Published : 15 Nov 2025, 06:38 PM
সেই ২০১৪ সালের এপ্রিলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম শতরানের স্বাদ পেয়েছিলেন সানজামুল হক। ১১৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে সেটিই ছিল তার একমাত্র সেঞ্চুরি। তখনও তিনি জাতীয় দলের ধারেকাছেও ছিলেন না। পরে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টেস্ট খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে ছিটকে গেছেন আবার। এতটা পথ পেরিয়ে অবশেষে আরেকটি শতরানের দেখা পেলেন ৩৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
আগের সেই সেঞ্চুরিটি সানজামুল করেছিলেন আট নম্বরে নেমে। এমনিতে মিডর অর্ডার বা লোয়ার মিডর অর্ডারেই তাকে দেখা যায় বেশি। টপ অর্ডারে সুযোগ তেমন পান না। তবে এবারের সেঞ্চুরি করলেন তিনি তিন নম্বরে নেমে।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনে ঢাকা বিভাগের প্রথম ৯ উইকেটে ২৭৫ রান তুলেছে রাজশাহী বিভাগ। সানজামুল আউট হন ১১২ রানে।
রাজশাহীতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিক দল পাঁচ ওভারের মধ্যে হারায় দুই ওপেনারকে। এবারের আসরে প্রথম খেলতে নেমে তানজিদ হাসান ফেরেন ৭ রানে। ১৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হন আরেক ওপেনার সাব্বির।
চতুর্থ ওভারে ক্রিজে গিয়ে সানজামুল এক প্রান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে আউট হন ৬৯তম ওভারে।
মাঝে সঙ্গী তেমন কাউকে পাননি তিনি। তানজিদের মতোই এবারে লিগে প্রথম খেলতে নেমে তাওহিদ হৃদয় ৩২।
একমাত্র উল্লেখযোগ্য জুটি ছিল সানজামুলের সঙ্গে সাব্বির রহমানের ৭০ রান। আগের তিন ম্যাচের ছয় ইনিংসে স্রেফ একটি ফিফটি করা সাব্বির এবার করতে পারেন ৫৭ বলে ৪৭।
১৬৭ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন সানজামুল। শেষ বেলায় তিনি বোল্ড হন সালাউদ্দিন সাকিলের বলে।
একটু পরই দিনের খেলা শেষ হয় আলোকস্বল্পতায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস: ৭২.৪ ওভারে ২৭৫/৯ (সাব্বির হোসেন ১৭, তানজিদ ৭, সানজামুল ১১২, প্রিতম ৯, হৃদয় ৩২, সাব্বির রহমান ৪৭, শাকির ৯, ওয়ালিদ ১, নিহাদ ১৭, ওয়াসি ১৮, রহিম ৯*; এনামুল ১৩-১-৭১-১, সাকিল ১৩.৪-১-৪৮-৩, নাজমুল অপু ১৫-১-৫০-০, আনিসুল ৪-০-১০-১, আশরাফুল ২৩-৫-৭৩-৪, তাইবুর ৪-০-৯-০)।
রবিউলের ৫ উইকেট
আগের রাউন্ডে ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স মেলে ধরেছিলেন রবিউল হক। এবার প্রথম দিনে জ্বলে উঠলেন বল হাতে। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো শিকার করেন তিনি ৫ উইকেট।
বগুড়ায় এ দিন লড়াই ছিল মূলত রংপুর বিভাগের দুই পেসার রবিউল ও মুকিদুল ইসলামের সঙ্গে বরিশাল বিভাগের ফজলেন মাহমুদের। বরিশালের হয়ে বলতে গেলে একাই লড়াই করে ৮০ রান করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। রবিউল ৫ উইকেট নেন ২৫ রানে, মুকিদুল ৪৬ রানে ৩টি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশাল দুই ওপেনার জাহিদউজ্জামান ও ইফতেখার হোসেন ইফতিকে হারায় দ্রুতই। তৃতীয় উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়েন ফজলে মাহমুদ ও সালমান হোসেন। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি ও সেঞ্চুরি করা সালমান আউট হন ২৭ রানে।
পরের সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে কেবল তাসামুল হক (১৬) ও শামসুল ইসলাম (২৩) স্পর্শ করেন দুই অঙ্ক। স্রোতের বিপরীতে দারুণ খেলে ১০ চারে ১৩৩ বলে ৮০ রান করেন ফজলে মাহমুদ।
এক বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে নেমে সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে তিন ওভার বোলিং করে একটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন।
রংপুর বিভাগের শুরুটাও ভালো হয়নি ব্যাটিংয়ে। দুই ওপেনারকে দ্রুত হারানোর পর নবিন ইসলাম ও অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম পার করে দেন দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ৫২.৪ ওভারে ১৯০ (জাহিদ ৪, ইফতি ৯, ফজলে মাহমুদ ৮০, সালমান ২৭, শামসুর ৫, তাসামুল ১৬, মইন ০, শামসুল ২৩, রুয়েল ৯, তানভির ৬*, ইয়াসিন ০; রবিউল ১১.৪-৫-২৫-৫, মুকিদুল ১১-২-৪৬-৩, মেহেদি ১০-১-৩১-০, আল মামুন ৮-০-৩৮-০, নবিন ৮-০-২৮-১, নাসির ১-০৬-০, রিশাদ ৩-০-১০-১)।
রংপুর বিভাগ ১ম ইনিংস: ২০ ওভারে ৪৩/২ (আল মামুন ১২, জাভেদ ২, নবিন ২১*, নাঈম ৬*; ইয়াসিন ৮-২-২০-১, রুয়েল ৮-৩-১৭-১, সালমান ২-১-৪-০, ইফতি ২-১-১-০)।
আইচ-শুভাগতর ফিফটি
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ৯০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে ময়মনসিংহ বিভাগ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ময়মনসিংহ শুরুটা ভালো করতে পারেনি। ফর্মে থাকা দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন আউট হন প্রথম ছয় ওভারেই।
পরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে করেন ৩৬ রান। বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি অভিজ্ঞ আব্দুল মজিদও।
১০৬ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধার করেন আইচ মোল্লা ও শুভাগত হোম। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৬ রান যোগ করেন দুজন।
৬৫ করে আউট হন আইচ, অধিনায়ক শুভাগত করেন ৫৪। এই দুজনকে ফেরানোসহ তিন উইকেট নেন ফর্মে থাকা নাঈম হাসান।
ময়মনসিংহ প্রতিরোধ গড়ে তোলে লোয়ার অর্ডারেও। ২১৩ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর নবম জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের দারুণ জুটি গড়েন আরিফ আহমেদ ও মারুফ মৃধা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ বিভাগ ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ২৭১/৮ (মাহফিজুল ১০, নাঈম শেখ ৩, আজিজুল ৩৬, মজিদ ১৭, আইচ ৬৫, আল আমিন ৪, শুভাগত ৫৪, তাহজিবুল ৭, আরিফ ৩৬*, মারুফ ২২*; ইফরান ১৩-০-৬০-২, ফাহাদ ৬-০-২০-১, রুবেল ১৬-১-৫৭-১, নাঈম ৩৪-১১-৭৭-৩, আশরাফুল ২১-৪-৪৯-১)।