয়ারি, প্রথম বাউন্ডারি পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ৪০ বল। আরেক প্রান্তে ইংলিসও রান বাড়ান ধিরলয়ে।

দিনের শেষ ঘণ্টায় দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন তিনি। টানা চার ওভারে বাউন্ডারি মারেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাতে কেয়ারির আগে পঞ্চাশে পৌঁছে যান ইংলিস, ৭৬ বলে।

ফিফটির পর আরও অনেকটি বাউন্ডারি হাঁকান ইংলিস। ৮৯তম ওভারে কুটসিয়াকে চার মেরে ফিফটিতে পা রাখেন কেয়ারিও, ১২৫ বলে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিন শেষে)

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৩২৯

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৩০/৪ (রেনশ ৭৪, হেড ৪১, লাবুশেন ০, গ্রিন ৬৫, ইংলিস ৮৫*, কেয়ারি ৫১*; রাবাদা ১৮-১-৮১-০, ইয়ানসেন ১৪-৪-৩৭-২, কুটসিয়া ১৪-৩-৫৪-০, মুল্ডার ১৪-০-৪৭-০, হার্মার ২৭-৪-৮৪-২, মার্করাম ৩-০-১৪-০)