আভিশেক-ঝড়ের পর আর্শদিপের দারুণ বোলিংয়ে ইন্ডিজকে হারাল ভারত
সাদা বলের এই সিরিজে ছয় ম্যাচে এই প্রথম আগে ব্যাটিং করে জিততে পারল কোনো দল।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। আভিশেক শার্মার তাণ্ডবে শক্ত ভিত পাওয়ার পর ছোট্ট একটি ধস, তাতে প্রত্যাশিত সংগ্রহ পেল না ভারত। তবে দারুণ বোলিংয়ে সেটিকে যথেষ্ট করে তুললেন বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে আরেকবার এগিয়ে গেল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।
৪৩২ রানের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয় ১৪ রানে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে তারা।
সাদা বলের এই সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই প্রথম আগে ব্যাটিং করে জিততে পারল কোনো দল।
ইন্দোরে রোববার নবম ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল ভারত। সেখান থেকে শেষ বলে অলআউট হয় তারা ২২৩ রানে।
জবাবে ২০৯ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ছয় চার ও পাঁচ ছক্কায় ৩০ বলে ৬৯ রান করেন ওপেনার আভিশেক। তিন নম্বরে ১৮ বলে ৩৭ রান করেন ইশান কিষান। ভারতের আর কেউ ত্রিশ ছুঁতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার ব্যাটসম্যান ত্রিশ ছাড়াতে পারলেও কেউ পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। তাই জয়ও ধরা দেয়নি।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা শেই হোপকে শুরুতেই থামানোর পাশাপাশি, ১৮তম ওভারে স্রেফ ৮ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন আর্শদিপ সিং। ব্যাটিংয়ে একটি ছক্কায় ১১ রানের পর, ৪৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২৭ বছর বয়সি এই পেসার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই স্যাঞ্জু স্যামসনকে হারায় ভারত। প্রথম ম্যাচে ৮২ রান করা কিপার-ব্যাটসম্যান এবার থামেন ৩ রানে।
প্রথম দুই ওভারে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি ভারত। এই সংস্করণে ৭৬ ম্যাচ পর এমন অভিজ্ঞতা হলো তাদের।
এরপর ঝড় তোলেন আভিশেক ও কিষান। প্রথম দুই ওভারে ১১ রান করা ভারত পাওয়ার প্লের পরের চার ওভারে করে ৭৬!
৩৭ রানে পৌঁছে এই সংস্করণে বলের হিসাবে দ্রুততম দুই হাজার রানের রেকর্ড গড়েন আভিশেক। ফিফটি করেন তিনি স্রেফ ১৮ বলে।
রস্টন চেইসকে ছক্কার পরের বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন কিষান। থামে ৪০ বলে ১০৮ রানের বিস্ফোরক জুটি। ভারতের ধসের শুরুও সেখানে।
একই ওভারে বিদায় নেন শ্রেয়াস আইয়ার। পরের ওভারে আভিশেককে নিজের ফিরতি ক্যাচে থামান শামার স্প্রিঙ্গার। টিকতে পারেননি নামান ধীর।
নবম ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ থেকে একাদশ ওভারে ভারতের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৩৫।
সেখান থেকে তিলাক ভার্মা ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম খেলতে নামা নিতিশ কুমার রেড্ডি ৩৪ রানের একটা জুটি গড়েন। ১৪ বলে ২১ রান করে ফেরেন নিতিশ। দৃষ্টিকটুভাবে রান আউট হন তিলাক (১৬ বলে ২৮)। আকসারও রান আউটে কাটা পড়েন ২০ রান করে।
পেসার প্রিন্স ইয়াদাভের তিনটি চারে শেষ ওভারে আসে ১৩ রান, ম্যাচের প্রেক্ষাপটে সেটিই হয়ে ওঠে মহামূল্য।
রাতের শিশিরের প্রভাব ছিল এই ম্যাচে খুব একটা ছিল না, যা ভারতীয় বোলারদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হোপকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে বড় ধাক্কা দেন আর্শদিপ। আগের ম্যাচে ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অপরাজিত বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে দলকে জেতানো ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক এবার ফেরেন ৫ রানে।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ার যোগ করেন ৬০ রান। কিন্তু দুই থিতু ব্যাটসম্যানই আউট হন চল্লিশের ঘরে এবং দুজনকেই ফেরান নামান ধীর। পুরান ২৭ বলে ৪২ ও হেটমায়ার ২৬ বলে ৪৩ রান করেন।
এই দুজনের মাঝে রভম্যান পাওয়েলকে দ্রুত বিদায় করেন আকসার প্যাটেল।
আগের ম্যাচে সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে ৮৪ রানের টর্নেডো ইনিংসে দলের জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা শেরফেন রাদারফোর্ড ক্রিজে থাকা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশাও টিকে ছিল। তবে ১৮তম ওভারে দুর্দান্ত ইয়র্কারে রাদারফোর্ডের (২০ বলে ৩২) স্টাম্প উপড়ে ফেলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন আর্শদিপ। চার বছর পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা কিমো পলকেও ওই ওভারে ফেরান তিনি।
আকসারের করা শেষ ওভারে শামার স্প্রিঙ্গার তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও তা যথেষ্ট হয়নি।
আগামী বুধবার চতুর্থ ম্যাচ হবে হায়দরাবাদে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২২৩ (স্যামসন ৩, আভিশেক ৬৯, কিষান ৩৭, শ্রেয়াস ১, তিলাক ২৮, নামান ১০, নিতিশ ২১, আকসার ২০, আর্শদিপ ১১, প্রিন্স ১৩*, মায়াঙ্ক ০; চেইস ৪-০-৩৮-২, শামার ৪-০-৫৪-২, পল ৪-০-৩৮-১, স্পিঙ্গার ৪-০-৫০-২, মোটি ৪-০-৩৭-১)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২০৯/৭ (হোপ ৫, পুরান ৪২, হেটমায়ার ৪৩, পাওয়েল ৫, রাদারফোর্ড ৩২, স্যাম্পসন ২১, পল ১০, স্প্রিঙ্গার ৩৫*, চেইস ৫*; মায়াঙ্ক ৪-০-৩৪-০, আর্শদিপ ৪-০-৪৪-৩, প্রিন্স ৪-০-৩৭-০, নামান ৩-০-৩৯-২, আকসার ৩-০-৩৩-১, নিতিশ ২-০-১৯-১)
ফল: ভারত ১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথম তিনটির পর ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: আর্শদিপ সিং
