দলের চাওয়ায় ‘বিব্রতকর’ কাজটিই করে যেতে চান রিজওয়ান

টি-টোয়েন্টিতে ওপেনারদের কাছ থেকে অনেকে বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখতে চাইলেও পাকিস্তানি এই ক্রিকেটারের ভাবনায় থাকে শুধু দলীয় পরিকল্পনা।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 01:13 PM
Updated : 22 Jan 2023, 01:13 PM

ধুমধাড়াক্কা সংস্করণের ক্রিকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে প্রায়ই থাকে উল্টো সুর। স্প্রিন্ট নয়, তিনি ছুটতে থাকেন দূরপাল্লার দৌড়ের গতিতে। উত্তাল ঢেউয়ের সাগরেও তিনি অনেক সময় নিস্তরঙ্গ। এমন নয় যে তাকে এই রূপে দেখে স্তুতির জোয়ার বয়ে যায়। বরং সমালোচনার তির ছুটে আসে। রিজওয়ানের তবু আপত্তি নেই। দলের প্রয়োজনকে আপন করে নিয়েই তৃপ্তি তার।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সবশেষ ম্যাচে চট্টগ্রামে গোটা ২০ ওভার ক্রিজে থেকে রিজওয়ানের রান ছিল ৪৭ বলে অপরাজিত ৫৫। সেদিন ১০ ওভার শেষে তার রান ছিল ২৩ বলে ২০। 

আগের ম্যাচে যখন এক প্রান্তে ঝড় তুলছেন লিটন দাস, রিজওয়ান তখন আউট হন ১৮ বলে ১৫ রান করে। একই চিত্র ছিল এর আগের ম্যাচেও। পাওয়ার প্লেতে ঝড় তুলে লিটন আউট হন ২২ বলে ৪০ রান করে। কিন্তু রিজওয়ানের রান ৮ ওভার শেষে ছিল ১৯ বলে ১৬। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৫ বলে করেন ৩৭ রান। 

শুধু বিপিএলে নয়, রিজওয়ানকে এই ভূমিকায় দেখা যায় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়েও। শুরুতে অনেকটা সময় নিয়ে পরে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তার এই ধরনের ব্যাটিং নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়ে আসছে। কখনও কখনও দলকে ভুগতেও হয়েছে। তবে অনেক সময়ই কার্যকর হয়েছে এই ব্যাটিং। 

“এটা খুব কঠিন ভূমিকা। কখনও কখনও এটাকে খুব বিব্রতকর মনে হয়। তবে নিজের কাজটা আমি জানি। দল আমার কাছে যা চায়, সেটাই করতে চাই আমি। কোচ, অধিনায়ক, মালিকপক্ষ ও পুরো কুমিল্লা দলে সবাই আমার পারফরম্যান্সে খুশি। এমন একজনকে তারা চায়, যে গোটা দলের ‘অ্যাংকর’ হবে।” 

“পাকিস্তান দলে যেমন, তেমনি সব জায়গায়, যে কোনো দলে খেলি না কেন, তাদের চাওয়া পূরণ করতে চাই। আমি সবসময় কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করি, প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করি এবং সবকিছু ভেবে নিজের কাজটা করি। কখনও কখনও এটা বিব্রতকর। কারণ টি-টোয়েন্টিতে সবাই চার-ছক্কা ভালোবাসে, ৩৫-৪০ বলে ৬০-৭০ রান দেখতে চায়। কিন্তু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচ জেতা এবং আমার পারফরম্যান্স যেন দলের জয়ে কাজে লাগে।”

দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট এবি ডি ভিলিয়ার্সকে এক্ষেত্রে আদর্শ মানেন রিজওয়ান। তার মতো করেই পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলার চেষ্টা করেন বলে জানালেন পাকিস্তানের এই কিপার-ব্যাটসম্যান। 

“আমি চেষ্টা করি স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দলের চাওয়া পূরণ করার। ক্রিকেটে আমার আদর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্স, তাকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করি। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে যেমন পারফর্ম করেছেন, তেমনি টি-টোয়েন্টিতেও। আমিও সেটাই চেষ্টা করি।” 

“টি-টোয়েন্টিতেও কখনও কখনও দলের চাওয়া থাকে ধীরগতির ব্যাট করা। কারণ প্রতিপক্ষ উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের মোমেন্টাম নষ্ট করা যায় ধীরে ব্যাট করে। আবার দলের যখন চাওয়া থাকে দ্রুত খেলা, তেমন সেই মোমেন্টামও ধরে রাখতে হয়। এভাবেই পর্যালোচনা করে খেলার চেষ্টা করি আমি। বেশির ভাগ সময়ই সফল হই।”

শুরুতে মন্থর খেলে পরে পুষিয়ে দেওয়ার কাজটি অবশ্য সহজ নয়। পাওয়ার প্লে শেষে দ্রুত রান তোলাও অনেক সময় কঠিন। রিজওয়ান আবার মাঝের ওভারগুলোর ব্যাটিংয়ের ধারাপাত খুব ভালোভাবে জানেন। তবে কীভাবে তিনি দিনের পর দিন এই কাজটি করে আসছেন, তা খোলাসা করতে চাইলেন না। 

“এটা তো গোপন ব্যাপার। ৭ থেকে ১৫ ওভার নিয়ে পরিকল্পনা আছে আমাদের। তবে তা রহস্যই রাখতে চাই, নইলে তো কেউ আটকানোর পরিকল্পনা করে ফেলবে।” 

রিজওয়ানের নিজের ভাবনাজুড়ে কেবল দলের পরিকল্পনাতে অটুট থাকাই। বাইরের লোকে কে কী বলল, সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটার।

“মস্তিষ্ক আছেই ব্যবহার করার জন্য, অন্য কিছুর জন্য নয়। আমিও কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। কখনও ধরে খেলতে হয়, কখনও চালিয়ে খেলতে হয়। এসব মাথা থেকেই আসে। ম্যাচ খেলতে নামার পর সব দর্শক, সব মিডিয়া, গোটা দুনিয়া তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে। অনেক সময়ই সবকিছু ঠিকঠাক হয় না। তবে দলের চাওয়াই আমাকে শক্তিশালী করে তোলে।” 

“দলের চাওয়ার প্রতি সৎ থাকতে পারাই আসল। লোকে কী বলছে, তাতে কিছু যায়-আসে না। দলের চাওয়ার প্রতি সৎ থেকে চেষ্টা করে গেলেই আল্লাহ সম্মান দেন। আমি সবসময় এটাই করার চেষ্টা করি।” 

বিপিএলে সোমবার রিজওয়ানরা খেলবে ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক