Published : 07 Feb 2026, 10:13 PM
প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে শুরু, দ্বিতীয় ওভারে পতন আরও দুই উইকেটের। ১০ ওভারে শেষে রান রেট কোনোরকমে ওভারপ্রতি চার। সেই ধাক্কা সামলে পরের ১০ ওভারে দুরন্ত একাদশ তুলল একশর বেশি রান। তার পরও খুব হৃষ্টপুষ্ট হলো না পুঁজি। বোলিংয়েও তারা গড়তে পারল না চ্যালেঞ্জ। অনায়াসেই তাদেরকে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলল দুর্বার একাদশ।
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে দুরন্ত একাদশকে ৭ উইকেটে হারাল দুর্বার একাদশ। দুই ম্যাচের দুটিই জিতে ফাইনালে উঠল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সোমবারের ফাইনালে শান্তদের প্রতিপক্ষ লিটন কুমার দাসের ধূমকেতু একাদশ। দুই ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল আকবর আলির নেতৃত্বে উঠতি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দুরন্ত একাদশ।
প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে শনিবার পেস-স্পিনের যুগলবন্দিতে দুরন্তকে ১৪৫ রানে আটকে রাখে দুর্বার। ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ২টি হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত বোলিং করেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামও।
রান তাড়ায় ঝড়ে বেগে শুরু করে দুর্বার ম্যাচ জিতে যায় ১৫ বল বাকি রেখে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দুরন্ত বিপদে পড়ে যায় শুরু থেকেই। প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদকে উড়িয়ে মেরে সীমানায় ধরা পড়েন জিসান আলম (০)।
পরের ওভারেই খালেদের জোড়া ধাক্কায় আরও বিপাকে পড়ে যায় তারা। জাওয়াদ আবরার একটি ছক্কা মারেন চোখধাঁধানো শটে। পরের বলেই আরেকটির চেষ্টায় আউট হয়ে যান তিনি সীমানায় আফিফ হোসেনের দারুণ ডাইভিং ক্যাচে। ওভারের শেষ বলে বাজে শটে উইকেট হারান আজিজুল হাকিম তামিম।
প্রথম ২ ওভারে ৩ উইকেট হারানো দল পরের ওভারে ৬ ওভারে আর উইকেট হারায়নি। তবে রানও খুব বেশি তুলতে পারেননি। ৮ ওভার শেষে রান ছিল ৩১।
ওপেন করতে নেমে ধুঁকতে ধুঁকতে টিকে থেকে শেষ পর্যন্ত খালেদের শর্ট বলে বাজে শটে আউট হন মাহফিজুর ইসলাম রবিন (২২ বলে ৮)।
৩২ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে টেনে নেন আরিফুল ইসলাম ও এসএম মেহেরব হোসেন। পঞ্চম উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন দুজন।
সাইফ উদ্দিনকে স্লগ করে দারুণ একটি ছক্কা মারার পর সোজা ব্যাটে আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় আউট হন আরিফুল (৩২ বলে ৪১)। সীমানায় চমৎকার ক্যাচ নেন তানভির ইসলাম।
মেহেরব খেলছিলেন দারুণ। তার সম্ভাবনায় ইনিংস শেষ হয় খালেদের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে। তিন ছক্কায় করেন তিনি ২৩ বলে ৩৬।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন শেষ দিকের দাবি মেটাতে পারেননি (১২ বলে ১০*)। তবে আব্দুল গাফফার সাকলাইন দুই ছক্কায় ৯ বলে করেন ১৮। তার পরও দেড়শ ছুঁতে পারেনি দল।

দুর্বারের রান তাড়ার শুরুটাও হয় তাদের নামের মতোই। দ্বিতীয় ওভারে ইকবাল হোসেন ইমনকে দুটি চার একটি ছক্কা মারেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর তাণ্ডব শুরু করেন হাবিবুর রহমান সোহান। এবারের বিপিএলে চরম ব্যর্থ ব্যাটসম্যান অবশেষে জ্বলে ওঠেন এখানে। টানা দুই ওভারে দুটি করে ছক্কা মারেন তিনি নাহিদ রানা ও রিপন মন্ডলকে। উড়িয়ে মারেন রকিবুল হাসানের স্পিনও।
সাকলাইনের বলেও ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়ে শেষ হয় তার ঝড় (১৭ বলে ৩৯)। পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তুলে ফেলে দুর্বার।
সাকলাইনের পরের ওভারে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান শান্ত। তবে রান তাড়ায় কোনো সমস্যা হয়নি দলের। জয় ও সোহান দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান অনায়াসেই।
৫১ বলে ৫৮ রান করে জয়ের দুয়ারে গিয়ে আউট হন জয়। আগের দিনের নায়ক নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ২৮ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দুরন্ত একাদশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ (মাহফিজুল ৮, জিসান ০, জাওয়াদ ৬, আজিজুল ০, আরিফুল ৪১, মেহেরব ৩৬, আকবর ১৩, মাহিদুল ১০*, সাকলাইন ১৮*, রকিবুল ৫, রিপন ১; হাসান ৩.৫-১-২৭-২, খালেদ ৪-০-২৩-৪, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, আলিস ৪-০-১৪-১, তানভির ২-০-২৩-০, মিরাজ ২-০-২৪-০)।
দুর্বার একাদশ: ১৭.৩ ওভারে ১৪৯/৩ (জয় ৫৮, হাবিবুর ৩৯, শান্ত ৫, সোহান ২৪*, আফিফ ১১*; নাহিদ ৩-০-৩৫-০, রিপন ২-০-৩১-০, ইকবাল ১-০-১৭-০, রকিবুল ৪-০-১৭-০, সাকলাইন ৩.৩-০-২৩-৩, মেহেরব ৩-০-১৯-০, আজিজুল ১-০-৭-০ )।
ফল: দুর্বার একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: সৈয়দ খালেদ আহমেদ।