Published : 05 Aug 2026, 09:11 PM
নিজের তিন ওভারের দুটিতে প্রথম বলে ছক্কা ও অন্যটিতে চার হজম করলেন সাকিব আল হাসান। গোটা ম্যাচের প্রতীকী চিত্র বলা যায় এটিকে। দুই দলের ব্যাটসম্যানরা করল রান উৎসব। গল গ্যালান্টসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল জাফনা কিংস।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে বুধবার সাকিবদের দলের জয় ১৪ রানে।
ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৪৭০। ২০ ওভারে জাফনা করে শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সর্বোচ্চ ২৪২ রান, ২ উইকেট হারিয়ে। জবাবে ২২৮ পর্যন্ত যেতে পারে গল।
তিন ওভারে ৩৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন সাকিব।
ম্যাচের প্রথমভাগে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার তাওহিদ হৃদয়। চার নম্বরে নেমে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
জাফনার হয়ে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার কামিল মিশারা। ১০ চার ও সাত ছক্কায় ৫৫ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে পাকিস্তানের খাওয়াজা নাফে তিন ছক্কা ও চারটি চারে ৩২ বলে করেন ৫৪।
গলের কেউ পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। ২১ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ওপেনার স্যাম হার্পার। চামিকা কারুনারাত্নে ২১ বলে ৩৯, অধিনায়ক দাসুন শানাকা ১৯ বলে ৩৪ রান করেন।
চার ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সফলতম বোলার জাফনার পেসার মোহামেদ শিরাজ।
প্রথম ওভারেই টমাস রজার্সকে ফিরিয়ে দেন শিরাজ। সাকিব প্রথম বোলিং পান চতুর্থ ওভারে। বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডারের প্রথম বলে ছক্কা মারেন চারিথ আসালাঙ্কা, পরে দুটি চার মারেন হার্পার। এই ওভারে আসে ১৭ রান।
পরপর দুই ওভারে আসালাঙ্কা ও হার্পারকে ফিরিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লিজাড উইলিয়ামস।
সাকিবকে বোলিংয়ে ফেরানো হয় দ্বাদশ ওভারে। এবার তার প্রথম বলে চার মারেন শানাকা, পঞ্চম বলে বাউন্ডারি আসে কারুনারাত্নের ব্যাট থেকে। এই ওভারে সাকিবের খরচ ১১ রান।
তার পরের ওভারে প্রথম বলে ছক্কা মারেন শানাকা। তৃতীয় বলে মেলে উইকেটের দেখা। তবে সেখানে বোলারের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব ফিল্ডারের। শর্ট বলে কাট করেন ব্যাটসম্যান কারুনারাত্নে। ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে অনেক উঁচুতে লাফিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে দুই হাতে বল মুঠোয় জমান ভানুকা রাজাপাকসা।
এই ওভারে আর কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি সাকিব, রান আসে মোট ৮।
শেষ ওভারে গলের প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান। বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগেকে সাচিন্দু কলম্বাগের দুটি করে ছক্কা ও চারে আসে ২৩ রান।
এ দিন মিশারা সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মূলত হৃদয়ের শেষের ঝড়ো ব্যাটিং। ১৯তম ওভারে দুটি ছক্কা, শেষ ওভারে দুটি করে ছক্কা ও চার মারেন তিনি। বিশেষ করে, ইনিংসের শেষ তিন বলে তিনি করেন ১৪ রান, জয়ের ব্যবধানও তাই।
এই ম্যাচে হারলেও গলের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। এলিমিনেটরে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা।