Published : 07 Jun 2026, 05:59 PM
ম্যাচের ফল একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় আগেই। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতার। সেটি সারতে চতুর্থ দিন বেশি সময় নিল না ইংল্যান্ড। লর্ডস টেস্টে নিউ জিল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বেন স্টোকসের দল।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় ১১৫ রানে।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই ব্যাটিংয়ের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল উইকেট। শেষ ইনিংসে ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রোববার নিউ জিল্যান্ড যেতে পারে ১৩৮ পর্যন্ত।
ম্যাচে খেলা হয়েছে কেবল ৯৯৬ বল। দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কোনো ম্যাচে যা তৃতীয় সর্বনিম্ন, যেখানে উভয় দল নিজেদের দুই ইনিংসে অলআউট হয়েছে।
১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার হেডিংলি টেস্ট শেষ হয়েছিল ৯৭৬ বলে এবং ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার লর্ডস টেস্ট টিকেছিল ৭৯২ বল।
দ্বিতীয় ইনিংসে স্রেফ ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার গাস অ্যাটকিনসন। ম্যাচে এই পেসারের শিকার ৭ উইকেট।
দুই বছর পর টেস্টে ফিরে ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন অলি রবিনসনও। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ৩২ বছর বয়সী এই পেসার।
বৃষ্টির কারণে তৃতীয় দিনে খেলা হতে পেরেছিল কেবল ৯.৪ ওভার। ৫ উইকেটে ৫৫ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করে নিউ জিল্যান্ড।
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই টম ব্লান্ডেলকে এলবিডব্লিউ করে দেন জশ টং। তার পরের ওভারে ফিরতে পারতেন আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান ডেভন কনওয়েও, কিন্তু স্লিপে ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক।
জীবন পেয়ে সপ্তম উইকেটে গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৩ রানের জুটি গড়েন কনওয়ে। এই ওপেনারকে (৯১ বলে ৪১) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বেন স্টোকস। গালিতে দারুণ ক্যাচ নেন জ্যাকব বেথেল।
অ্যাটকিনসন পরপর দুই ওভারে বিদায় করে দেন ন্যাথান স্মিথ ও কাইল জেমিসনকে। পরে ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি ম্যাচের ইতিও টেনে দেন তিনি।
টেস্টে অ্যাটকিনসন পাঁচ উইকেট পেলেন এই নিয়ে পাঁচবার, যার চারটিই লর্ডসে।
৫২ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত রয়ে যান ফিলিপস।
আগামী ১৭ জুন সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ওভালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৪০
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১১৩
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২২৬
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৫৪) ৪০.৩ ওভারে ১৩৮ (আগের দিন ৫৫/৫) (কনওয়ে ৪১, ব্লান্ডেল ৪, ফিলিপস ৪৪*, স্মিথ ৪, জেমিসন ৬, হেনরি ০; আটকিনসন ১১.৩-৩-৩০-৫, রবিনসন ১৩-২-৩৮-২, টং ১৩-২-৪৮-২, স্টোকস ৩-০-১২-১)
ফল: ইংল্যান্ড ১১৫ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ইংল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: অলি রবিনসন