অ্যাশেজ
Published : 28 Dec 2025, 08:11 PM
সতীর্থের চোটে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের পরিচয়ই যেন বদলে ফেলেছেন ট্রাভিস হেড। টেস্টের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এখন হয়ে গেছেন ওপেনার। সামনেও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ওপেনিংয়েই খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার।
চলমান অ্যাশেজে এখন পর্যন্ত হওয়া চার টেস্টেই ওপেন করেছেন হেড, ৮ ইনিংসের সাতটিতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এই পজিশনে নিজের জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন তিনি। যার চোটে ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েছেন হেড, একাদশে ফেরার পর সেই উসমান খাওয়াজাকে পাঁচে খেলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে অবশ্য দেশের হয়ে ওপেনিংয়েই খেলে থাকেন হেড। কিন্তু টেস্টে তার বেশিরভাগ রান ও সেঞ্চুরি পাঁচ নম্বরে। এবারের অ্যাশেজ শুরুর আগেও তাকে নিয়ে সেই পরিকল্পনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার।
কিন্তু সিরিজের প্রথম টেস্টেই বদলাতে হয় তাদের ভাবনা। পার্থে পিঠের জড়তার কারণে ইনিংস শুরু করতে পারেননি মূল ওপেনার খাওয়াজা। প্রথম ইনিংসে ওপেন করতে নেমে ভালো করতে পারেননি মার্নাস লাবুশেন। পরে রান তাড়ায় বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরিতে দলকে স্মরণীয় এক জয় এনে দেন হেড।
এরপর থেকে জ্যাক ওয়েদেরল্ডের সঙ্গে ওপেন করছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দলকে ভালো শুরুও এনে দিচ্ছেন তিনি। অ্যাডিলেইডে তৃতীয় টেস্টে ১৭০ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন হেড। ম্যাচটি ৮২ রানে জিতে অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
মেলবোর্নে দুই দিনে হেরে যাওয়া ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ৪৬ রান আসে হেডের ব্যাট থেকেই। সিরিজেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তারা, ৪৩৭। তিনশ রানও করতে পারেননি আর কেউ।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হেড রোববার বললেন, ওপেনিংয়ে ব্যাটিং উপভোগ করছেন তিনি।
“ওপেনিংয়ে খেলতে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, (এই পজিশনে) ভালোমতো মানিয়ে নিয়েছি আমি। নানাভাবে দলে অবদান রাখতে পারা আনন্দের।”
এবারের অ্যাশেজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন ওয়েদেরল্ড। এখনও আহামরি কিছু করতে না পারলেও, সামর্থ্যের কিছু ঝলক দেখিয়েছেন এরই মধ্যে। ব্রিজবেনে গোলাপি বলের টেস্টে তিনি খেলেছেন ৭২ রানের ইনিংস। ৮ ইনিংসে করেছেন ১৪৬ রান।
৩১ বছর বয়সী ওয়েদেরল্ডকে সামনের ম্যাচেও ওপেনিংয়ে নিজের সঙ্গী হিসেবে দেখতে চান হেড।
“আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য সে যথেষ্ট ভালো। আমার দৃষ্টিতে, নিজের প্রথম চার টেস্টে সে সামর্থ্যের অনেক ঝলক দেখিয়েছে।”
সিডনিতে আগামী রোববার শুরু ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম ও শেষ টেস্ট।