১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপে বাবরদের প্রতি রমিজের বার্তা, ‘ শিরোপা জিততেই হবে’

দলের হার মানতেই পারেন না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Sep 2022, 07:57 PM

Updated : 25 Sep 2022, 09:06 PM

দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান থমকে গিয়েছিল সেমি-ফাইনালে। এবারের আসরে আর দলকে খালি হাতে ফিরতে দেখতে চান না দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। বাবর-রিজওয়ানদের কাছে তার চাওয়া, যেকোনো মূল্যে জিততে হবে বিশ্বকাপের ট্রফি।

অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘২'-এ পাকিস্তানের সঙ্গী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সঙ্গে দুটি দল আসবে প্রথম পর্ব পেরিয়ে।

গত আসরেও পাকিস্তানের গ্রুপে ছিল ভারত। প্রতিবেশী দলটিকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে স্বপ্নের শুরু পেয়েছিল বাবর আজমের দল। সুপার সিক্সের পরের ম্যাচগুলোও যেভাবে খেলেছিল তারা, তাতে পাকিস্তানকে ভালোভাবেই রাখা হচ্ছিল শিরোপার দাবিদার হিসেবে।

তবে শেষ চারে রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে শেষ সময়ের দারুণ ঝলকে পাকিস্তানকে বিদায় করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। পরে চ্যাম্পিয়নও হয় তারা। 

আরেকটি বিশ্বকাপ যখন কড়া নাড়ছে দরজায়, তখন পাকিস্তানের স্বপ্ন পূরণের প্রধান দুই কান্ডারি ধরা হচ্ছে অধিনায়ক বাবর ও কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। টি-টোয়েন্টিতে এই দুজনের ওপেনিং জুটি এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরা ওপেনিং জুটির একটি।

ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ৭ টি-টোয়েন্টির সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আরেকবার নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেন তারা। ২০০ রানের তাড়ায় তারা অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন ১০ উইকেটে। শতক হাঁকান বাবর, ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন রিজওয়ান।

সঙ্গে রয়েছে বৈচিত্রময় বোলিং আক্রমণ। সব মিলিয়ে ফেভারিটদের কাতারেই থাকবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তবে দুর্ভাবনার জায়গাও আছে। বাবর ও রিজওয়ানের জুটির রানের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে মাঝেমধ্যেই। দলটির ‘ভঙ্গুর’ মিডল অর্ডার নিয়েও আছে দুশ্চিন্তা। উদ্বোধনী জুটি ব্যর্থ হলে ব্যাটিং লাইনআপের বাকিটা ভেঙে পড়তে দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকবার। সবশেষ এশিয়া কাপ ফাইনালই যার বড় প্রমাণ; সেদিন বাবর শুরুতেই ফেরার পর আর কেউ রিজওয়ানকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেনি।

শ্রীলঙ্কার ১৭০ রান তাড়ায় ১৪৭ রানে থমকে যায় তাদের ইনিংস। রিজওয়ান ৫৫ রান করলেও বল খেলেন ৪৯টি। টি-টোয়েন্টিতে তার স্টাইক রেট নিয়ে আছে প্রশ্ন।

তবে উত্তরসূরীদের ওপর আস্থা রেখে ভক্তদের মতো স্বপ্ন বুনছেন রমিজও। জিও টিভিকে রোববার সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, সফলতা মানে তার কাছে কেবল শিরোপা জয়।

“আমি আমার দলকে বলেছি যে আমাদের (শিরোপা) জিততেই হবে। বিষয়টা খুব সহজ, কারণ মানুষ আমাদের সবসময় জিততে দেখতে চায়। তাই, তারা হেরে গেলে আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমি হারতে অপছন্দ করি।”

“পাকিস্তানকে হারতে দেখলে আমার চারপাশের লোকজনকে মারতে ইচ্ছা করে। দর্শক হিসেবে আমি আসলে ভালো নই। (দল হারলে) আমি সবার প্রতি রূঢ় আচরণ করি, এ কারণে বাড়িতে আমাকে বকা শুনতেও হয়।”

রমিজ আশাবাদী, বিশ্বসেরার মঞ্চে শিরোপা জিতে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে তার দল।

“এটিই একমাত্র খেলা, যা দেশের মানুষের মুখে হাসি ফেরায়। জাতির মনোবল বাড়িয়ে দেয় এটা।”