উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপ
Published : 16 Oct 2025, 09:21 PM
অন্যদের ব্যর্থতার মাঝে সোবহানা মোস্তারির ফিফটিতে দুইশর কাছাকাছি পুঁজি পেল বাংলাদেশ। কিন্তু বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারল না নিগার সুলতানার দল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করলেন অ্যালিসা হিলি। বিশাল জয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া।
উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয় ১০ উইকেটে। ভিশাখাপাত্নামে বৃহস্পতিবার ১৯৯ রানের লক্ষ্য ২৪.৫ ওভারেই পেরিয়ে যায় হিলির দল।
এই সংস্করণে কোনো উইকেট না হারিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও অস্ট্রেলিয়ার। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৮ রানের লক্ষ্য ১০ উইকেট আর ৮৫ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলেছিল তারা।
আসরে এখনও অপরাজিত অস্ট্রেলিয়া পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আট দলের তালিকায় শীর্ষে আছে। জয়ে শুরুর পর টানা চতুর্থ হারের তেতো স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট নিয়ে আছে ছয় নম্বরে।
একই মাঠে চার দিন আগে ভারতের বিপক্ষে তিনশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় ১০৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংস খেলা হিলি এবার করেছেন ৭৭ বলে ১১৩। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের ইনিংসটি গড়া ২০টি চারে।
প্রথম ব্যাটার হিসেবে উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভিন্ন দুই আসরে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। ২০২২ আসরে টানা দুই ম্যাচে করেছিলেন ১২৯ ও ১৭০।
১৯৯৭ আসরে এই স্বাদ পেয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ডেবি হকলি। এই দুজন ছাড়া বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি নেই আর কারো।
বিশ্বকাপে হিলির ৪টির চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার-ব্রান্টের, ৫টি।
হিলি এদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৭৩ বলে, বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০১৭ আসরে দ্রুততম ৭১ বলে সেঞ্চুরি করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেন্ড্রা ডটিন।
হিলির সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২০২ রানের জুটিতে ফিবি লিচফিল্ড করেন ৭২ বলে ৮৪। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় দুইশ ছোঁয়া জুটি এটি।
ম্যাচের সেরা অবশ্য হিলি নন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১০ ওভারে চার মেডেনে স্রেফ ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে পুরস্কারটি জেতেন লেগ স্পিনার অ্যালানা কিং।
নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যরাও। তাদের সামনে রানের জন্য হাপিত্যেশ করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। সোবহানা সর্বোচ্চ ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ৮০ বলে ৯টি চারের সাহায্যে। আসরে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি। এছাড়া ওপেনার রুবাইয়া হায়দারের ৫৯ বলে ৪৪ ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করার মতো কিছু করতে পারেননি।
একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ফারজানা হক ম্যাচের প্রথম বলে বাউন্ডারিতে শুরু করলেও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি (২৪ বলে ৮)।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়েন রুবাইয়া ও শারমিন আক্তার। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।
মিড-অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রুবাইয়া। অ্যাশলি গার্ডনারের বলে একইভাবে আউট হন শারমিনও (৩৩ বলে ১৯)।
বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় দৃষ্টিকটুভাবে স্টাম্পড হন অধিনায়ক নিগার (৩৫ বলে ১২)। আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা স্বর্ণা আক্তার এবার ৭ রান করতে খেলেন ২৪ বল। রিতু মনির দ্রুত বিদায়ে দলের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১৩১।
ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খানও তেমন কিছু করতে পারেননি। একপর্যায়ে ১৬৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ ১৯৮ পর্যন্ত যেতে পারে দশম উইকেটে সোবহানা ও ফারিহা তৃষ্ণার ২৫ বলে ৩৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ এটি। দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতে পারলেন এই প্রথম।
মারুফা আক্তারকে বিশ্রাম দেওয়া বাংলাদেশ বোলিংয়ের শুরুটা করে তৃষ্ণার মেডেন দিয়ে। এরপর বাংলাদেশের বোলারদের এলোমেলো করে দেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। তৃষ্ণার একই ওভারে তিনটি চার মেরে ডানা মেলেন হিলি। পাওয়ার প্লেতে অস্ট্রেলিয়া করে ৭৮।
৪৩ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন হিলি, লিচফিল্ডের ফিফটি করতে লাগে ৪৬ বল। ৬৭ রানে হিলিকে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল একটি, কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলেন ফারজানা। ৯৯ থেকে এক রান নিয়ে সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।
পরের তিন বলে তিনি মারেন তিনটি চার। পরের ওভারে লিচফিল্ডের টানা দুই বাউন্ডারিতে ম্যাচের সমাপ্তি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ১৯৮/৯ (ফারজানা ৮, রুবাইয়া ৪৪, শারমিন ১৯, নিগার ১২, সোবহানা ৬৬, স্বর্ণা ৭, রিতু ২, ফাহিমা ৪, রাবেয়া ৬, নিশিতা ১, তৃষ্ণা ১*; শুট ৫-১-১১-১, ব্রাউন ৯-০-৫২-০, গার্ডনার ৯-০-৪৮-২, সাদারল্যান্ড ১০-০-৪১-২, কিং ১০-৪-১৮-২, ওয়্যারহ্যাম ৭-১-২২-২)
অস্ট্রেলিয়া: ২৪.৫ ওভারে ২০২/০ (হিলি ১১৩*, লিচফিল্ড ৮৪*; তৃষ্ণা ৫.৫-১-৪৭-০, নিশিতা ৪-০-২৪-০, রাবেয়া ৪-০-৩৪-০, রিতু ৭-০-৫৪-০, ফাহিমা ২-০-২৪-০, স্বর্ণা ২-০-১৯-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: অ্যালানা কিং