Published : 28 Oct 2025, 06:23 PM
দুই ম্যাচের মাঝে বিরতি কেবল একদিন। প্রথম ম্যাচের বিজয়ী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এদিন অনুশীলন করলেও, পুরোপুরি বিশ্রামে বাংলাদেশ দল। হয়তো এটাই তাদের বেশি প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের। সবার কাঠগড়ায় যে তারাই। দায়িত্ব নিতে পারেননি প্রথম টি-টোয়েন্টিতে, দেখাতে পারেননি লড়াইয়ের সংকল্প। পরের দুই ম্যাচে তাদের দল হিসেবে খেলার পরামর্শ দিলেন দুই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে স্বাগতিক অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বলেছিলেন, চ্যালেঞ্জের মুখে কেমন করেন সতীর্থরা, দেখতে চান তিনি। প্রথম পরীক্ষায় অধিনায়কসহ প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের কেউই উতরাতে পারেননি।
তাদের উদ্দেশ্যে বাশার ও আশরাফুল বললেন, জয়ের পথে হাঁটতে হলে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রান করার মূল দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটসম্যানদেরই।
১৬৬ রানের লক্ষ্য খুব কঠিন ছিল, এমনটা মনে করেন না হাবিবুল। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের হেড অব অপারেশন্সের দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই অধিনায়ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, প্রথম ম্যাচে হার মূলত শুরুর ব্যাটিং ব্যর্থতায়।
‘‘উইকেট ভালোই ছিল। আমার মনে হয়েছে, ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো ছিল। ওদের টপ অর্ডারও শুরুতে একটু সংগ্রাম করেছে, কিন্তু পরে ওরা সেটা সামলে ভালো জুটি গড়ে ফেলেছে। আমার কাছে বাংলাদেশের ব্যর্থতা মোটা দাগে টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতাই।’’
‘‘আমরা খারাপ খেলিনি, কিন্তু খুব ভালোও খেলতে পারিনি। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে যদি বেশি উইকেট পড়ে, সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা সব দলের জন্যই কঠিন। আমার মনে হয়, পাওয়ার প্লেতে দুইয়ের বেশি উইকেট না হারানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুইয়ের বেশি পড়লে ফেরাটা সত্যিই কঠিন হয়ে যায়- এটাই টি-টোয়েন্টির বাস্তবতা।’’
টি–টোয়েন্টিতে চলতি বছর ভালো সময় কাটছে বাংলাদেশের। এক বছরে নিজেদের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড তারা এরই মধ্যে গড়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার আগে জিতেছে টানা চারটি টি–টোয়েন্টি সিরিজ। তবে এসব জয়ের মধ্যেও দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। হাবিবুলের চাওয়া, সব দুর্বলতা কাটিয়ে বিশ্বকাপে যাক দল।
‘‘লিটনরা চেয়েছিল চ্যালেঞ্জ নিতে। এখন সেই চ্যালেঞ্জটা সামনে। এটা উতরেই সিরিজে ফিরতে হবে। তবে চ্যালেঞ্জ জিততে গিয়ে যেন আমরা আবার নিজেদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না করি, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্যা, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানে যেতে হবে।’’
প্রথম ম্যাচে শেষ দিকে বাংলাদেশের শেষ চার জুটি থেকে ৪৬ বলে ৭২ রান আসে- হাবিবুলের মতে, এটাই পুরোনো সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত। আগে লোয়ার অর্ডার ব্যাট করতে না পারলে সাফল্য মিলত না। এখন বোলাররাও রান করে ম্যাচে ভূমিকা রাখতে পারছেন।
‘‘টেলএন্ডাররা আগে রান তাড়ায় সাহায্য করতে পারত না। আমরা এই জায়গায় অনেকদিন পিছিয়ে ছিলাম। এখন অন্তত উন্নতি হয়েছে- এটা বড় পরিবর্তন। টপ অর্ডার যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো করে, বাংলাদেশের জন্য সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হবে।’’
‘‘বাংলাদেশ যে দুটি টি–টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে, দুটিতেই মূল ক্ষতি হয়েছে টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে, আর সেই চাপ সামলাতে না পারলেই ম্যাচ ঠেকে যায়। ওপরে ধারাবাহিক ব্যর্থ খেলোয়াড়দের সুযোগ পেতে থাকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তাই এই জায়গায় উন্নতি না এলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিই ধাক্কা খাবে।’’
হাবিবুলের মতো বাংলাদেশের আরেক সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলও বলছেন, টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে জুটি গড়তে হবে। লিটন দাসের মতো তিনিও সমালোচনা করেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান শামীম হোসেনের।
‘‘প্রথম ম্যাচে তানজিম (হাসান), নাসুম (আহমেদ), (তাওহিদ) হৃদয় ভালো কিছু ক্যাচে আউট হয়েছে। ওরা ভালো খেলছিল। দলে শামীমের একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। কিন্তু গত ম্যাচে যেভাবে সে আউট হয়েছে, এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমার মনে হয়, আমাদের সবারই বিশেষ করে মিডল অর্ডার ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বেশি ধৈর্য্য নিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে হবে। নয়তো এমন পরিস্থিতি বারবারই আসবে সামনে। আমরা তখন ম্যাচও হারব। তবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াবে।’’